ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সের চমক

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত

এনামুল হকের চার উইকেট ও আবু জায়েদ রাহির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স।

ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ভারতকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ১৪১ রান সংগ্রহ করা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ভারতকে আটকে দেয় নির্ধারিত লক্ষ্যের আগেই। বল হাতে এনামুল হক জুনিয়রের চার উইকেট এবং আবু জায়েদ রাহির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জয় নিশ্চিত করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান ভারতের অধিনায়ক যুবরাজ সিং। ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওভারেই আসে ৩০ রান। তবে তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই ৬ বলে ১০ রান করা ইমরুল কায়েসের বিদায়ে ছন্দপতন ঘটে টাইগারদের ইনিংসে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।

একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট হাতে লড়াই চালিয়ে যান রনি তালুকদার। ২৫ বলে ৪০ রানের ঝলমলে ইনিংস খেললেও সতীর্থদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি তিনি। ফজলে মাহমুদ রাব্বি, জহুরুল ইসলাম ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। রনির বিদায়ের পর আরও চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

সেই চাপ সামাল দেওয়ার দায়িত্ব নেন নাসির হোসেন ও আরাফাত সানি। অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে ২১ বলে ২৪ রান করেন নাসির। তার হিসেবি ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায় বাংলাদেশ। পীযূষ চাওলার বলে নাসির ফিরলেও দলের সংগ্রহ বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যান আরাফাত সানি। শেষ দিকে ৩৮ বলে ৩৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেন তিনি।

নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ভারতের হয়ে পীযূষ চাওলা তিনটি এবং পবন নেগি ও ঋষি ধাওয়ান দুটি করে উইকেট নেন।

১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। দলীয় চার রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন অম্বতি রায়ডু। এরপর স্টুয়ার্ট বিনি ও অধিনায়ক যুবরাজ সিংয়ের বিদায়ে আরও চাপে পড়ে ভারতীয়রা। দ্রুত উইকেট হারাতে থাকা দলটি ৫৫ রান পূর্ণ করার আগেই হারায় রবিন উথাপ্পা ও ইউসুফ পাঠানকে।

ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে একের পর এক আঘাত হেনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ। তবে ঋষি ধাওয়ানের ১৮ বলে ২৪ রানের ইনিংসে কিছুটা লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে ভারত। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে সেই প্রতিরোধ ভেঙে দেন এনামুল হক জুনিয়র। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে চাপে পড়ে ভারতীয় ব্যাটাররা।

অন্যদিকে ইরফান পাঠান ৪১ বলে ২৪ রান করলেও দলের জয়ের পথ সহজ করতে পারেননি। তবে শেষ দিকে পবন নেগি ও পীযূষ চাওলার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে। অল্প রানের লক্ষ্য নিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করতে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয় বাংলাদেশকে।

চাপের মুহূর্তে অভিজ্ঞতার প্রমাণ দেন পেসার আবু জায়েদ রাহি। ডেথ ওভারে তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ভারতীয়দের ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল ভারতকে হারিয়ে দারুণ এক জয় উদ্‌যাপন করে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স।

