ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

চোখের সামনে যা দেখছি, সেটাই কি সত্য

ডিআইইউ সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
এআই দ্বারা তৈরিকৃত ছবি

চোখের সামনে একজন পরিচিত মানুষকে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। কণ্ঠও তারই মতো। মুখের অভিব্যক্তি স্বাভাবিক, ঠোঁটের নড়াচড়াও কথার সঙ্গে মিলছে। দেখলে মনে হতে পারে, ঘটনাটি সত্যিই ঘটেছে। কিন্তু ভিডিওটি আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বা পরিবর্তন করা হয়ে থাকতে পারে। বাস্তব মানুষের চেহারা, কণ্ঠ বা বক্তব্যকে এমনভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে, যা দেখে সাধারণ দর্শকের পক্ষে আসল ও কৃত্রিমের পার্থক্য করা কঠিন।

এই ধরনের কৃত্রিম বা পরিবর্তিত বিষয়বস্তুর একটি পরিচিত রূপ হলো ‘ডিপফেক’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও যন্ত্রশিক্ষা ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির চেহারা, কণ্ঠ বা আচরণ পরিবর্তন করে এমনভাবে উপস্থাপন করা যায়, যেন তিনি সত্যিই ওই কথা বলেছেন বা ওই কাজ করেছেন।

একসময় কোনো ঘটনা সত্য কিনা, তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ছবি ও ভিডিওকে তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভরযোগ্য দৃশ্যমান প্রমাণ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সৃষ্টিশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সেই ধারণা বদলে যাচ্ছে। এখন শুধু চোখে দেখা বা কানে শোনা কোনো বিষয় সত্য কিনা, সেটি নির্ধারণ করা আগের মতো সহজ নয়। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোও দেখাচ্ছে, মানুষের নিজস্ব চোখ ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার ওপর এককভাবে নির্ভর করে ডিপফেক শনাক্ত করা বেশ কঠিন।

মানুষ কতটা ভালোভাবে ডিপফেক শনাক্ত করতে পারে
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কান্টারের মাধ্যমে ভেরিফের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ব্রাজিলের ৩ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। প্রতিটি দেশ থেকে ১ হাজার করে অংশগ্রহণকারী নেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ১৮ থেকে ৬৪ বছর। বয়স, লিঙ্গ ও অঞ্চলভিত্তিক জাতীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট অনুপাত অনুসরণ করা হয়েছিল।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ১৬টি দৃশ্য দেখানো হয়। এর মধ্যে আটটি ছিল আসল এবং আটটি ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বা পরিবর্তিত বিষয়বস্তু। এর মধ্যে সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি, কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও এবং একজনের মুখের জায়গায় অন্যজনের মুখ বসানো ভিডিওও ছিল। দৃশ্যগুলো এলোমেলোভাবে দেখানো হয়, যাতে উপস্থাপনের ক্রম পরীক্ষার ফলকে প্রভাবিত না করে।

ফলাফলে দেখা যায়, ডিপফেক শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তিন দেশের মানুষের সক্ষমতা খুবই সীমিত। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের গড় শনাক্তকরণ স্কোর ছিল ০ দশমিক ০৭ এবং ব্রাজিলের ০ দশমিক ০৮।

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এই ০ দশমিক ০৭ বা ০ দশমিক ০৮ কোনো শতাংশ নয়। গবেষণায় স্কোরের পরিসর ছিল ঋণাত্মক ১ থেকে ধনাত্মক ১। সেখানে ১ মানে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা, ০ মানে অনুমানের পর্যায় এবং ঋণাত্মক ১ মানে ধারাবাহিকভাবে ভুল উত্তর দেওয়া। ফলে ০ দশমিক ০৭ বা ০ দশমিক ০৮ স্কোর বলতে বোঝায়, অংশগ্রহণকারীরা অনুমানের তুলনায় সামান্য ভালো করলেও তাদের শনাক্ত করার সক্ষমতা ছিল খুবই সীমিত।

যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক নিজেদের ডিপফেক শনাক্ত করার সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু পরীক্ষায় তাদের গড় ফল সেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। গবেষণাটি দেখিয়েছে, নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে মানুষের ধারণা এবং বাস্তবে তাদের শনাক্ত করার ক্ষমতার মধ্যে বড় ব্যবধান থাকতে পারে।

গবেষণায় প্রায় ৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারীকে উচ্চঝুঁকির দলে রাখা হয়েছে। এই দলের মানুষের ডিপফেক শনাক্ত করার সক্ষমতা তুলনামূলক কম, নিজেদের দক্ষতা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস বেশি এবং সন্দেহজনক বিষয়বস্তু যাচাই করার প্রবণতা কম। অর্থাৎ শুধু ভুল শনাক্ত করাই সমস্যা নয়, বরং নিজের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসও ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

