ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফুটবলের সবচেয়ে দামি ১৫ দলবদল

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবলে একজন তারকা খেলোয়াড়কে দলে ভেড়াতে এখন আর শুধু প্রতিভা কিংবা পারফরম্যান্স বিবেচনাই যথেষ্ট নয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শত শত মিলিয়ন ইউরোর বিশাল অঙ্ক। সময়ের সঙ্গে ফুটবলের বাজার যত বড় হয়েছে, ততই বেড়েছে খেলোয়াড়দের ট্রান্সফার ফিও। তবে বিপুল অর্থ খরচ করলেই যে সাফল্য নিশ্চিত ফুটবলের ইতিহাসে তার প্রমাণ খুব কমই পাওয়া যায়।

কেউ রেকর্ড দামে দলবদল করে হয়ে উঠেছেন নতুন ক্লাবের প্রাণ, আবার কেউ প্রত্যাশার পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে হারিয়ে গেছেন। ট্রান্সফারমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ১৫ দলবদলের দিকে একনজরে দেখে নেওয়া যাক।

১. নেইমার- বার্সেলোনা থেকে পিএসজি, ২২২ মিলিয়ন ইউরো

২০১৭ সালে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দেন নেইমার। ব্রাজিলিয়ান তারকাকে দলে নিতে ২২২ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে প্যারিসের ক্লাবটি যা এখনো ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি।

পিএসজির হয়ে ঘরোয়া ফুটবলে একাধিক সাফল্য পেলেও কাঙ্ক্ষিত চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা এনে দিতে পারেননি নেইমার। ২০২০ সালে ইউরোপসেরার ফাইনালে উঠলেও বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় পিএসজি। চোটও বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্রাজিলিয়ান তারকার পথে।

২. কিলিয়ান এমবাপ্পে- মোনাকো থেকে পিএসজি, ১৮০ মিলিয়ন ইউরো

২০১৭ সালে মোনাকো থেকে পিএসজিতে যোগ দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। অল্প সময়ের মধ্যেই ক্লাবটির প্রধান তারকায় পরিণত হন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

পিএসজির হয়ে সাত বছরে ৩০৮ ম্যাচে ২৫৬ গোল করেন তিনি। হয়ে ওঠেন ক্লাবটির সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং জেতেন ১৬টি শিরোপা। তবে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায় তার।

৩. উসমান দেম্বেলে- ডর্টমুন্ড থেকে বার্সেলোনা, ১৪৮ মিলিয়ন ইউরো

বার্সেলোনায় যাওয়ার সময় উসমান দেম্বেলেকে ঘিরে ছিল বিশাল প্রত্যাশা। তবে ক্যাম্প ন্যুতে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। চোট ও ফিটনেস সমস্যায় বারবার ছন্দ হারান ফরাসি উইঙ্গার।

বার্সেলোনা ছাড়ার পর পিএসজিতে গিয়ে অবশ্য নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেন দেম্বেলে। লুইস এনরিকের অধীনে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অরও জেতেন তিনি।

৪. আলেকজান্ডার ইসাক- নিউক্যাসল থেকে লিভারপুল, ১৪৫ মিলিয়ন ইউরো

২০২৬ সালের গ্রীষ্মের দলবদলের শেষ দিকে বড় চমক দেখায় লিভারপুল। নিউক্যাসল ইউনাইটেডের তারকা স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ইসাককে দলে নিতে ১৪৫ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে তারা।

নিউক্যাসলের হয়ে নিজেকে ইউরোপের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পর এবার অ্যানফিল্ডে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন সুইডিশ তারকা। লিভারপুলে তার পারফরম্যান্স এখন তাই ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রে।

৫. এনজো ফার্নান্দেজ- চেলসি থেকে ম্যানচেস্টার সিটি, ১৪৫ মিলিয়ন ইউরো

চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বড় ট্রান্সফার ফি’র চাপ সামলাতে হয়েছে এনজো ফার্নান্দেজকে। সময়ের সঙ্গে পারফরম্যান্সে উন্নতি করলেও ২০২৬ সালে তাকে ঘিরে নতুন পরিকল্পনা করে ম্যানচেস্টার সিটি।

