
অক্টোবরে বাংলাদেশে এসে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে ব্রাজিলকে আতিথেয়তা দিতে হলে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে)। আর এই ব্যয় মেটাতে সরকারের দ্বারস্থ হওয়ার আভাস দিয়েছিলেন কতৃপক্ষরা।
তবে তাদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছেন বাংলাদেশ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রাজিল সফর নিয়ে সরকার কোনো অর্থ ব্যয়ের মানসিকতায় নেই।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বক্সিং ফেডারেশনে কোচে-স ট্রেনিংয়ের সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এই কথা বলেন তিনি।
আমিনুল হক বলেন, এক কথায় উত্তর দিলে এই মুহূর্তে আমরা সরকারে পক্ষ থেকে...এ ধরনের অর্থ ব্যয় করে...যেহেতু আপনারা জানেন...বিদ্যুৎ-জ্বালানি বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে আমাদের অনেক বেশি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে একটি ম্যাচকে উপলক্ষ করে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের ব্যয় করার মতো মানসিকতা আমাদের ভেতরে নেই।
তিনি বলেন, বাফুফের সঙ্গে যেহেতু কথা হয়েছে (ব্রাজিল প্রতিনিধিদলের), তারা যদি বিভিন্ন স্পনসর এনে সেটাকে পরিপূর্ণতা দিতে পারে, তাহলে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করব।
অতীতে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল বাংলাদেশে এসেছিল। শতাব্দীর সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি খেলেছিলেন ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে। আর্জেন্টিনার পাশাপাশি নাইজেরিয়া ফুটবল দলকেও আতিথেয়তা দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ারই খেলেছিল। সেবারও বিরাট অঙ্ক খরচ করেছিল সরকার।
কিন্তু পরবর্তীতে প্রশ্ন উঠে, আর্জেন্টিনাকে আতিথেয়তা দিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল কী পেয়েছিল? এবারও একই প্রশ্ন উঠছে, ব্রাজিল বাংলাদেশে এলে বাংলাদেশের ফুটবলে কী লাভ?
এ বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যেটা বিশ্বাস করি, ব্রাজিল টিম যদি বাংলাদেশে আসে, এসে যদি আবার বাংলাদেশ টিমের সঙ্গে খেলে, তাহলে সেটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় অ্যাচিভমেন্ট। কিন্তু আমার বাংলাদেশের ফুটবল কতটুকু এগোবে এর মাধ্যমে, এটা নিয়ে আমি খুব বেশি আশাবাদী নই এ কারণে, ম্যাচ হবে, হয়তোবা বাংলাদেশ ব্রাজিলের সঙ্গে খেলবে, মানুষের যে প্রত্যাশা...সেটা হয়তোবা পূরণ হবে।
তিনি আরও বলেন, দর্শকেরা হয়তোবা একটু আনন্দিত হবেন, কিন্তু ব্রাজিল টিম খেলে গেলে যে বাংলাদেশের ফুটবলে পরিবর্তন আসবে—এ বিষয়ের সঙ্গে আমি একমত নই।
প্রসঙ্গত, কলকাতায় ৩ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা। এরপর ৬ অক্টোবর ঢাকায় ম্যাচ খেলতে আগ্রহ ব্রাজিলের। ইতোমধ্যে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের একটি প্রতিনিধি দল গত রোববার ঢাকায় এসে জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে। মাঠ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ঘাস, ড্রেসিংরুম, গ্যালারি ও মিডিয়া বক্স ঘুরে দেখে দলটি।
নিজেদের কিছু বিষয়ে ইনপুট দিলেও মাঠ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপরই বাংলাদেশে এসে ম্যাচ খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করে তারা। বাংলাদেশ যদি সত্যিই ব্রাজিলকে আতিথেয়তা দিতে চায় তাহলে বিশাল অঙ্ক খরচ করতে হবে। সেই অঙ্কটা অনেকটাই আকাশ ছোঁয়ার মতোই।
আরটিভি/এসআর


