ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে জয়, ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৩৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত

কোপা দেল রের সেমিফাইনালে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে অ্যান্টনিও রুডিগারের ঝলকে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এতে ফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নিল কার্লো আনচেলত্তির দল। সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগ ৪-৪ গোলে ড্র হয়ে একপ্রকার কূল রক্ষা হলো স্পেনের সবচেয়ে সফল দলটির। প্রথম লেগের ১-০ গোলে জয়ের কারণেই শেষ হাসি হাসল এমবাপ্পে-রদ্রিগোরা।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাতে রিয়াল মাদ্রিদের হোম ভেন্যু সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

ম্যাচের ৭১ মিনিট পর্যন্ত স্কোরলাইনের সমতায় লক্ষ্যে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। পরক্ষণে ডাভিড আলাবা আত্মঘাতী হলে শুরু হলো গোলের উৎসব। সময়ের সাথে ম্যাচের গতিপথ বদলায়। কখনও রিয়াল সোসিয়েদাদ ফাইনালের পথে এগিয়ে যায় তো কখনও রিয়াল মাদ্রিদ। রোমাঞ্চে ঠাসা লড়াইয়ের ১১৫ মিনিটে আরেকবার সফরকারীদের জালে বল জড়ালে সেটাই গড়ে দেয় ব্যবধান।

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চার গোলদাতা হলেন- এন্দ্রিক, জুড বেলিংহ্যাম, অঁহেলিয়া চুয়ামেনি ও আন্টোনিও রুডিগার। আর সোসিয়েদাদের হয়ে জোড়া গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল, একবার জালে বল পাঠান আন্দের বারেনেচিয়া।

জয়ের সঙ্গে পুরো মাচে বল দখলে এগিয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ আক্রমণেও আধিপত্য বিস্তার করে। গোলের জন্য ২৬টি শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখতে পারে দলটি। অন্যদিকে, গোলের জন্য শট নেওয়ার হিসেবে সোসিয়েদাদ অনেকটাই পিছিয়ে ছিল, দলটির ১১ শটের পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল এবং এর চারটিই জালে জড়ায়।

শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচে দারুণ একটি গোল করার মঞ্চ ম্যাচের শুরুতেই তৈরি করে ফেলেছিলেন এন্দ্রিক। ডি-বক্সে প্রতিপক্ষ ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে, দুই ডিফেন্ডারের মাঝে প্রথম ছোঁয়ায় বল মাথার ওপর তুলে ওভারহেড কিক নেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড, কিন্তু শট লক্ষ্যে রাখতে পানেননি তিনি। দুই মিনিট পর বাঁ দিক থেকে দূরের পোস্টে জোরাল শট নেন ভিনিসিউস, ঝাঁপিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক আলেক্স রেমিরো।

এর দুই মিনিট পর প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণে উঠে পাশের জাল কাঁপান সোসিয়েদাদের লুকা সুচিচ। এরপর ষোড়শ মিনিটে দুর্দান্ত এক প্রতি-আক্রমণে লক্ষ্যে প্রথম শট নিয়েই রিয়াল মাদ্রিদকে স্তব্ধ করে দেয় সফরকারীরা। পাবলো মারিনের হেড পাস ধরে ক্ষিপ্রতায় সবাইকে পেছনে ফেলে ডি-বক্সে ধরে ওয়ান-অন-ওয়ানে আন্দ্রি লুনিনকে পরাস্ত করেন বারেনেচিয়া।

পরে কিছুটা ঝিমিয়ে পড়া বের্নাবেউকে ৩০তম মিনিটে জাগিয়ে তোলেন এন্দ্রিক। ভিনিসিউসের দারুণ থ্রু পাস ধরে সব ডিফেন্ডারকে পেছনে রেখে ডি-বক্সে ঢুকে, দারুণ চিপ শটে আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান তরুণ এই ফরোয়ার্ড।

লা লিগায় তেমন একটা খেলার সুযোগ না পেলেও কোপা দেল রেতে নিয়মিতই শুরুর একাদশে থাকেন এবং কোচের আস্থার প্রতিদানও দিয়ে চলেন এন্দ্রিক। এখানে টানা চার ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন ১৮ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়। আসরে তার মোট গোল হলো পাঁচটি, হুলিয়ান আলভারেসের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