রদ্রি ও বার্নার্দো সিলভার বিদায়ের পর সিটির মাঝমাঠ পুনর্গঠনে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৬. ব্র্যাডলি বারকোলা- পিএসজি থেকে লিভারপুল, ১৪০ মিলিয়ন ইউরো

মোহাম্মদ সালাহর বিদায়ের পর আক্রমণভাগে নতুন তারকার প্রয়োজন ছিল লিভারপুলের। সেই জায়গা পূরণে পিএসজির ব্র্যাডলি বারকোলাকে দলে টানে ইংলিশ ক্লাবটি।

চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা দুটি শিরোপা জয়ে অবদান রাখা ২৩ বছর বয়সী ফরাসি উইঙ্গারকে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে দেখছে লিভারপুল।

৭. মরগান রজার্স- অ্যাস্টন ভিলা থেকে চেলসি, ১৩৭ মিলিয়ন ইউরো

অ্যাস্টন ভিলায় দুর্দান্ত সময় কাটিয়ে প্রিমিয়ার লিগের আলোচিত আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ে পরিণত হন মরগান রজার্স। তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে নিজেদের ট্রান্সফার রেকর্ড নতুন করে চেলসি।

এখন বড় প্রশ্ন ভিলায় যে সাফল্য পেয়েছেন, স্ট্যামফোর্ড ব্রিজেও কি তা ধরে রাখতে পারবেন ইংলিশ তারকা?

৮. এলিয়ট অ্যান্ডারসন- নটিংহাম ফরেস্ট থেকে ম্যানচেস্টার সিটি, ১৩৫ মিলিয়ন ইউরো

নিউক্যাসল থেকে নটিংহাম ফরেস্টে যাওয়ার পর দ্রুতই নিজের বাজারমূল্য বাড়ান এলিয়ট অ্যান্ডারসন। দুই মৌসুমের পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডের অন্যতম আলোচিত তরুণ খেলোয়াড়ে পরিণত হন তিনি।

২০২৬ বিশ্বকাপেও নজর কাড়ার পর অ্যান্ডারসনকে দলে নিতে নিজেদের রেকর্ড ট্রান্সফার ফি খরচ করে ম্যানচেস্টার সিটি।

৯. ফিলিপে কুতিনহো- লিভারপুল থেকে বার্সেলোনা, ১৩৫ মিলিয়ন ইউরো

লিভারপুলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ২০১৮ সালে বার্সেলোনায় যোগ দেন ফিলিপে কুতিনহো। তার দলবদল থেকে পাওয়া অর্থ পরবর্তীতে লিভারপুলের স্কোয়াড শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে বার্সেলোনায় লিভারপুলের সেই কুতিনহোকে দেখা যায়নি। চার মৌসুমের মধ্যে দুই মৌসুম ধারে কাটানোর পর ২০২২ সালে স্থায়ীভাবে ক্লাব ছাড়েন ব্রাজিলিয়ান তারকা।

১০. জোয়াও ফেলিক্স- বেনফিকা থেকে আতলেতিকো মাদ্রিদ, ১২৭ মিলিয়ন ইউরো

বেনফিকার হয়ে ঝলমলে পারফরম্যান্সের পর জোয়াও ফেলিক্সকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল বিপুল প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশা থেকেই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডকে পেতে ১২৭ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

তবে দিয়েগো সিমিওনের কৌশলের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারেননি ফেলিক্স। এরপর বার্সেলোনা, চেলসি ও এসি মিলানে ধারে খেলেছেন তিনি। ২০২৫ সালে যোগ দেন সৌদি ক্লাব আল নাসরে।

১১. জুড বেলিংহাম- ডর্টমুন্ড থেকে রিয়াল মাদ্রিদ, ১২৭ মিলিয়ন ইউরো

রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর বড় ট্রান্সফার ফি’র চাপকে উল্টো শক্তিতে পরিণত করেছেন জুড বেলিংহাম।

প্রথম মৌসুমেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন ইংলিশ মিডফিল্ডার। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করে রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পথেও বড় অবদান রাখেন তিনি।

