
জাতীয় ফুটবল দলের নতুন হোম ও অ্যাওয়ে জার্সি উন্মোচন করা হয়েছে। নতুন জার্সির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬০০ টাকা। তবে সমর্থকদের জন্য ৭০০-৮০০ টাকার মধ্যে ফ্যান এডিশন আনার পরিকল্পনা করছে কিট পার্টনার ‘দৌড়’।
আজ দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে নতুন জার্সি উন্মোচন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। এ সময় তিনি বলেন, আমরা যখন খেলতাম, তখন বাজার থেকে জার্সি কিনে এনে দিতেন কর্মকর্তারা। এত ব্র্যান্ডিং ও আনুষ্ঠানিকতা করে কখনও জার্সি পড়া হয়নি। এ রকম ব্যবস্থার জন্য বাফুফে সভাপতিকে ধন্যবাদ।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কিট পার্টনার ‘দৌড়’ তৈরি করেছে নতুন জার্সি। দাম ১৬০০ টাকা হওয়ার কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আবিদ আলম চৌধুরি বলেন, ফেব্রিকের কারণে দামটা একটু বেশি। তবে সামনে আমরা ফ্যান এডিশন করছি, যেটা ৭০০-৮০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। বাফুফের অনুমোদন পেলে এটা বাজারে ছাড়া হবে।
‘দৌড়’এর আনুষ্ঠানিক কোনো শোরুম নেই। তবে এবার ইনফিনিটিতে বাংলাদেশের জার্সি রাখা হবে। সমর্থকদের সুবিধার জন্য অফলাইন বিক্রির ব্যবস্থাও চান বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। তিনি বলেন, অনলাইনে জার্সি বিক্রি হচ্ছে। আমরা চাই অফলাইনে দৌড়ের শোরুম থেকেও যেন সমর্থকরা জার্সি সংগ্রহ করতে পারে।
বাফুফের সঙ্গে ‘দৌড়’এর চুক্তি দুই বছরের। এরই মধ্যে দেড় বছর পেরিয়েছে। চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই নতুন জার্সি উন্মোচন করা হয়েছে। তাবিথ আউয়াল প্রতি দুই বছর পরপর জার্সিতে পরিবর্তন আনতে চান।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে তুলনামূলক নতুন ব্র্যান্ড ‘দৌড়’। হামজা-সামিতদের বদৌলতে এখন দেশের ও প্রবাসী অনেক সমর্থকের কাছেই পরিচিতি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাফুফের সঙ্গে চুক্তির সুফল সম্পর্কে মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান ফাহাদ করিম বলেন, দৌড়ের সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি- তারা জার্সি বিক্রি করলে সেখান থেকে লভ্যাংশ দেবে। সেটা প্রতি মাসে তারা পরিশোধ করছে। বছর শেষে সেটা ভালো অঙ্কই। এর পাশাপাশি বিগত সময়ে জার্সি কিনতে যে খরচ হতো সেটাও হচ্ছে না।
জার্সি বিক্রির বিষয়ে আবিদ আলম চৌধুরি বলেন, গত এক বছর আমরা বিশ হাজারের মতো জার্সি বিক্রি করেছি। প্রতি মাসে বাফুফের রয়্যালিটি বুঝিয়ে দিয়েছি। বাফুফের সঙ্গে যখন চুক্তি হয়, তখন অনেক খেলা বা টুর্নামেন্ট সূচিতে ছিল না। অতিরিক্ত খেলার জন্য আমরা চুক্তির বাইরেও বাফুফেকে কয়েক হাজার জার্সি অতিরিক্ত সরবরাহ করেছি। পাশাপাশি বাজারে লোগো ব্যবহার করে বিক্রি হওয়ায় বাস্তবিক অর্থে আমরা সেভাবে লাভ করতে পারিনি।
জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে কমলাপুর ও সিলেট স্টেডিয়াম নিয়ে বাফুফে ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। বাফুফের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষে পরিচালক ক্রীড়া জাহেদ পারভেজ চৌধুরি এতে স্বাক্ষর করেন।
সমঝোতা স্মারক নিয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, এই দুই স্টেডিয়ামের মালিকানা অবশ্যই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের। বাফুফে সিকিউরিটি ও অন্য ব্যবস্থাপনা দেখাশোনা করবে। এই স্টেডিয়ামে অন্য ফেডারেশনও খেলাধূলা আয়োজন করতে পারবে, সেটা বাফুফের সঙ্গে সমন্বয় করে। এই স্টেডিয়াম দুটো শুধু ফুটবল কিংবা বাফুফের ভাবার কোনো কারণ নেই।
আরটিভি/এসকে