ম্যাচের বিরতির পরও চাপ ধরে রেখে ৬১তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগ পায় রিয়াল। জুড বেলিংহ্যামের দূর থেকে নেওয়া সেই প্রচেষ্টা অবশ্য ঝাঁপিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক। পাঁচ মিনিট পর এন্দ্রিককে তুলে কিলিয়ান এমবাপেকে নামান রিয়াল কোচ। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে পেয়ে তাদের আক্রমণ জোরালো হবে কী, উল্টো ছয় মিনিটের মধ্যে আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে রিয়াল। ডি-বক্সে বল পেয়ে দ্রুত কামাভিঙ্গাকে পাশ কাটিয়ে দুরূহ কোণ থেকে গোলমুখে বল বাড়ানোর চেষ্টা করেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মারিন, ঠেকাতে বলের পথে পা দেওয়ার চেষ্টা করেন ডাভিড আলাবা, তাতেই ঘটে যায় অঘটন। তার পায়ে লেগে লুনিনকে ফাঁকি দিয়ে বল জড়িয়ে যায় নিজেদের জালে।

আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ৮০তম মিনিটে আবার দুর্ভাগ্য ঘিরে ধরে আলাবাকে। মিকেল ওইয়ারসাবালের শট লক্ষ্যেই ছিল, সামনে অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বল দূরের পোস্ট ছুঁয়ে জালে জড়ালে ফাইনালের সুবাসও পেতে শুরু করে রিয়াল। কিন্তু আরও একবার শেষ দিকে অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। চার মিনিটের মধ্যে গোল দুটি করেন বেলিংহ্যাম ও চুয়ামেনি।

ম্যাচের ৮২তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে ভিনিসিউসের পাস বক্সে পেয়ে নিখুঁত শটে ব্যবধান কমান বেলিংহ্যাম। তবে তিন মিনিট পর সমতাসূচক গোলটি করতে পারতেন ভিনিসিউস। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে গোলরক্ষককে কাটিয়ে তার গায়েই মেরে বসলে কর্নারের বিনিময়ে বিপদমুক্ত করেন এক ডিফেন্ডার। রদ্রিগোর ওই কর্নার থেকেই হেডে স্কোরলাইন ৩-৩ করেন অহেলিয়া চুয়ামেনি।

গোলটি পেয়ে স্বাগতিকরা উল্লাসে ফেটে পড়লেও শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে নাটকীয়তা তখনও শেষ হয়নি। ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে কাছ থেকে দারুণ হেডে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে টেনে নেন ওইয়ারসাবাল। অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হলে রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণ এবং ভিনিসিউসের লক্ষ্যভ্রষ্ট শট। কিছুক্ষণ পর লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে হতাশায় ডুবেন এমবাপ্পে। তবে ১১৫ মিনিটে গিয়ে দুই বদলি খেলোয়াড়ের নৈপুণ্যে ব্যবধান গড়ে দেয় রিয়াল। আর্দা গিলেরের কর্নারে হেডে গোল করেন রুডিগার।

ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ লড়বে বার্সেলোনা অথবা আতলেতিকো মাদ্রিদের মধ্যে জয়ী দলের বিপক্ষে। এই দুই দলের সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগ ৪-৪ গোলে ড্র হয়েছিল, ফিরতি লেগে বুধবার মাঠে নামবে দল দুটি।