১২. ইয়ান দিয়োমান্দে- আরবি লাইপজিগ থেকে রিয়াল মাদ্রিদ, ১২৫ মিলিয়ন ইউরো

একটি দুর্দান্ত বুন্দেসলিগা মৌসুমই বদলে দেয় ইয়ান দিয়োমান্দের পরিচিতি। অল্প সময়ের মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসা আইভরি কোস্টের এই উইঙ্গারকে নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিল লিভারপুলও।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য রিয়াল মাদ্রিদই তাকে দলে ভেড়ায়। নতুন ‘গ্যালাকটিকো’ হিসেবে এখন পুরো ফুটবলবিশ্বের নজর এই তরুণ তারকার দিকে।

১৩. ফ্লোরিয়ান ভির্টজ-লেভারকুসেন থেকে লিভারপুল, ১২৫ মিলিয়ন ইউরো

বায়ার লেভারকুসেনের ঐতিহাসিক বুন্দেসলিগা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ফ্লোরিয়ান ভির্টজের। জাভি আলোনসোর অধীনে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে ইউরোপের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত তরুণ তারকায় পরিণত করে।

বায়ার্ন মিউনিখের আগ্রহ উপেক্ষা করে প্রিমিয়ার লিগের পথ বেছে নেন জার্মান মিডফিল্ডার। তবে লিভারপুলে তার শুরুটা প্রত্যাশামতো সহজ হয়নি।

১৪. এনজো ফার্নান্দেজ-বেনফিকা থেকে চেলসি, ১২১ মিলিয়ন ইউরো

কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নিতে বিপুল অর্থ খরচ করে চেলসি।

বেনফিকা থেকে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বিশাল অঙ্কের ট্রান্সফারে লন্ডনের ক্লাবটিতে যোগ দেন তিনি। শুরুতে মানিয়ে নিতে সময় লাগলেও পরে চেলসির মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন আর্জেন্টাইন তারকা।

১৫. এডেন হ্যাজার্ড-চেলসি থেকে রিয়াল মাদ্রিদ, ১২১ মিলিয়ন ইউরো

চেলসির হয়ে বছরের পর বছর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ২০১৯ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন এডেন হ্যাজার্ড। তাকে ঘিরে ছিল নতুন ‘গ্যালাকটিকো’ হয়ে ওঠার প্রত্যাশা।

কিন্তু চোট ও ফর্মহীনতায় সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। লা লিগায় রিয়ালের হয়ে ৫৪ ম্যাচ খেলেও গোল করতে পেরেছেন মাত্র চারটি। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সেই ফুটবলকে বিদায় জানান বেলজিয়ান তারকা।

ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি দলবদলের তালিকাই বলে দেয়, রেকর্ড ট্রান্সফার ফি সবসময় রেকর্ড সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। নেইমার, কুতিনহো, ফেলিক্স ও হ্যাজার্ডের মতো তারকারা প্রত্যাশার পুরোটা পূরণ করতে পারেননি। অন্যদিকে এমবাপ্পে, বেলিংহাম ও দেম্বেলের মতো খেলোয়াড়রা বড় অঙ্কের মূল্যকে সাফল্যে রূপ দিতে পেরেছেন।

শেষ পর্যন্ত ফুটবলের বাজারে খেলোয়াড়ের মূল্য যতই আকাশছোঁয়া হোক, মাঠে তার ভবিষ্যৎ কখনোই আগেভাগে লেখা থাকে না। বিপুল অর্থ যেমন একজন খেলোয়াড়কে তারকা বানাতে পারে, তেমনি সেই মূল্যই হয়ে উঠতে পারে তার ওপর সবচেয়ে বড় চাপ।


আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
উড়ন্ত রাফিনিয়ার জন্য টাকার বস্তা প্রস্তুত করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড!
ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা দিতে না পারলেও চলতি মৌসুমে রীতিমতো উড়ছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। ইতোমধ্যে ৮ ম্যাচ খেলে ১৪টি গোল করে ফেলেছেন তিনি। এই পারফর‌ম্যান্সের জেরে রাফিনিয়ার দিকে নজর পড়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। তাই আসন্ন জানুয়ারির দলবদলের বাজারে ওল্ড ট্রাফোর্ডে এই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে দলে টানার প্রস্তুতি শুরু করেছে ইংলিশ ক্লাবটি। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ফিচাহেসে।  প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাইকেল ক্যারিকের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড রাফিনিয়াকে তাদের আক্রমণভাগের মূল অস্ত্র বানাতে মরিয়া। তাকে রাজি করাতে ইউনাইটেড একটি অবিশ্বাস্য রেকর্ড-ব্রেকিং প্রস্তাবের পরিকল্পনা করছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড রাফিনিয়া জন্য প্রায় ১২০ মিলিয়ন ইউরোর এক বিশাল বিড প্রস্তুত করছে, যা তাদের ইতিহাসের অন্যতম রেকর্ড দলবদল হতে পারে। ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাবটি রাফিনিকে প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড় বানাতে চায়। এমনকি ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ডের চেয়েও তাকে বেশি সাপ্তাহিক বেতন দেওয়ার প্রস্তাব ভাবা হচ্ছে।  তবে বার্সেলোনা এই তরুণ ফুটবলারকে ছাড়বে কিনা সেটা একটা বড় প্রশ্ন? কারণ, বর্তমানে স্ট্রাইকার পজিশনে রাফিনিয়ার থেকে ভালো অপশন নেই হান্সি ফ্লিকের সামনে। যদিও স্ট্রাইকার হিসেবে হুলিয়ান আলভারেজকে দলে নিতে চেষ্টা চালাচ্ছে কাতালান ক্লাবটি। কিন্তু রাফিনিয়া বর্তমানে দলের নেতৃত্ব পাওয়ার পর অবিশ্বাস্য ফর্মে আছেন রাফিনিয়া। লা লিগায় তার টানা হ্যাটট্রিকসহ গোল বন্যা করেছে ক্লাবটি। তবে এই ঐতিহাসিক মেগা চুক্তিটি সম্পন্ন হওয়া অনেকটাই নির্ভর করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ালিফাই করার ওপর। এখনও পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটাই দেখার বিষয়। আরটিভি/এসআর
উড়ন্ত রাফিনিয়ার জন্য টাকার বস্তা প্রস্তুত করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড!
হাকিমিকে নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন ফ্রান্সের আদালত
ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত আপিল খারিজ করে দেওয়ায় প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ও মরক্কোর তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমিকে ধর্ষণের মামলায় বিচারের মুখোমুখি হতেই হচ্ছে।  সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই খবর নিশ্চিত করেছে ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘দি অ্যাথলেটিক’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিসের পশ্চিমে ও-দে-সেন বিভাগের একটি অপরাধ আদালতে এই মামলার বিচারকাজ পরিচালিত হবে। এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা না হলেও আগামী বছরই মামলাটির বিচারকাজ শুরু হতে পারে। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বুলোন-বিলঁকুরে হাকিমির নিজ বাসভবনে ঘটে যাওয়া এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত। হাকিমির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে যোগাযোগের পর ওই তরুণী তার বাড়িতে যান।  পরবর্তীতে তিনি হাকিমির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন। ঘটনার পাঁচ দিন পর হাকিমির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠিত হয়। তবে শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এই তারকা ফুটবলার। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হাকিমির আইনজীবী দল প্রথমে মামলাটি খারিজের আবেদন জানিয়েছিল।  তবে গত বছরের ১৯ জুন ভার্সাইয়ের আপিল আদালত সেই আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরপর হাকিমি উচ্চ আদালত ‘কোর্ট অব ক্যাসেশন’-এ যান, যা সম্প্রতি চূড়ান্তভাবে বাতিল ঘোষণা করা হলো। আরটিভি/এসআর