মানুষ আসলে কী দেখে
ডিপফেক শনাক্ত করার সময় মানুষ সাধারণত কিছু দৃশ্যমান অস্বাভাবিকতা খোঁজে। ভেরিফের ২০২৬ সালের গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ অস্বাভাবিক ত্বক বা ত্বকের গঠন লক্ষ্য করার কথা বলেছেন। ৫২ শতাংশ চুল, দাঁত বা চোখের মতো বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের অস্বাভাবিকতা খোঁজেন। ৫১ শতাংশ ভিডিওতে অস্বাভাবিক নড়াচড়া বা মুখের অভিব্যক্তি লক্ষ্য করেন। ৪৫ শতাংশ পেছনের দৃশ্যের অসংগতি এবং ৪৩ শতাংশ আলো বা ছায়ার অস্বাভাবিকতা খোঁজেন।

কিন্তু এখানেই তৈরি হচ্ছে নতুন সমস্যা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নতির সঙ্গে এসব দৃশ্যমান ত্রুটি অনেক ক্ষেত্রে কম স্পষ্ট হয়ে আসছে। অর্থাৎ একসময় যে ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখে কৃত্রিম ছবি বা ভিডিও শনাক্ত করা যেত, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বিষয়বস্তুতে সেই চিহ্নগুলো সবসময় নির্ভরযোগ্য নাও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, ডিপফেক শনাক্ত করার সময় তারা কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের চেয়ে নিজের সামগ্রিক অনুভূতির ওপর নির্ভর করেন। যুক্তরাজ্যে এই হার ছিল ৪৭ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ কোনো নির্দিষ্ট যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বিষয়টি দেখতে কেমন লাগছে, তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়।

এখানেই বড় প্রশ্ন তৈরি হয়। কোনো ভিডিও দেখতে সত্যি মনে হলেই কি সেটি সত্য? আবার কোনো ভিডিওতে অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়লেই কি সেটি অবশ্যই কৃত্রিম? গবেষণাগুলো বলছে, শুধু এসব দৃশ্যমান লক্ষণের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ নয়।

তরুণরা কি ডিপফেক শনাক্ত করতে বেশি সক্ষম
তরুণদের ডিপফেক শনাক্ত করার পদ্ধতি নিয়েও গবেষণা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত ‘জেনারেশন জেডের ডিপফেক ভিডিও শনাক্ত করার কৌশল’ শীর্ষক গবেষণায় ২১ বছরের কম বয়সী অংশগ্রহণকারীদের ডিপফেক শনাক্ত করার কৌশল পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের চারটি ভিডিও দেখানো হয়। এর মধ্যে দুটি ছিল আসল এবং দুটি ছিল ডিপফেক। এরপর তারা কীভাবে ভিডিওগুলো শনাক্ত করেছেন, সে বিষয়ে অনলাইন জরিপে উত্তর দেন।

গবেষণায় দেখা যায়, তরুণরা ডিপফেক শনাক্ত করার সময় মূলত তিন ধরনের তথ্যের ওপর নির্ভর করেন। এগুলো হলো দৃশ্যগত তথ্য, শব্দভিত্তিক তথ্য এবং আগে থেকে জানা তথ্য বা ঘটনার প্রেক্ষাপট। অর্থাৎ শুধু ভিডিওর চেহারা নয়, কণ্ঠ, ভাষা, আগে থেকে জানা তথ্য এবং বিষয়টির প্রেক্ষাপটও তারা বিবেচনায় নেন।

তবে শুধু মুখের বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করা খুব কার্যকর হয়নি। গবেষণায় আসল ও ডিপফেক ভিডিও শনাক্ত করার ক্ষেত্রে মুখের বৈশিষ্ট্য ব্যবহারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি। বরং ভুলভাবে ডিপফেককে আসল মনে করার ক্ষেত্রে মুখের বৈশিষ্ট্যের ওপর বেশি নির্ভর করা হয়েছিল।

