
নতুন স্মার্টফোন কেনার পর পুরোনো ফোনটি অনেকেরই আলমারি বা ড্রয়ারে পড়ে থাকে। সেই অব্যবহৃত ফোনটিকেই চাইলে বাড়ির নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করা যায়। আলাদা সিসিটিভি ক্যামেরা না কিনেও একটি পুরোনো স্মার্টফোনকে সাধারণ সিকিউরিটি ক্যামেরায় পরিণত করা সম্ভব।
এ জন্য প্রয়োজন হবে একটি পুরোনো স্মার্টফোন, আরেকটি ফোন বা ট্যাব, স্থিতিশীল ওয়াইফাই সংযোগ এবং একটি উপযুক্ত ক্যামেরা অ্যাপ। আলফ্রেডক্যামেরার মতো অ্যাপের মাধ্যমে পুরোনো ফোনকে ক্যামেরা এবং নতুন ফোনকে ভিউয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে দূর থেকে লাইভ ভিডিও দেখা ছাড়াও নড়াচড়া শনাক্ত হলে নোটিফিকেশন পাওয়ার সুবিধা রয়েছে।
পুরোনো ফোনকে সিকিউরিটি ক্যামেরা বানাতে প্রয়োজন হবে-
ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহারের একটি পুরোনো স্মার্টফোন
লাইভ ভিডিও দেখার জন্য আরেকটি ফোন বা ট্যাব
স্থিতিশীল ওয়াইফাই সংযোগ
ফোন রাখার জন্য স্ট্যান্ড বা হোল্ডার
দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য নিরাপদ চার্জার বা পাওয়ার সোর্স
বিশ্বস্ত একটি সিকিউরিটি ক্যামেরা অ্যাপ।
ফোনটি খুব শক্তিশালী হওয়া জরুরি নয়। তবে ক্যামেরা, ওয়াইফাই এবং প্রয়োজনীয় অ্যাপ চালানোর মতো অপারেটিং সিস্টেম থাকতে হবে।
যেভাবে সেটআপ করবেন
প্রথমে পুরোনো ফোনটি পুরোপুরি চার্জ দিয়ে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আপডেট করে নিতে হবে। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ও ফাইল সরিয়ে কিছু স্টোরেজ খালি করে রাখাও ভালো।
এরপর পুরোনো ফোন ও বর্তমান ফোন দুই ডিভাইসেই একই ক্যামেরা অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে। অ্যাপ চালু করে প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করে একটি ফোনকে ক্যামেরা এবং অন্যটিকে ভিউয়ার হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে।
আলফ্রেডক্যামেরার মতো অ্যাপে একই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দুই ডিভাইস যুক্ত করা যায়। QR কোড স্ক্যান করেও ডিভাইস পেয়ার করার সুবিধা রয়েছে। সংযোগ হয়ে গেলে বর্তমান ফোন থেকেই পুরোনো ফোনের ক্যামেরার লাইভ ভিডিও দেখা যাবে।
অ্যাপ ব্যবহারের জন্য ক্যামেরা, মাইক্রোফোন এবং প্রয়োজনে মিডিয়া ব্যবহারের অনুমতি দিতে হতে পারে। তবে কোনো অ্যাপ অপ্রয়োজনীয় বা সন্দেহজনক অনুমতি চাইলে তা যাচাই না করে অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
কোথায় রাখবেন পুরোনো ফোন?