আরটিভি/কেএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
খালেদা জিয়ার জন্য জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের দোয়া মাহফিল
বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর সোনালী অতীত ক্লাবে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের সদস্য সচিব জাহেদ পারভেজ চৌধুরীসহ ক্রীড়া দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।  এ ছাড়া সাবেক তারকা ফুটবলার মোহাম্মাদ আসলাম, আলফাজ আহমেদসহ ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সোনালী অতীত ক্লাবের সদস্যরাও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন। দোয়া মাহফিলে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ক্রীড়াঙ্গনের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু দেশের জন্য অপূরনীয় ক্ষতি। মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনীতি ও সমাজে যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন- তা স্মরণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আদর্শ ও মূল্যবোধের চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে৷ তবেই দেশ তার কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছাবে বলে মনে করেন বক্তারা। সেই সাথে খালেদা জিয়ার স্বপ্নের দেশ ( ভালোবাসা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র) গড়তে কাজ করার অঙ্গীকার করেন বক্তারা। আরটিভি/এসআর
খালেদা জিয়ার জন্য জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের দোয়া মাহফিল
এক হালি গোল হজম করে মেজাজ হারালেন মার্টিনেজ
এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনালের কাছে ৪ গোল হজম করেছে অ্যাস্টন ভিলার আর্জেন্টাইন গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। যা হজমে মানতে পারেননি তিনি। ফলে ম্যাচ শেষে ড্রেসিং রুমে ফেরার সময় মেজাজ হারিয়ে বসেন এই গোলরক্ষক। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর টানেলে ফেরার পথে আর্সেনাল সমর্থকদের কটাক্ষের মুখে পড়েন বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক। সে সময় এক সমর্থক উচ্চস্বরে ‘ইউ আর র‍্যাটল্ড!’ বলে চিৎকার করলে মার্তিনেজ আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। আরও পড়ুন সাকিবের দেশে ফিরতে না পারা নিয়ে যা বলছে বিসিবি ক্ষুব্ধ অবস্থায় দর্শকদের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতে দেখা যায় তাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে টেনে নিয়ে যান। পুরো ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। এদিকে, এই জয়ের মাধ্যমে আর্সেনাল লিগে মাত্র দুইটি হার নিয়ে বছর শেষ করল। ১৯ ম্যাচে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে মিকেল আর্তেতার দল। সমান ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে অ্যাস্টন ভিলা। আর এক ম্যাচ কম খেলে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি। উল্লেখ্য, অ্যাস্টন ভিলাকে ৪–১ গোলে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে আর্সেনাল। এই হারের মধ্য দিয়ে থেমে গেছে ভিলার টানা ১১ ম্যাচের জয়যাত্রা। আরটিভি/এসআর
এক হালি গোল হজম করে মেজাজ হারালেন মার্টিনেজ
আতলেটিকো মাদ্রিদের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক কলার আর নেই
স্পেনের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আতলেটিকো মাদ্রিদের ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক এনরিক কলার মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে স্প্যানিশ এই কিংবদন্তি লেফট উইঙ্গারের বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। দীর্ঘ এক দশক আতলেটিকো মাদ্রিদকে নেতৃত্ব দেওয়া কলার ক্লাবটির হয়ে খেলেছেন ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত। এই সময়ে লাল-সাদা জার্সিতে তিনি মাঠে নেমেছেন ৪৭০টি ম্যাচে, যা তাকে ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘসময় ধরে খেলা ও নেতৃত্ব দেওয়া ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জাতীয় দলের হয়ে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও স্পেনের ফুটবলে তার অবদান স্মরণীয়। স্প্যানিশ জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি খেলেছেন মোট ১৬টি ম্যাচ এবং ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন। এনরিক কলারের নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো কোনো ইউরোপিয়ান শিরোপা জেতে আতলেটিকো মাদ্রিদ। ১৯৬২ সালে তার অধিনায়কত্বে উয়েফা কাপ উইনার্স কাপের ট্রফি ঘরে তোলে ক্লাবটি। পাশাপাশি ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে স্পেনের শীর্ষ লিগ লা লিগার শিরোপাও জেতে আতলেটিকো। কলারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আতলেটিকো মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ। ক্লাবের পক্ষ থেকে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। কিংবদন্তি এই অধিনায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ক্লাবের ঘরের মাঠ মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। আরও পড়ুন গোল করেও দলকে জেতাতে পারলেন না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আতলেটিকো মাদ্রিদের ইতিহাসে এনরিক কলার চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন একজন সত্যিকারের নেতা ও ক্লাব-প্রতীকের প্রতীক হিসেবে। আরটিভি/এসকে