অন্যদিকে শব্দভিত্তিক তথ্য, বিশেষ করে কণ্ঠ ও ভাষার বৈশিষ্ট্য, আসল ভিডিও সঠিকভাবে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। গবেষণায় সঠিকভাবে আসল ভিডিও শনাক্ত করার সময় কণ্ঠের বৈশিষ্ট্য ব্যবহারের হার ছিল ৮৬ দশমিক ৭ শতাংশ। ডিপফেক শনাক্ত করার সময় তা ছিল ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ। ভাষাগত বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে এই হার ছিল যথাক্রমে ৫৬ শতাংশ ও ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ডিপফেক শনাক্ত করার গড় নির্ভুলতা ছিল ৭১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং আসল ভিডিও শনাক্ত করার গড় নির্ভুলতা ছিল ৭৭ শতাংশ। তবে এই পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল না। ফলে এই ফলকে তরুণদের ডিপফেক শনাক্ত করার ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে ভালো বা খারাপ সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে দেখানো যাবে না।

এই গবেষণার আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো, অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ও গবেষণার ধরন সীমিত ছিল। ফলে ফলাফলকে বিশ্বের সব জেনারেশন জেড তরুণের ওপর সরাসরি প্রয়োগ করা ঠিক হবে না। বরং এটি তরুণদের ডিপফেক শনাক্ত করার কৌশল সম্পর্কে একটি গবেষণাভিত্তিক চিত্র দেয়।

৯২৪ জনের গবেষণায় কী পাওয়া গেল
২০২৬ সালের ৬ আগস্ট প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় ৯২৪ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর ডিপফেক প্রযুক্তি সম্পর্কে মানুষের ঝুঁকি, উপকারিতা, গোপনীয়তা এবং আস্থার বিষয় নিয়ে জরিপ করা হয়। গবেষণাটি বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে করা হলেও এটি বিশ্বের সাধারণ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী কোনো পূর্ণাঙ্গ জরিপ নয়। নমুনার সবচেয়ে বড় অংশ ছিল নরওয়ে থেকে ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩২ শতাংশ এবং ফ্রান্স থেকে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

গবেষণায় ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, ডিপফেক প্রযুক্তির ব্যবহারিক উপকারিতা থাকতে পারে। অন্যদিকে ৮৪ দশমিক ৮ শতাংশ মনে করেন, ডিপফেক মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। ৮২ দশমিক ৭ শতাংশ মনে করেন, কারও ছবি বা কণ্ঠ অননুমোদিতভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে ডিপফেক ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অর্থাৎ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি শুধু ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভালো’ বা ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খারাপ’ এমন সরল জায়গায় নেই। মানুষ একদিকে প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য ব্যবহারিক সুবিধা দেখছে, অন্যদিকে একই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভ্রান্তি, গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও অপব্যবহারের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বিগ্ন।

তবে গবেষণাটি ছিল নির্দিষ্ট সময়ের মানুষের মতামতভিত্তিক একটি জরিপ। তাই এসব সম্পর্ককে সরাসরি কারণ ও ফলাফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।

বাংলাদেশে পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক
বাংলাদেশেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট ভুল তথ্য এখন বাস্তব তথ্যপরিবেশের অংশ। তবে এখানে একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করা জরুরি। বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া সব ভুল তথ্যের পূর্ণ হিসাব হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের উপাত্তকে ব্যবহার করা যাবে না।

ফ্যাক্টচেকবিডির বাংলাদেশ ভুল তথ্য পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ২ হাজার ৪০২টি যাচাইকৃত ও সমন্বিত ভুল তথ্যের ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪১৬টি ঘটনা ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ ওই উপাত্তের ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ ঘটনার সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি বিষয়বস্তুর সম্পর্ক ছিল।

এই ৪১৬টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট ঘটনার মধ্যে আনুমানিক ৩৫ শতাংশ ছিল ডিপফেক ভিডিও, ৩০ শতাংশ ছবি পরিবর্তন, ২২ শতাংশ ভুয়া তথ্যচিত্র এবং ১৩ শতাংশ কণ্ঠস্বর নকলের ঘটনা।

মাধ্যমের দিক থেকেও ফেসবুক ছিল সবচেয়ে বড় মাধ্যম। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৬ সালের উপাত্তে ভুল তথ্যের ঘটনার ৬২ শতাংশ ফেসবুকের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। টিকটকের হার ছিল ১৫ শতাংশ এবং ইউটিউবের ১০ শতাংশ।