ক্যামেরা ফোনটি এমন জায়গায় রাখতে হবে, যেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিষ্কারভাবে দেখা যায় এবং একই সঙ্গে ওয়াইফাই সিগন্যাল ভালো পাওয়া যায়। দরজার সামনে, প্রবেশপথ, শিশুর ঘর বা পোষা প্রাণীর অবস্থান নজরে রাখার জন্য এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
ফোনটি এমন উচ্চতায় রাখা ভালো, যাতে প্রবেশ করা ব্যক্তির মুখ পরিষ্কারভাবে ক্যামেরায় আসে। জানালার একেবারে সামনে রাখলে দিনের আলোয় ভিডিও অতিরিক্ত উজ্জ্বল হতে পারে। আবার অন্ধকার ঘরে পুরোনো ফোনের ক্যামেরার নাইট ভিশন সীমিত হতে পারে। তাই দিন ও রাত—দুই সময়েই ক্যামেরার ভিডিও পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।
শুধু লাইভ ভিডিও নয়, আরও সুবিধা
সঠিক অ্যাপ ব্যবহার করলে পুরোনো ফোন দিয়ে তৈরি এই ব্যবস্থায় শুধু লাইভ ভিডিও দেখাই নয়, আরও কিছু সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। কিছু অ্যাপ ক্যামেরার সামনে নড়াচড়া শনাক্ত করে ভিউয়ার ফোনে নোটিফিকেশন পাঠায়। আবার কিছু অ্যাপে দুই দিকের অডিও এবং ভিডিও রেকর্ডের সুবিধাও রয়েছে।
তবে কোন সুবিধা বিনামূল্যে এবং কোনটি প্রিমিয়াম, তা অ্যাপভেদে আলাদা হতে পারে।
দীর্ঘ সময় চার্জে রাখার ক্ষেত্রে সতর্কতা
পুরোনো ফোনকে দীর্ঘ সময় ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করলে সেটিকে পাওয়ারে সংযুক্ত রাখার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ফোনের তাপমাত্রার দিকে নজর রাখা জরুরি।
ফোনটি বালিশ, বিছানা বা এমন কোনো জায়গার নিচে রাখা উচিত নয়, যেখানে তাপ সহজে বের হতে পারে না। ভালো মানের চার্জার ও কেবল ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাটারি ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত গরম হওয়া কিংবা চার্জার বা কেবলে ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেলে ফোনটিকে দীর্ঘ সময় ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
ওয়াইফাই দুর্বল হলে সমস্যা হতে পারে
পুরোনো ফোনের ক্যামেরা থেকে লাইভ ভিডিও দেখতে সাধারণত নেটওয়ার্ক সংযোগ প্রয়োজন হয়। ওয়াইফাই দুর্বল হলে ভিডিও আটকে যেতে পারে কিংবা ক্যামেরা অফলাইন হয়ে যেতে পারে।
তাই ক্যামেরা বসানোর আগে নির্ধারিত জায়গায় ওয়াইফাই সিগন্যাল কেমন, তা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। রাউটার থেকে অনেক দূরে ফোন রাখলে সংযোগে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ডেটা নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ
পুরোনো ফোনকে সিকিউরিটি ক্যামেরায় রূপান্তরের ক্ষেত্রে ডেটা নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যবহারের আগে অ্যাপটির ডেভেলপার, গোপনীয়তা নীতি এবং কী কী অনুমতি প্রয়োজন তা দেখে নেওয়া উচিত।
আলফ্রেডক্যামেরার তথ্য অনুযায়ী, তাদের লাইভ ভিডিও ও অডিও স্ট্রিম ২৫৬-বিট AES এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে। তবে ব্যবহারকারীদের নিয়মিত অ্যাপ আপডেট করা, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং অ্যাকাউন্টে অপরিচিত কোনো ডিভাইস যুক্ত হয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
ব্যক্তিগত জায়গায় ক্যামেরা নয়
বাড়ির নিরাপত্তার জন্য ক্যামেরা ব্যবহার করলেও অন্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি। বাথরুম, পোশাক পরিবর্তনের স্থান কিংবা অন্য কারও ব্যক্তিগত জায়গায় অনুমতি ছাড়া ক্যামেরা বসানো উচিত নয়।
বাড়িতে অন্য সদস্য, অতিথি বা কর্মী থাকলে ক্যামেরা কোথায় বসানো হয়েছে, তা তাদের জানানো ভালো। বিশেষ করে অডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার নিয়ম মেনে চলতে হবে।
সিসিটিভির পুরো বিকল্প নয়
পুরোনো ফোন দিয়ে তৈরি এই ব্যবস্থা কম খরচে একটি ঘর, প্রবেশপথ বা নির্দিষ্ট জায়গা নজরদারির জন্য কার্যকর হতে পারে। তবে এটি পেশাদার সিসিটিভি ব্যবস্থার পুরো বিকল্প নয়।
পেশাদার ক্যামেরায় আবহাওয়া প্রতিরোধী বডি, নির্দিষ্ট নাইট ভিশন, স্থানীয় স্টোরেজ, দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা এবং একাধিক ক্যামেরা ব্যবস্থাপনার মতো সুবিধা থাকতে পারে, যা পুরোনো স্মার্টফোনে সবসময় পাওয়া যাবে না।
তাই পুরোনো ফোনকে কম খরচের নজরদারি ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।
ড্রয়ারে পড়ে থাকা পুরোনো স্মার্টফোন ফেলে না দিয়ে এভাবে বাড়ির নিরাপত্তার কাজে লাগানো যেতে পারে। একটি উপযুক্ত অ্যাপ, স্থিতিশীল ওয়াইফাই এবং সঠিক অবস্থানে ফোন বসিয়েই তৈরি করা সম্ভব সাধারণ একটি সিকিউরিটি ক্যামেরা ব্যবস্থা। তবে দীর্ঘ সময় চার্জে রাখার আগে ব্যাটারির অবস্থা পরীক্ষা এবং অ্যাপের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নীতি যাচাই করা জরুরি।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট
আরটিভি/এসকে




