ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

এবারের বিশ্বকাপ থেকে যত টাকা আয় করল ফিফা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন বা ১৫০০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করেছে ফিফা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সংস্থাটির যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, এই আয় তা বিপুল ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে।

রোববার (১৯ জুলাই) ব্রিটিশ প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এই তথ্য।

শনিবার (১৮ জুলাই) ফিফার সদস্য দেশগুলোকে আয়ের এই রেকর্ডের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফার প্রাক্কলিত আয়ের লক্ষ্য ছিল ১১ বিলিয়ন বা ১১০০ কোটি ডলার। তবে, টুর্নামেন্ট শেষে তা এক লাফে আরও ৪ বিলিয়ন বা ৪০০ কোটি ডলার বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ফিফার আয় এতটা বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে হসপিটালিটি প্যাকেজ ও টিকিটের ‘সেকেন্ডারি মার্কেট’ বা কালোবাজারি। চড়া মূল্যের এই টিকিট বাজার থেকে মোটা অঙ্কের লভ্যাংশ পকেটে ঢুকিয়েছে ফিফা। নিয়ম অনুযায়ী, সেকেন্ডারি মার্কেটে টিকিট কেনাবেচার ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ ও বিক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ; অর্থাৎ মোট ৩০ শতাংশ কমিশন কেটে নেয় ফিফা।

আরও পড়ুন

নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য স্পেন বনাম আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচের আগের দিন শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যাতেও ফিফার অফিশিয়াল পোর্টালে ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিট বিক্রি হতে দেখা গেছে। সেখানে কেবল ‘ট্রফি লাউঞ্জ’-এর একেকটি টিকিটের দাম ধরা হয়েছে সাড়ে ৩৪ হাজার মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪১ লাখ টাকা।

রেকর্ড পরিমাণ এই আয় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্য বড় একটি স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপজুড়ে নানা বিতর্কে জড়াতে হয়েছে ফিফাকে। বিশেষ করে, শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড মওকুফ করা নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়।

ফুটবল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে নতি স্বীকার করেই বালোগুনের লাল কার্ড বাতিল করেছিল ফিফা। যদিও ফিফা দাবি করেছে, সিদ্ধান্তটি তাদের স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি নিয়েছে। তবে, ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ এখনও কমেনি।

অবশ্য, বিপুল আয়ের পর এই ক্ষোভ হয়তো ধামাচাপা পড়ে যাবে। কারণ বিশ্বকাপ থেকে আয় বাড়ায় ফিফার সদস্য দেশগুলোও এখন বেশি আর্থিক অনুদান পাবে। ২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের জন্য এরই মধ্যে ইনফান্তিনো ২০০টিরও বেশি সদস্য দেশের সমর্থন পেয়ে গেছেন। বাড়তি তহবিলের লোভ দেখিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ দেশগুলোকেও শেষ পর্যন্ত চুপ করিয়ে রাখতে পারবেন বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

এদিকে চলতি বিশ্বকাপের এই বিশাল আর্থিক সাফল্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুততম সময়ে আবারও বিশ্বকাপ ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আবারও বিশ্বকাপ আয়োজনের তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

ফিফাকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, আপনারা আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিন। তবে, এবার আমরা কানাডা এবং মেক্সিকোকে সাথে রাখব না, একাই আয়োজন করবো।