তবে এই উপাত্তকে বাংলাদেশের সব ভুল তথ্যের পূর্ণ চিত্র হিসেবে দেখা যাবে না। কারণ এটি প্রকাশ্যে যাচাই করা দাবির ভিত্তিতে তৈরি এবং একই দাবির একাধিক যাচাইকে একত্র করে একটি ঘটনা হিসেবে গণনা করা হয়েছে। ফলে এটি যাচাইকৃত ঘটনার একটি উপাত্ত, দেশের মোট ভুল তথ্যের পরিমাণ নয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়সীমা। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৬ সালের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মাধ্যমভিত্তিক বিস্তারিত বিভাজন পাওয়া গেলেও পরবর্তী মাসগুলোর একই ধরনের বিভাজন পাওয়া যায় না। তাই জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের হার ধরে পরবর্তী মাসগুলোর পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো অনুমান করা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশে ২০২৬ সালে এমন বড় আকারের প্রকাশ্য জরিপ, যেখানে কয়েকশ বা কয়েক হাজার বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারীকে সরাসরি আসল ও ডিপফেক ভিডিও দেখিয়ে শনাক্ত করার নির্ভুলতা মাপা হয়েছে, সাম্প্রতিকভাবে পাওয়া গবেষণাগুলোর মধ্যে পাওয়া যায়নি। তাই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল বা অন্যান্য দেশের গবেষণার ফলকে সরাসরি বাংলাদেশের মানুষের সক্ষমতা হিসেবে উপস্থাপন করা বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক হবে না।

তবে বাংলাদেশের তথ্য যাচাইয়ের উপাত্ত এবং আন্তর্জাতিক গবেষণাগুলো পাশাপাশি রাখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। কৃত্রিম বা পরিবর্তিত বিষয়বস্তু বাংলাদেশের তথ্যপরিবেশেও উপস্থিত। একই সময়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা দেখাচ্ছে, সাধারণ মানুষের পক্ষে এসব বিষয় শুধু চোখে দেখে নির্ভরযোগ্যভাবে শনাক্ত করা কঠিন।

তাহলে সত্য-মিথ্যা বোঝার উপায় কী
ডিপফেকের যুগে প্রথম নিয়ম হওয়া উচিত, ভিডিও দেখেই সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস না করা।

কোনো ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ কোনো দাবি করলে প্রথমেই এর উৎস খুঁজতে হবে। ভিডিওটি প্রথম কে প্রকাশ করেছে? সেটি কি মূল উৎস? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার নিজস্ব মাধ্যমে একই বক্তব্য বা ঘটনার কোনো তথ্য আছে কি না, সেটি দেখা দরকার।

দ্বিতীয়ত, একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎসে তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সত্য হলে তার অন্য স্বাধীন সংবাদ প্রতিবেদন, ছবি, ভিডিও, সরকারি বক্তব্য বা প্রত্যক্ষ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। শুধু একটি ফেসবুক পেজ, টিকটক হিসাব বা অপরিচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবের ভিডিওকে একমাত্র প্রমাণ হিসেবে ধরা উচিত নয়।

তৃতীয়ত, ভিডিওর প্রেক্ষাপট যাচাই করতে হবে। ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছে? কোথায়? কোন ঘটনার সময়? বক্তব্যের আগে ও পরে কী বলা হয়েছিল? কয়েক বছর আগের কোনো ভিডিওকে নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।

চতুর্থত, কণ্ঠ ও ভাষার দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। কণ্ঠের ওঠানামা, উচ্চারণ, বক্তব্যের ধরন, শব্দের ব্যবহার এবং বক্তব্যের সঙ্গে ব্যক্তির পরিচিত আচরণ মিলছে কি না, সেগুলো কিছুটা ধারণা দিতে পারে। তবে এগুলোও চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

পঞ্চমত, প্রযুক্তিগত যাচাই ব্যবহার করা যেতে পারে। ছবির উৎস খোঁজা, ফাইলের তথ্য বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা কিছু ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু এগুলোর কোনোটিকেই এককভাবে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে কোনো ফাইল বারবার আপলোড বা পরিবর্তন হলে ফাইলের মূল তথ্য হারিয়ে যেতে পারে। একইভাবে কোনো একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শনাক্তকারী ব্যবস্থার ফলও ভুল হতে পারে।

বরং সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো একাধিক স্তরে যাচাই করা। উৎস, সময়, স্থান, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট, অন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং প্রয়োজনে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ সবগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করা।

শুধু ‘ভুয়া’ শনাক্ত করাই কি যথেষ্ট
ডিপফেকের ঝুঁকি শুধু মানুষকে মিথ্যা বিশ্বাস করানোতে সীমাবদ্ধ নয়। এর আরেকটি সম্ভাব্য বিপদ হলো, মানুষ ধীরে ধীরে সত্যিকেও সন্দেহ করতে শুরু করতে পারে।

