
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব আর টেকসই নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্প্যানিশ লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। তার অভিযোগ, ইনফান্তিনোর বিভিন্ন পরিকল্পনা ফুটবলের মূল ভিত্তি, বিশেষ করে জাতীয় লিগগুলোর অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তনের পাশাপাশি ফুটবলের পুরো ব্যবস্থায় সংস্কারেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ফরাসি সংবাদপত্র লে মোঁদ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেবাস সরাসরি বলেছেন, ইনফান্তিনো যুগ শেষ। তার মতে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণে এখন পরিবর্তন আনার সময় এসেছে।
ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব তেবাস। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বিক্রি নিয়ে বিতর্ক সামনে আসারও আগে তিনি ফিফা সভাপতির পদত্যাগ দাবি করেছিলেন।
তেবাস বলেন, আমার কাছে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সময় অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। আমি সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর কারণে এটা বলছি না। তার নেতৃত্বের ধরন আমি অনেক দিন ধরেই লক্ষ করছি। যদিও অন্যরা এখন বিষয়টি আবিষ্কার করছে।
লা লিগা সভাপতি আরও বলেন, জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফুটবলের বিকাশে অবদান রাখছেন না। বরং তার প্রকল্পগুলো ফুটবলের মূল ভিত্তি, জাতীয় লিগগুলোকে ধ্বংস করছে।
তেবাসের মতে, ফুটবল কেবল অভিজাতদের নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয় নয়। তাই একজনের পরিবর্তে আরেকজনকে বসানোর মধ্যেই সমাধান খোঁজা উচিত নয়। প্রয়োজন পুরো ব্যবস্থার সংস্কার।
তিনি বলেন, ফুটবল শুধু অভিজাতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমার কাছে ইনফান্তিনো যুগ শেষ। এখন শুধু দেখার বিষয়, সেটি কবে কার্যকর হবে এবং উত্তরসূরি কীভাবে নির্ধারিত হবে। আমি আশা করি, শুধু একজনের জায়গায় আরেকজনকে বসানো হবে না, বরং প্রকৃত সংস্কার হবে।
ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ইউরোপের ফুটবল কর্মকর্তাদের সমালোচনাও সাম্প্রতিক সময়ে জোরালো হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী এই সুইস কর্মকর্তাকে ফিফা সভাপতির পদ থেকে সরাতে ইউরোপের বেশ কয়েকটি ফুটবল সংস্থা অবস্থান নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নরওয়ের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছে। পাশাপাশি কয়েকটি ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা ইনফান্তিনোর পরবর্তী মেয়াদের পক্ষে দেওয়া সমর্থনপত্র প্রত্যাহার করেছে। উয়েফার মধ্যেও বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্বে ইনফান্তিনোর থাকা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তেবাসের সর্বশেষ মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরটিভি/এসকে