আতলেটিকো মাদ্রিদের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক কলার আর নেই
গোল করেও দলকে জেতাতে পারলেন না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
বছরের শেষ ম্যাচেও গোলের দেখা পেলেন পর্তুগালের মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে তার গোলেও জয় নিশ্চিত করা গেল না আল নাসরের। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সৌদি প্রো লিগে আল ইত্তিফাকের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে রোনালদোর দল।  ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় আল ইত্তিফাক। ১৬ মিনিটে ডাচ মিডফিল্ডার জর্জিনিও উইজনালডামের গোলে লিড নেয় স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও বিরতির পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় আল নাসর। ৪৭তম মিনিটে ছন্দে থাকা জোয়াও ফেলিক্স গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর ৬৭তম মিনিটে রোনালদোর গোলে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। যদিও গোলটির পেছনে বড় অবদান ছিল ফেলিক্সের। বক্সে হেডের চেষ্টা করতে গিয়ে পড়ে যান রোনালদো। পরে উঠে দাঁড়ানোর পর জটলার মধ্যে ফেলিক্সের নেওয়া শট রোনালদোর পিঠে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। এই গোলের মাধ্যমে হাজার গোলের মাইলফলকের আরও কাছে পৌঁছালেন রোনালদো। তার ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৯৫৭টি। চলতি বছরে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৪৬ ম্যাচে ৪১ গোল করেছেন ৪০ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ তারকা। তবে ম্যাচের শেষদিকে আবারও সমতায় ফেরে আল ইত্তিফাক। ম্যাচ শেষের ১০ মিনিট আগে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে এক পয়েন্ট এনে দেন উইজনালডাম। শেষ পর্যন্ত ২-২ ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল। আরও পড়ুন এক বছরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়লেন হোল্ডার এই ড্রয়ের ফলে সৌদি প্রো লিগে প্রথমবার পয়েন্ট হারাল আল নাসর। এর আগে লিগ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে মৌসুমের প্রথম ১০ ম্যাচেই জয় পেয়েছিল তারা। ১১ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে এখনো লিগের শীর্ষে আছে আল নাসর। সমান ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে আল ইত্তিফাক। আরটিভি/এসকে
গোল করেও দলকে জেতাতে পারলেন না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
বার্সেলোনার জার্সি নিষিদ্ধ!
লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা ও পঞ্চম স্থানীয় এস্পানিওলের মধ্যে আগামী রবিবার (৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য কাতালান ডার্বি ম্যাচে বার্সেলোনার জার্সি পরিধান নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে এস্পানিওল ক্লাব। ম্যাচটি হবে এস্পানিওলের মাঠ আরসিডিই স্টেডিয়ামে। এই নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ হলো গোলরক্ষক হুয়ান গার্সিয়ার দলবদল, যিনি সম্প্রতি এস্পানিওল ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন। এস্পানিওলের সমর্থকদের মধ্যে এই পরিবর্তনকে সহজে মানা যাচ্ছে না, তাই নিরাপত্তার কারণে বার্সেলোনার জার্সি, স্কার্ফ বা অন্য কোনো দলীয় প্রতীক বহন করা যাবে না স্টেডিয়ামে। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, এস্পানিওল ক্লাব জানিয়েছে, সব দর্শকের নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু ম্যাচ পরিচালনার জন্য স্টেডিয়ামে বার্সেলোনার যে কোনো পোশাক বা প্রতীক পরিধান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাড়াতে স্টেডিয়ামের গোলপোস্টের পেছনে সুরক্ষামূলক জালও স্থাপন করা হবে। এছাড়াও, শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার মধ্যে রয়েছে জরিমানা থেকে শুরু করে ৫ বছর পর্যন্ত সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল এবং স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা। মাঠে পয়েন্ট টেবিলের দিক থেকে বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী, ১৮ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। এক ম্যাচ কম খেলা এস্পানিওল পঞ্চম স্থানে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে। একই সময়ে, ৪২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বার্সার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। আরও পড়ুন ২০২৬ সালের স্পোর্টস ক্যালেন্ডার প্রকাশ বার্সেলোনা-এস্পানিওল কাতালান ডার্বি নিয়ে উত্তেজনা থাকলেও এই নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এর আকার এক ধরনের দ্বৈরথ থেকে নিরাপত্তা কেন্দ্রীকৃত বিতর্কের রূপ নিচ্ছে। আরটিভি/এসকে
বার্সেলোনার জার্সি নিষিদ্ধ!
আরও পড়ুন
বার্সেলোনাকে হটিয়ে শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদ
গোল খরায় পুড়ছেন ভিনিসিয়ুস, পাশে পেলেন না আলোনসোকে
আসন্ন ফিনালিসিমাকে ‘বিশ্বকাপ ফাইনাল’ হিসেবে দেখছেন মার্টিনেজ
দুর্বল তালাভেরার বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় রিয়াল মাদ্রিদের