যদি মানুষ মনে করতে শুরু করে, ‘যেকোনো ভিডিওই তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানানো হতে পারে’, তাহলে সত্যিকার ভিডিও, বক্তব্য বা প্রমাণ নিয়েও অযথা সন্দেহ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ডিপফেকের এই সম্ভাব্য প্রভাব শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য নয়, সংবাদমাধ্যম, জনআস্থা, বিচারিক প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক তথ্যপরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

৯২৪ জনের গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা ডিপফেকের সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে ভুল তথ্য, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, অপরাধমূলক অপব্যবহার ও সুনাম ক্ষতির মতো বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অর্থাৎ সমস্যাটি শুধু ‘একটি ভিডিও ভুয়া কি না’ এই প্রশ্নে আটকে নেই। প্রশ্নটি আরও বড়। মানুষ কীভাবে ভবিষ্যতে ডিজিটাল প্রমাণের ওপর আস্থা রাখবে, সংবাদমাধ্যম কীভাবে বিষয়বস্তু যাচাই করবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কৃত্রিম বিষয়বস্তুর মধ্যে সত্যিকার তথ্য কীভাবে আলাদা করা হবে, সেসবও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

সাংবাদিকতার জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বড়
ডিপফেকের যুগে সাংবাদিকদের দায়িত্বও বদলাচ্ছে। আগে কোনো ভিডিও বা ছবি পাওয়ার পর সেটির স্থান, সময় ও উৎস যাচাই করাই ছিল মূল কাজ। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিষয়টি আদৌ কৃত্রিমভাবে তৈরি বা পরিবর্তন করা হয়েছে কিনা, সেই প্রশ্নও।

একটি ভিডিও যদি কোনো গুরুত্বপূর্ণ দাবি করে, সাংবাদিকের উচিত শুধু ভিডিওটি দেখে খবর প্রকাশ না করা। ভিডিওটির প্রথম উৎস খুঁজে বের করা, মূল ফাইল পাওয়া গেলে সেটি পরীক্ষা করা, একই ঘটনার অন্য ভিডিও বা ছবি খোঁজা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং স্বাধীন উৎসের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিশেষ করে কোনো ভিডিও যদি রাজনৈতিক, সামাজিক, অপরাধমূলক বা জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ দাবি বহন করে, তাহলে যাচাইয়ের স্তর আরও শক্ত হওয়া দরকার। কারণ একটি ভুলভাবে প্রকাশিত ডিপফেক শুধু একটি ভুল খবর তৈরি করে না, এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুনাম, জনমত এবং বৃহত্তর তথ্যপরিবেশেও প্রভাব ফেলতে পারে।

মানুষকে কি শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে
না। বরং গবেষণাগুলোর ফল থেকে যে বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে সামনে আসে তা হলো, মানুষের বিচারবোধ ও প্রযুক্তিগত যাচাই দুটিকে একসঙ্গে ব্যবহার করা প্রয়োজন।

কান্টার ও ভেরিফের গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু মানুষের চোখের ওপর নির্ভর করলে ফল খুব সীমিত হতে পারে। আবার তরুণদের নিয়ে করা গবেষণায় দেখা গেছে, শব্দ, ভাষা ও প্রেক্ষাপটের মতো বিভিন্ন ধরনের তথ্য একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে ৯২৪ জনের গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ প্রযুক্তির সম্ভাব্য সুবিধা স্বীকার করলেও ভুল তথ্য ও গোপনীয়তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগও রাখে।

তাই ভবিষ্যতের তথ্য যাচাই সম্ভবত শুধু ‘মানুষ বনাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ হবে না। বরং মানুষ, প্রযুক্তি, উৎস যাচাই এবং প্রাতিষ্ঠানিক যাচাই সবগুলোকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর প্রয়োজন হবে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা কী
ডিপফেক শনাক্ত করার জন্য কোনো একক জাদুকরী কৌশল নেই। চোখের নড়াচড়া, মুখের গঠন, ঠোঁটের নড়াচড়া, কণ্ঠের ওঠানামা বা আলোছায়া দেখে কিছু লক্ষণ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু এগুলোর কোনোটিই সব পরিস্থিতিতে নিশ্চিত প্রমাণ নয়।

সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো বরং অন্য একটি শিক্ষা দেয়। মানুষ অনেক সময় নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে যতটা আত্মবিশ্বাসী, বাস্তবে তার শনাক্ত করার নির্ভুলতা ততটা ভালো নাও হতে পারে। কান্টার ও ভেরিফের গবেষণায় এই আত্মবিশ্বাস ও বাস্তব সক্ষমতার ব্যবধান স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে তরুণদের নিয়ে করা গবেষণায় দেখা গেছে, প্রেক্ষাপট, শব্দ ও ভাষার মতো একাধিক ধরনের তথ্য বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বাংলাদেশের তথ্যপরিবেশেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট ভুল তথ্যের উপস্থিতি এখন নথিভুক্ত। ফ্যাক্টচেকবিডির জানুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৬ সালের সমন্বিত উপাত্তে ৪১৬টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট ঘটনা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে আনুমানিক ৩৫ শতাংশ ছিল ডিপফেক ভিডিও। তবে এই সংখ্যা বাংলাদেশের সব ভুল তথ্যের পূর্ণ চিত্র নয়। এটি প্রকাশ্যে যাচাই করা ঘটনার একটি উপাত্ত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা আরও বাড়ার সঙ্গে কৃত্রিম বিষয়বস্তু আরও বাস্তবসম্মত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতের তথ্যজগতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা শুধু ‘ভুয়া ধরতে পারা’ নয়। বরং কোনো তথ্য বিশ্বাস করার আগে তার উৎস, প্রেক্ষাপট ও স্বাধীন প্রমাণ খুঁজে দেখার অভ্যাস তৈরি করা।

কারণ এখন আর প্রশ্নটা শুধু, ‘এটা দেখতে সত্যি কিনা?’ বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ‘এটা সত্য, তার প্রমাণ কী?’