এনামুল হক জুনিয়রের চার উইকেট ও রাহির কার্যকর বোলিংয়ে পাওয়া এই জয় বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সের জন্য নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রেকর্ড গড়েও সিরিজ জিততে পারল না বাংলাদেশ
প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। কিন্তু সুবিধা করতে পেরে টানা দুই হারে সিরিজ হাতছাড়া সফরকারীদের।
রেকর্ড গড়েও সিরিজ জিততে পারল না বাংলাদেশ
হ্যাটট্রিক করে যেসব কীর্তি গড়লেন হাসান মাহমুদ
চলমান আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিনের শুরুতে ২৪০ রানে অলআউট হয়েছে আফগানিস্তান। এদিন দারুণ এক হ্যাটট্রিক করেছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। এই নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করা তৃতীয় বাংলাদেশি ও প্রথম পেস বলার হলেন হাসান মাহমুদ।  ৮৩তম ওভারের ৩য়, ৪র্থ এবং ৫ম বলে টানা ৩ বলে ৩ উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছেন হাসান। একে একে ফিরিয়েছেন ইসমাত আলম, কাইস আহমেদ এবং জিয়াউর রহমানকে। এর আগে ২০০৩ সালে পেশোয়ার টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অলক কাপালি। ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন সোহাগ গাজী। বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে টেস্টে হ্যাটট্রিক করাতে হাসান মাহমুদই প্রথম। আগের দুজন অলক কাপালি এবং সোহাগ গাজী ছিলেন স্পিনার। সংযুক্ত আরব আমিরাতে টেস্ট ম্যাচে হ্যাটট্রিকের ঘটনা এবারই প্রথম। চলতি বছরে অর্থাৎ ২০২৬ সালেও প্রথম হ্যাটট্রিকের ঘটনা এটি। ইয়ামিন আহমেদজাইকে ফিরিয়ে ইনিংসে ফাইফারও তুলে নিয়েছেন হাসান মাহমুদ। সাথে চলে গেছেন ৫০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলকে। মাত্র ১৭ ম্যাচ এবং ২৯ ইনিংসে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে এই মাইলফলকে হাসানই দ্রুততম। টেস্টে ফাইফারে শাহাদাত হোসেনের সমান হলেন হাসান মাহমুদ। দুজনেরই টেস্টে ফাইফার এখন ৪টি। হাসান ছুঁয়েছেন মাত্র ১৭ টেস্টেই। সামনে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তো থাকছেই।   আরটিভি/এসআর
হ্যাটট্রিক করে যেসব কীর্তি গড়লেন হাসান মাহমুদ
হাসানের ফাইফার, তৃতীয় দিনের শুরুতেই অলআউট আফগানিস্তান
আবুধাবি টেস্টে দ্বিতীয় দিনে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়েছিল আফগানিস্তান। তবে তৃতীয় দিনের শুরুতে হাসান মাহমুদের সামনে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। এতে প্রথম ইনিংসে আফগানরা ২৪০ রানে অলআউট হওয়ায় ১০৬ রানের লিড পেয়েছে টাইগাররা। রোববার (১১ অক্টোবর) তৃতীয় দিনের শুরুতেই দুর্দান্তভাবে। ২১ রান খরচায় আফগানদের বাকি ৬টি উইকেট তুলে নিয়েছে। আর তাতেই ১০৬ রানের স্বাস্থ্যকর এক লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামছে দলটি। এই সাফল্যের শুরু আর শেষটা করে দিয়েছেন এবাদত হোসেন। গতকালই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ছন্দে ফেরার। আজ দিনের শুরুটা করে দিয়েছেন তিনি। নতুন বলে ইকরাম আলিখিলকে বোল্ড করে তিনি ভাঙেন রহমত শাহর সঙ্গে তার ৮০ রানের জুটি। পরের গল্পটা হাসান মাহমুদের।  প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে গড়েছেন হ্যাটট্রিকের কীর্তি। শুরুটা করেছিলেন ইসমাত আলমকে বোল্ড করে। দারুণ এক ইনসুইঙ্গারে তিনি পরাস্ত করেন আফগানদের নতুন ব্যাটারকে। পরের বলে পালা আসে কাইস আহমেদের। তার সর্বনাশ করল হাসানের এক আউটসুইঙ্গার।  ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে গিয়েছিল পেছনে। দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়েছেন লিটন দাস। এরপরের বলে নতুন ব্যাটার জিয়া আকবর পরাস্ত হন ভেতরে আসা বলে। তার প্যাডে লাগলেও আম্পায়ার সাড়া দেননি। রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। সেখানে দেখা যায় পিচিং, ইমপ্যাক্ট আর হিটিং সবকিছুতেই জ্বলেছে লাল বাতি। সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে যায় হাসানের হ্যাটট্রিক। হাসান এরপর তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফাইফার তুলে নেন ইয়ামিন আহমাদজাইকে বিদায় করে। উইকেট বাকি ছিল একটি। তবে এই ফাঁকেই রহমত শাহ তুলে নেন সেঞ্চুরি। তিনি শেষমেশ সঙ্গীর অভাবে অপরাজিত থাকেন ১০৫ রানে। ওপাশে মোহাম্মদ সালিম ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে, এবাদত হোসেনের শিকার হন তিনি। ২৪০ রানে অলআউট হয় দলটি।  বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৫ উইকেট নেন হাসান। আর এবাদত ৫৬ রান খরচায় নেন ৪ উইকেট। বাকি একটি উইকেট যায় মেহেদী হাসান মিরাজের দখলে। আরটিভি/এসআর
হাসানের ফাইফার, তৃতীয় দিনের শুরুতেই অলআউট আফগানিস্তান
বাংলাদেশের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা
আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিনে আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান। এ ছাড়াও রোববার (১১ অক্টোবর) টিভিতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রয়েছে। ক্রিকেট আবুধাবি টেস্ট : ৩য় দিন বাংলাদেশ-আফগানিস্তান দুপুর ১২টা, টি স্পোর্টস ডারবান টেস্ট : ৩য় দিন দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া বেলা ১-৩০ মি., ট্যাপম্যাড ২য় টি-টোয়েন্টি পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা সন্ধ্যা ৭টা, পিটিভি স্পোর্টস ৩য় টি-টোয়েন্টি ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সন্ধ্যা ৭-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ১ ফুটবল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ হাল সিটি-এভারটন সন্ধ্যা ৭টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ লিভারপুল-ম্যান সিটি রাত ৯-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ আরটিভি/এসআর
বাংলাদেশের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা
রহমত ও ইকরামের প্রতিরোধ, দ্বিতীয় দিনে হতাশ টাইগাররা
আবুধাবি টেস্টে ব্যাটিংয়ে ভালো করলেও বল হাতে নিজেদের সেরাটা দিতে পারেনি টাইগাররা। বিপরীতে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে আফগানিস্তানকে স্বস্তি এনে দিয়েছেন রহমত শাহ ও ইকরাম আলীখিল। দুজনের নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে ভর করে ৪ উইকেটে ২১১ রান তুলেছে  আফগানিস্তা। বাংলাদেশের চেয়ে প্রথম ইনিংসে এখনও ১৩৫ রানে পিছিয়ে আছে তারা। শনিবার (১০ অক্টোবর) আব্দুল মালিক ও হাশমতউল্লাহ শহীদিকে কয়েক বলের মধ্যে ফিরিয়ে খানিকটা আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দিনের বাকিটা সময়ে বিশেষ কিছুই করতে পারেননি সফরকারীরা।  হাসান মাহমুদ, মেহেদী হাসান মিরাজরা খানিকটা চাপ তৈরি করলেও প্রত্যাশিতভাবে উইকেটের দেখা পাননি। অনেকটা হতাশার দিন কাটাতে হয়েছে বাংলাদেশকে। বিপরীতে বাংলাদেশের বোলারদের সামলে আফগানদের ভালো অবস্থানে রেখেছেন মালিক ও রহমত।  দুজনের হাফ সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ২১১ রান তুলেছে আফগানিস্তান। এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ১৩৫ রানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা। এর আগের দিনের শুরুতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন নাঈম শেখ ও তাইজুল ইসলাম। তবে ২০ বলে ৯ রান করে কট বিহাইন্ড হন তাইজুল। আর এবাদত ডাক হলে অলআউট হয় বাংলাদেশ। কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে অপরাজিত ৩৫ রানের ইনিংস খেলে দলকে ৩৪৬ রানের পুঁজি এনে দেন নাঈম আরটিভি/এসআর
রহমত ও ইকরামের প্রতিরোধ, দ্বিতীয় দিনে হতাশ টাইগাররা