বিডিংয়ের জন্য ফাঁকা থাকা ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপের ওপর নজর রাখছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর পাশাপাশি ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ এককভাবে আয়োজনের জন্যও ফিফার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
উড়ন্ত রাফিনিয়ার জন্য টাকার বস্তা প্রস্তুত করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড!
ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা দিতে না পারলেও চলতি মৌসুমে রীতিমতো উড়ছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। ইতোমধ্যে ৮ ম্যাচ খেলে ১৪টি গোল করে ফেলেছেন তিনি। এই পারফর‌ম্যান্সের জেরে রাফিনিয়ার দিকে নজর পড়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। তাই আসন্ন জানুয়ারির দলবদলের বাজারে ওল্ড ট্রাফোর্ডে এই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে দলে টানার প্রস্তুতি শুরু করেছে ইংলিশ ক্লাবটি। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ফিচাহেসে।  প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাইকেল ক্যারিকের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড রাফিনিয়াকে তাদের আক্রমণভাগের মূল অস্ত্র বানাতে মরিয়া। তাকে রাজি করাতে ইউনাইটেড একটি অবিশ্বাস্য রেকর্ড-ব্রেকিং প্রস্তাবের পরিকল্পনা করছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড রাফিনিয়া জন্য প্রায় ১২০ মিলিয়ন ইউরোর এক বিশাল বিড প্রস্তুত করছে, যা তাদের ইতিহাসের অন্যতম রেকর্ড দলবদল হতে পারে। ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাবটি রাফিনিকে প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড় বানাতে চায়। এমনকি ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ডের চেয়েও তাকে বেশি সাপ্তাহিক বেতন দেওয়ার প্রস্তাব ভাবা হচ্ছে।  তবে বার্সেলোনা এই তরুণ ফুটবলারকে ছাড়বে কিনা সেটা একটা বড় প্রশ্ন? কারণ, বর্তমানে স্ট্রাইকার পজিশনে রাফিনিয়ার থেকে ভালো অপশন নেই হান্সি ফ্লিকের সামনে। যদিও স্ট্রাইকার হিসেবে হুলিয়ান আলভারেজকে দলে নিতে চেষ্টা চালাচ্ছে কাতালান ক্লাবটি। কিন্তু রাফিনিয়া বর্তমানে দলের নেতৃত্ব পাওয়ার পর অবিশ্বাস্য ফর্মে আছেন রাফিনিয়া। লা লিগায় তার টানা হ্যাটট্রিকসহ গোল বন্যা করেছে ক্লাবটি। তবে এই ঐতিহাসিক মেগা চুক্তিটি সম্পন্ন হওয়া অনেকটাই নির্ভর করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ালিফাই করার ওপর। এখনও পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটাই দেখার বিষয়। আরটিভি/এসআর
উড়ন্ত রাফিনিয়ার জন্য টাকার বস্তা প্রস্তুত করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড!
হাকিমিকে নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন ফ্রান্সের আদালত
ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত আপিল খারিজ করে দেওয়ায় প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ও মরক্কোর তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমিকে ধর্ষণের মামলায় বিচারের মুখোমুখি হতেই হচ্ছে।  সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই খবর নিশ্চিত করেছে ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘দি অ্যাথলেটিক’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিসের পশ্চিমে ও-দে-সেন বিভাগের একটি অপরাধ আদালতে এই মামলার বিচারকাজ পরিচালিত হবে। এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা না হলেও আগামী বছরই মামলাটির বিচারকাজ শুরু হতে পারে। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বুলোন-বিলঁকুরে হাকিমির নিজ বাসভবনে ঘটে যাওয়া এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত। হাকিমির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে যোগাযোগের পর ওই তরুণী তার বাড়িতে যান।  পরবর্তীতে তিনি হাকিমির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন। ঘটনার পাঁচ দিন পর হাকিমির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠিত হয়। তবে শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এই তারকা ফুটবলার। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হাকিমির আইনজীবী দল প্রথমে মামলাটি খারিজের আবেদন জানিয়েছিল।  তবে গত বছরের ১৯ জুন ভার্সাইয়ের আপিল আদালত সেই আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরপর হাকিমি উচ্চ আদালত ‘কোর্ট অব ক্যাসেশন’-এ যান, যা সম্প্রতি চূড়ান্তভাবে বাতিল ঘোষণা করা হলো। আরটিভি/এসআর