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হ্যাকারদের নিশানায় আইফোন, সতর্কবার্তা অ্যাপলের
আইফোন ও আইপ্যাড ব্যবহারকারীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছে অ্যাপল। পুরোনো সংস্করণের সফটওয়্যারে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ায় দ্রুত ডিভাইস হালনাগাদ করার পরামর্শ দিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।
হ্যাকারদের নিশানায় আইফোন, সতর্কবার্তা অ্যাপলের
২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর কি সত্যিই ধ্বংস হবে পৃথিবী?
২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে এমন একটি ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৯৬০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন অস্ট্রিয়ায় জন্ম নেওয়া মার্কিন অধ্যাপক ও সাইবারনেটিকস বিশেষজ্ঞ হাইঞ্জ ফন ফোরস্টার এবং তার দুই শিক্ষার্থী প্যাট্রিসিয়া এম মোরা ও লরেন্স ডব্লিউ আমিট।
২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর কি সত্যিই ধ্বংস হবে পৃথিবী?
সৌভাগ্যবান ১৭ জনের জন্য বাজারে এলো আইফোন, দাম কত?
প্রযুক্তি আর বিলাসিতার মেলবন্ধনে নতুন চমক দেখাল বিলাসবহুল পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাভিয়ার। অ্যাপলের ভাঁজযোগ্য আইফোনের বিশেষ সংস্করণ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যার সর্বোচ্চ দাম ২১ হাজার ৩৪০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৬ লাখ টাকা।
সৌভাগ্যবান ১৭ জনের জন্য বাজারে এলো আইফোন, দাম কত?
এআইয়ের যুগে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি: চাকরি যাচ্ছে, নাকি বদলে যাচ্ছে কাজের ধরন?
একসময় একটি সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোড লিখতে হতো। ছোট একটি ত্রুটি খুঁজে বের করতেও ডেভেলপারকে ডকুমেন্টেশন, অনলাইন ফোরাম কিংবা পুরোনো কোড ঘেঁটে দেখতে হতো। নতুন কোনো প্রোগ্রামিং ভাষা শেখার ক্ষেত্রেও সময় লাগত কয়েক সপ্তাহ কিংবা মাস। এখন সেই বাস্তবতা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বা এআই কোডিং টুল কয়েক মুহূর্তের মধ্যে কোড লিখে দিতে পারছে, ভুল শনাক্ত করতে পারছে, টেস্ট কেস তৈরি করছে, ডকুমেন্টেশন লিখছে এবং পুরোনো কোডের জটিল অংশ বুঝিয়ে দিতে পারছে। এমনকি সফটওয়্যারের প্রাথমিক কাঠামো তৈরিতেও সহায়তা করছে এসব প্রযুক্তি। এর ফলে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে এআই কি সফটওয়্যার ডেভেলপারের কাজ কেড়ে নিচ্ছে, নাকি ডেভেলপারের কাজের ধরনই বদলে দিচ্ছে? বিশ্বজুড়ে পাওয়া সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। সফটওয়্যার তৈরির অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ এআইয়ের মাধ্যমে দ্রুত সম্পন্ন হলেও সফটওয়্যার ডেভেলপারের প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি কমে যাচ্ছে এমন প্রবণতা এখনো স্পষ্ট নয়। বরং বদলে যাচ্ছে কাজের ধরন, নিয়োগে চাওয়া দক্ষতা এবং কর্মীদের দায়িত্ব। দ্রুত বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার স্ট্যাক ওভারফ্লোর ২০২৫ সালের ডেভেলপার সার্ভে অনুযায়ী, ৮৪ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের ডেভেলপমেন্ট প্রক্রিয়ায় এআই টুল ব্যবহার করছেন অথবা ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৭৬ শতাংশ। পেশাদার ডেভেলপারদের ৫১ শতাংশ প্রতিদিন এআই টুল ব্যবহার করছেন। ১৭৭টি দেশের ৪৯ হাজারের বেশি ডেভেলপার এই জরিপে অংশ নেন। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে এআইয়ের ব্যবহার শুধু কোড লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কোড তৈরি ও সম্পন্ন করা, ত্রুটি শনাক্ত ও সমাধান, সফটওয়্যার পরীক্ষা, টেস্ট কেস তৈরি, ডকুমেন্টেশন, কোডের কাঠামো পরিবর্তন, পুরোনো কোড বোঝা এবং বিভিন্ন পুনরাবৃত্তিমূলক কাজেও এআই ব্যবহার হচ্ছে। গিটহাবের ২০২৪ সালের এক জরিপেও একই ধরনের চিত্র পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, জার্মানি ও ভারতের ২ হাজার সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট পেশাজীবীর মধ্যে ৯৭ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, তারা কোনো না কোনো সময় এআই কোডিং টুল ব্যবহার করেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ডেভেলপাররা জানিয়েছেন, এসব টুল ডেভেলপমেন্টের দক্ষতা, সফটওয়্যার পরীক্ষা, কোডের মান এবং পুরোনো কোডবেজ বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হচ্ছে। এআই ব্যবহারে সাশ্রয় হওয়া সময় সিস্টেম ডিজাইন, সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ এবং গ্রাহকের প্রয়োজন বোঝার মতো কাজে ব্যয় করা যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তারা। অর্থাৎ এআই সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের জায়গা দখল করছে এমন চিত্রের চেয়ে সফটওয়্যার তৈরির প্রক্রিয়ার ভেতরে এআই নতুন একটি সহকারী হিসেবে ঢুকে পড়ছে এমন চিত্রই বেশি স্পষ্ট। এআইয়ের ওপর পুরোপুরি আস্থা নেই ডেভেলপারদের এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও এর দেওয়া ফলাফলের ওপর ডেভেলপারদের অন্ধ আস্থা তৈরি হয়নি। স্ট্যাক ওভারফ্লোর একই জরিপে ৪৬ শতাংশ ডেভেলপার এআই টুলের ফলাফলের নির্ভুলতা নিয়ে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে ৩৩ শতাংশ এআইয়ের ফলাফলের নির্ভুলতায় আস্থা রেখেছেন। ৬৬ শতাংশ ডেভেলপার জানিয়েছেন, এআইয়ের দেওয়া সমাধান অনেক সময় প্রায় সঠিক হলেও পুরোপুরি সঠিক হয় না। আবার ৪৫ শতাংশ বলেছেন, এআই দিয়ে তৈরি কোডে ত্রুটি খুঁজে ঠিক করতে কখনো কখনো আরও বেশি সময় লাগে। অর্থাৎ এআই কোড লিখে দিতে পারলেও সেই কোড সঠিক কি না, নিরাপদ কি না এবং পুরো সফটওয়্যার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা যাচাইয়ের দায়িত্ব এখনো মানুষের কাছেই থাকছে। এখানেই সফটওয়্যার ডেভেলপারের কাজের পরিবর্তনটি সবচেয়ে স্পষ্ট। আগে একজন ডেভেলপারের বড় একটি অংশের সময় কোড লেখায় ব্যয় হতো। এখন একই ডেভেলপার এআই দিয়ে কোড তৈরি করিয়ে সেটি