হাকিমিকে নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন ফ্রান্সের আদালত
নেইমারের সেই কঠিন দায়িত্ব কাঁধে নিতে যাচ্ছেন রাফিনিয়া!
চলতি বছর শেষ হওয়া ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন ব্রুনো গ্রিমারায়েস। সেই ম্যাচ হারের পর অবসর নিয়েছেন নেইমারও। ফলে নতুন করে একজন দক্ষ পেনাল্টি টেকার খুঁজছেন আনচেলত্তি। যেখানে সবার থেকে এগিয়ে রয়েছে রাফিনিয়া। পরিসংখ্যান বলছে, পেনাল্টিতে ব্রাজিলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সফল ফুটবলার রাফিনিয়া। পেশাদার ক্যারিয়ারে ২৪টি স্পট কিক নিয়ে ২৩টিই গোলে পরিণত করেছেন তারকা এই ফরোয়ার্ড। প্রায় এক দশক তিনি কোনো পেনাল্টি মিস করেননি।  ২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়েও রাফিনিয়া ছিলেন শতভাগ সফল। ৫ পেনাল্টি নিয়ে ৫টিই গোল করেছেন। এই মৌসুমেও এখন পর্যন্ত ৩টি পেনাল্টি নিয়ে সবকটি গোলে রূপান্তর করেছেন। বিশ্বকাপ পরবর্তী ব্রাজিল দলে তাই রাফিনিয়াকেই পেনাল্টি নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ ভাবা হচ্ছে।  গত জুলাইয়ে বিশ্বকাপ শেষে এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতিতে মাঠে নামতে যাচ্ছে ব্রাজিল। রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা প্রীতি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে। তাতে স্বাভাবিকভাবে পেনাল্টি শট নেওয়ার প্রসঙ্গ উঠছে। আনচেলত্তি বলেন, আমরা খেলোয়াড়দের এবং প্রতিপক্ষের গত এক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেছি। জাতীয় দলে সবচেয়ে ভালো ছিল রাফিনিয়া। ওই মুহূর্তে পেনাল্টি নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে নেইমার, এরপর ইগোর থিয়াগো, তারপর রাফিনিয়া, এরপর ব্রুনো গিমারায়েস এবং তারপর মার্তিনেল্লি। অর্থাৎ, গিমারায়েসের আগে রাফিনিয়াকেই রেখেছিলেন আনচেলত্তি। কিন্তু চোটের কারণে নরওয়ের বিপক্ষে তিনি খেলতে পারেননি। তবে রাফিনিয়া এখন যেহেতু শতভাগ ফিট, তাই আনচেলত্তি তাকেই পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব দিতে পারেন। রাফিনিয়া পেনাল্টি নেওয়ায় কতটা দক্ষ, সেটা তুলে ধরেছে কাতালান সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো।  গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, রাফিনিয়া সবশেষ ১৬ পেনাল্টির (বার্সেলোনার হয়ে ১৩টি ও ব্রাজিলের হয়ে ৩টি) মধ্যে ৯টি শট গোলকিপারের ডান দিকে, ৬টি বাঁ দিক দিয়ে চিপ করে এবং ১টি পোস্টের মাঝ বরাবর দিয়ে। ফলে, স্পট কিকে রাফিনিয়া কোন দিক দিয়ে শট নেবেন, তা প্রতিপক্ষ গোলকিপারের জন্য অনুমান করা খুব কঠিন।তাই নেইমারের পর পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্বটা রাফিনিয়ার কাঁধেই উঠতে পারে। আরটিভি/এসআর
নেইমারের সেই কঠিন দায়িত্ব কাঁধে নিতে যাচ্ছেন রাফিনিয়া!
আসিয়ান কাপে মাঠে নামার আগে অবসর নিয়ে মুখ খুললেন জামাল
বাংলাদেশের একাদশে নিয়মিত জায়গা না পেলেও অধিনায়কত্বের দায়িত্ব কাঁধে বয়ে বেড়াচ্ছেন জামাল ভূঁইয়া। গুঞ্জন উঠেছে, নতুন নেতৃত্বের খোঁজে রয়েছে বাফুফে। এসবের মাঝেই ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবসর নিয়ে কথা বলেছেন এই তারকা ফুটবলার। জামাল বলেন, অবশ্যই সবকিছুরই একটা শেষ আছে। তবে এই মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছে, শরীর ভালো অবস্থায় আছে। জাতীয় দল ও বাংলাদেশের প্রতি আমার অনেক টান। অবসর নেওয়া অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সবাই বলে, খেলার সময়ের মুহূর্তগুলো আরও বেশি উপভোগ করতে পারলে ভালো হতো। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ থেকে ২৩ জনের দলে জায়গা পাওয়াকে বড় সম্মানের বিষয় মনে করেন তিনি। এই ফুটবলারের ভাষ্য, প্রতিবার মাঠে নামা কিংবা জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা আমার কাছে বিশেষ কিছু। বছরের পর বছর অনেক খেলোয়াড়কে আসতে ও চলে যেতে দেখেছি। যত বেশি সময় দলের সঙ্গে থাকছি, তত বেশি উপভোগ করছি। কারণ আমি ফুটবল ভালোবাসি, আমার দল ও দেশকে ভালোবাসি। আসিয়ান কাপে ভক্তদের প্রত্যাশা নিয়ে তিনি বলেন, এই টুর্নামেন্ট নিয়ে আমাদের নিজেদের এবং দেশের মানুষের বিশাল প্রত্যাশা রয়েছে। আমরা জানি গ্রুপে আমরাই সবচেয়ে পিছিয়ে আছি। তবে আমরা এই টুর্নামেন্ট থেকে তিন-চার পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। আর ফুটবলে কখন কী হয়, সেটা তো কেউ আগে থেকে বলতে পারে না! জাতীয় দলের হয়ে শততম ম্যাচের দ্বারপ্রান্তে থাকা ৩৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের জন্য আজকের এই অবস্থানে আসাটা মোটেও সহজ ছিল না। দুই দশক আগে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে ৪টি গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন তিনি।  সেই মৃত্যুঞ্জয়ী জামালই এখন বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। যতদিন শরীর সায় দেবে, দেশের হয়ে এই দায়িত্ব তিনি চালিয়ে যেতে চান। আরটিভি/এসআর
আসিয়ান কাপে মাঠে নামার আগে অবসর নিয়ে মুখ খুললেন জামাল
আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের লক্ষ্য জানালেন জামাল ভূঁইয়া
অবশেষে জাকার্তায় আজ পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফিফা আসিয়ান কাপ। মালয়েশিয়া ম্যাচ দিয়ে আগামীকাল নিজেদের অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ দল। এর আগে নিজেদের লক্ষ্য কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামাল বলেন, অবশ্যই এই টুর্নামেন্টে ভালো করতে এবং ভালো পারফর্ম করতে আমাদের প্রত্যাশা আছে। জাকার্তায় বড় দর্শকের সামনে খেলার জন্য আমরা সত্যিই মুখিয়ে আছি। বর্তমানে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৮১তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিমত্তার বিচারে গ্রুপের বাকি তিন দলই এগিয়ে। ইন্দোনেশিয়া ১১৮তম, মালয়েশিয়া ১৩৬তম এবং সিঙ্গাপুর ১৪৮তম স্থানে রয়েছে। গ্রুপে বাংলাদেশের অবস্থানের বাস্তবতা ভালোভাবেই জানেন জামাল। তবে র‍্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধানকে বাধা হিসেবে দেখছেন না এই মিডফিল্ডার।  তিনি বলেন, আমরা জানি, গ্রুপে আমরাই সবচেয়ে নিচের র‍্যাঙ্কিংয়ের দল। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের পর আমাদের অবস্থান। কিন্তু আমাদের নিজেদের প্রত্যাশা আছে, দেশেরও প্রত্যাশা আছে। আমরা তিন বা চার পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছি। আর ফুটবলে এরপর কী হয়, তা তো কখনোই বলা যায় না। আসিয়ান কাপে ভালো করার পাশাপাশি জামালের স্বপ্ন, বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপে খেলবে। সদ্যই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখে ফেরা জামাল দেশের ফুটবল উন্মাদনা নিয়ে ফিফাকে বলেন, বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশে যে কী উন্মাদনা হয়, তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। ঢাকার প্রতিটি ভবনে বিভিন্ন দলের পতাকা ওড়ে, বড় পর্দায় ২০-৩০ হাজার মানুষ একসঙ্গে খেলা দেখে। একবার ভাবুন তো, আমরা যদি সত্যিই বিশ্বকাপে খেলতে পারি... সেই উন্মাদনার মাত্রাটা কোথায় গিয়ে ঠেকবে! ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আরটিভি/এসআর  
আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের লক্ষ্য জানালেন জামাল ভূঁইয়া
আরও পড়ুন
বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়ের মনোনয়ন পেলেন কিউবারসি-ইয়ামালসহ ১০ ফুটবলার
মুসিয়ালার ট্রান্সফারের নিউজ করায় পুলিশের হাতে আটক সাংবাদিক!
খেলোয়াড়দের জন্য কি আলাদা টুথপেস্ট লাগে?
বিশ্বকাপ জেতা ১০ কনিষ্ঠ খেলোয়াড়