হাকিমিকে নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন ফ্রান্সের আদালত
নেইমারের সেই কঠিন দায়িত্ব কাঁধে নিতে যাচ্ছেন রাফিনিয়া!
চলতি বছর শেষ হওয়া ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন ব্রুনো গ্রিমারায়েস। সেই ম্যাচ হারের পর অবসর নিয়েছেন নেইমারও। ফলে নতুন করে একজন দক্ষ পেনাল্টি টেকার খুঁজছেন আনচেলত্তি। যেখানে সবার থেকে এগিয়ে রয়েছে রাফিনিয়া। পরিসংখ্যান বলছে, পেনাল্টিতে ব্রাজিলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সফল ফুটবলার রাফিনিয়া। পেশাদার ক্যারিয়ারে ২৪টি স্পট কিক নিয়ে ২৩টিই গোলে পরিণত করেছেন তারকা এই ফরোয়ার্ড। প্রায় এক দশক তিনি কোনো পেনাল্টি মিস করেননি।  ২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়েও রাফিনিয়া ছিলেন শতভাগ সফল। ৫ পেনাল্টি নিয়ে ৫টিই গোল করেছেন। এই মৌসুমেও এখন পর্যন্ত ৩টি পেনাল্টি নিয়ে সবকটি গোলে রূপান্তর করেছেন। বিশ্বকাপ পরবর্তী ব্রাজিল দলে তাই রাফিনিয়াকেই পেনাল্টি নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ ভাবা হচ্ছে।  গত জুলাইয়ে বিশ্বকাপ শেষে এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতিতে মাঠে নামতে যাচ্ছে ব্রাজিল। রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা প্রীতি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে। তাতে স্বাভাবিকভাবে পেনাল্টি শট নেওয়ার প্রসঙ্গ উঠছে। আনচেলত্তি বলেন, আমরা খেলোয়াড়দের এবং প্রতিপক্ষের গত এক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেছি। জাতীয় দলে সবচেয়ে ভালো ছিল রাফিনিয়া। ওই মুহূর্তে পেনাল্টি নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে নেইমার, এরপর ইগোর থিয়াগো, তারপর রাফিনিয়া, এরপর ব্রুনো গিমারায়েস এবং তারপর মার্তিনেল্লি। অর্থাৎ, গিমারায়েসের আগে রাফিনিয়াকেই রেখেছিলেন আনচেলত্তি। কিন্তু চোটের কারণে নরওয়ের বিপক্ষে তিনি খেলতে পারেননি। তবে রাফিনিয়া এখন যেহেতু শতভাগ ফিট, তাই আনচেলত্তি তাকেই পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব দিতে পারেন। রাফিনিয়া পেনাল্টি নেওয়ায় কতটা দক্ষ, সেটা তুলে ধরেছে কাতালান সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো।  গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, রাফিনিয়া সবশেষ ১৬ পেনাল্টির (বার্সেলোনার হয়ে ১৩টি ও ব্রাজিলের হয়ে ৩টি) মধ্যে ৯টি শট গোলকিপারের ডান দিকে, ৬টি বাঁ দিক দিয়ে চিপ করে এবং ১টি পোস্টের মাঝ বরাবর দিয়ে। ফলে, স্পট কিকে রাফিনিয়া কোন দিক দিয়ে শট নেবেন, তা প্রতিপক্ষ গোলকিপারের জন্য অনুমান করা খুব কঠিন।তাই নেইমারের পর পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্বটা রাফিনিয়ার কাঁধেই উঠতে পারে। আরটিভি/এসআর
নেইমারের সেই কঠিন দায়িত্ব কাঁধে নিতে যাচ্ছেন রাফিনিয়া!
আসিয়ান কাপে মাঠে নামার আগে অবসর নিয়ে মুখ খুললেন জামাল
বাংলাদেশের একাদশে নিয়মিত জায়গা না পেলেও অধিনায়কত্বের দায়িত্ব কাঁধে বয়ে বেড়াচ্ছেন জামাল ভূঁইয়া। গুঞ্জন উঠেছে, নতুন নেতৃত্বের খোঁজে রয়েছে বাফুফে। এসবের মাঝেই ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবসর নিয়ে কথা বলেছেন এই তারকা ফুটবলার। জামাল বলেন, অবশ্যই সবকিছুরই একটা শেষ আছে। তবে এই মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছে, শরীর ভালো অবস্থায় আছে। জাতীয় দল ও বাংলাদেশের প্রতি আমার অনেক টান। অবসর নেওয়া অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সবাই বলে, খেলার সময়ের মুহূর্তগুলো আরও বেশি উপভোগ করতে পারলে ভালো হতো। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ থেকে ২৩ জনের দলে জায়গা পাওয়াকে বড় সম্মানের বিষয় মনে করেন তিনি। এই ফুটবলারের ভাষ্য, প্রতিবার মাঠে নামা কিংবা জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা আমার কাছে বিশেষ কিছু। বছরের পর বছর অনেক খেলোয়াড়কে আসতে ও চলে যেতে দেখেছি। যত বেশি সময় দলের সঙ্গে থাকছি, তত বেশি উপভোগ করছি। কারণ আমি ফুটবল ভালোবাসি, আমার দল ও দেশকে ভালোবাসি। আসিয়ান কাপে ভক্তদের প্রত্যাশা নিয়ে তিনি বলেন, এই টুর্নামেন্ট নিয়ে আমাদের নিজেদের এবং দেশের মানুষের বিশাল প্রত্যাশা রয়েছে। আমরা জানি গ্রুপে আমরাই সবচেয়ে পিছিয়ে আছি। তবে আমরা এই টুর্নামেন্ট থেকে তিন-চার পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। আর ফুটবলে কখন কী হয়, সেটা তো কেউ আগে থেকে বলতে পারে না! জাতীয় দলের হয়ে শততম ম্যাচের দ্বারপ্রান্তে থাকা ৩৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের জন্য আজকের এই অবস্থানে আসাটা মোটেও সহজ ছিল না। দুই দশক আগে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে ৪টি গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন তিনি।  সেই মৃত্যুঞ্জয়ী জামালই এখন বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। যতদিন শরীর সায় দেবে, দেশের হয়ে এই দায়িত্ব তিনি চালিয়ে যেতে চান। আরটিভি/এসআর
আসিয়ান কাপে মাঠে নামার আগে অবসর নিয়ে মুখ খুললেন জামাল
আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের লক্ষ্য জানালেন জামাল ভূঁইয়া
অবশেষে জাকার্তায় আজ পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফিফা আসিয়ান কাপ। মালয়েশিয়া ম্যাচ দিয়ে আগামীকাল নিজেদের অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ দল। এর আগে নিজেদের লক্ষ্য কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামাল বলেন, অবশ্যই এই টুর্নামেন্টে ভালো করতে এবং ভালো পারফর্ম করতে আমাদের প্রত্যাশা আছে। জাকার্তায় বড় দর্শকের সামনে খেলার জন্য আমরা সত্যিই মুখিয়ে আছি। বর্তমানে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৮১তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিমত্তার বিচারে গ্রুপের বাকি তিন দলই এগিয়ে। ইন্দোনেশিয়া ১১৮তম, মালয়েশিয়া ১৩৬তম এবং সিঙ্গাপুর ১৪৮তম স্থানে রয়েছে। গ্রুপে বাংলাদেশের অবস্থানের বাস্তবতা ভালোভাবেই জানেন জামাল। তবে র‍্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধানকে বাধা হিসেবে দেখছেন না এই মিডফিল্ডার।  তিনি বলেন, আমরা জানি, গ্রুপে আমরাই সবচেয়ে নিচের র‍্যাঙ্কিংয়ের দল। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের পর আমাদের অবস্থান। কিন্তু আমাদের নিজেদের প্রত্যাশা আছে, দেশেরও প্রত্যাশা আছে। আমরা তিন বা চার পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছি। আর ফুটবলে এরপর কী হয়, তা তো কখনোই বলা যায় না। আসিয়ান কাপে ভালো করার পাশাপাশি জামালের স্বপ্ন, বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপে খেলবে। সদ্যই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখে ফেরা জামাল দেশের ফুটবল উন্মাদনা নিয়ে ফিফাকে বলেন, বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশে যে কী উন্মাদনা হয়, তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। ঢাকার প্রতিটি ভবনে বিভিন্ন দলের পতাকা ওড়ে, বড় পর্দায় ২০-৩০ হাজার মানুষ একসঙ্গে খেলা দেখে। একবার ভাবুন তো, আমরা যদি সত্যিই বিশ্বকাপে খেলতে পারি... সেই উন্মাদনার মাত্রাটা কোথায় গিয়ে ঠেকবে! ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আরটিভি/এসআর  
আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের লক্ষ্য জানালেন জামাল ভূঁইয়া
আরও পড়ুন
ফিলিস্তিনি শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে ফিফার অভিনব উদ্যোগ
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ম্যাচ কবে, কখন, কোথায়?
২০৩০ বিশ্বকাপ: অস্ট্রেলিয়ায় ব্রাজিলের প্রস্তুতি শুরু