যাচাই, সংশোধন, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং পুরো সিস্টেমের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার কাজে বেশি সময় দিতে পারেন। নির্দিষ্ট কাজে বাড়ছে উৎপাদনশীলতা এআই সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে কী ধরনের পরিবর্তন আনছে, তার একটি চিত্র পাওয়া যায় গিটহাবের গবেষণায়। গিটহাবের একটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষায় নির্দিষ্ট কোডিং কাজ কপাইলট ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ দ্রুত সম্পন্ন করেছিলেন। তবে এই ফলাফলকে পুরো সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির হার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ছিল নির্দিষ্ট একটি কোডিং কাজের ওপর পরিচালিত পরীক্ষা। অন্যদিকে স্ট্যাক ওভারফ্লোর ২০২৫ সালের জরিপে ৫২ শতাংশ ডেভেলপার জানিয়েছেন, এআই টুল বা এআই এজেন্ট তাদের উৎপাদনশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৬৯ শতাংশ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। ফলে এআইয়ের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব হিসেবে চাকরি বিলুপ্তির চেয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কাজের পুনর্বণ্টনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চাকরি কি তাহলে কমে যাবে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুধু ডেভেলপারদের জরিপ নয়, বৈশ্বিক শ্রমবাজারের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০২৫ সালের গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় প্রতি চারটি চাকরির একটি কোনো না কোনো মাত্রায় জেনারেটিভ এআইয়ের সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে এ ধরনের চাকরির হার প্রায় ৩৪ শতাংশ। তবে আইএলওর বিশ্লেষণ বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরো চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার চেয়ে কাজের ধরন পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। প্রায় ৩০ হাজার পেশাগত কাজ বিশ্লেষণ করে এ মূল্যায়ন তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো একটি পেশার কিছু কাজ এআইয়ের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে, কিন্তু পুরো পেশাটিই এআই দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়ে যাবে এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং মানে শুধু কোড লেখা নয়। একটি সফটওয়্যার সিস্টেম তৈরি করতে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বোঝা, আর্কিটেকচার তৈরি, ডেটাবেজ ডিজাইন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরীক্ষা, ডেপ্লয়মেন্ট, রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্রাহকের ব্যবসায়িক সমস্যা বোঝার মতো কাজও থাকে। এসব কাজের বড় অংশেই মানুষের সিদ্ধান্ত ও বিচারবোধ প্রয়োজন। সফটওয়্যার ডেভেলপারের চাহিদা কি সত্যিই কমছে? যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসও ভিন্ন একটি চিত্র দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সফটওয়্যার ডেভেলপারদের কর্মসংস্থান ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময়ে প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ৭০০টি নতুন সফটওয়্যার ডেভেলপার চাকরি যুক্ত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে সব ধরনের পেশা মিলিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ১ শতাংশ। তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও ডেটা বিজ্ঞানীর মতো প্রযুক্তিনির্ভর পেশাতেও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে। তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষকের কর্মসংস্থান ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ডেটা বিজ্ঞানীর ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘ফিউচার অব জবস রিপোর্ট ২০২৫’-এও সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারদের ২০২৫ থেকে ২০৩০ সময়ে দ্রুত বাড়তে থাকা চাকরির তালিকায় রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির মধ্যেও সফটওয়্যার ডেভেলপার পেশা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কোনো পূর্বাভাস নেই। তবে ভবিষ্যতের সফটওয়্যার চাকরি বর্তমানের মতো থাকবে না এ বিষয়টি ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে বড় চাপ কি জুনিয়র ডেভেলপারদের ওপর? এআইয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিচ্ছে এন্ট্রি লেভেল বা জুনিয়র সফটওয়্যার ডেভেলপারদের ক্ষেত্রে। কারণ রুটিন কোডিংয়ের বড় একটি অংশ এখন এআই টুল দিয়ে দ্রুত করা সম্ভব। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসানের অভিজ্ঞতায়, এআই ব্যবহারে আগে দুই ঘণ্টা লাগা কিছু কাজ অনেক ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ মিনিটে করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে তথ্য খোঁজা, ডকুমেন্টের খসড়া তৈরি, কোডের সমস্যা শনাক্ত করা, নতুন ধারণা বের করা এবং প্রতিবেদন বা উপস্থাপনার প্রাথমিক কাঠামো তৈরিতে সময় অনেক কমে গেছে। তবে তার মতে, এআইয়ের তৈরি ফলাফল যাচাই করতে মানুষের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা এখনো প্রয়োজন। এআইকে সরাসরি চাকরির হুমকি হিসেবে দেখার চেয়ে পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে দেখা উচিত বলেও মনে করেন তিনি। তবে পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের ক্ষেত্রে এআইয়ের প্রভাব বেশি হতে পারে বলে তার আশঙ্কা। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল আল মাহিনের অভিজ্ঞতায়, এআইয়ের কারণে কিছুটা চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার আশঙ্কা, বিশেষ করে জুনিয়র পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানগুলো কম কর্মী দিয়ে বেশি কাজ করানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে যারা এআইকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়াবে, তাদের জন্য সুযোগও তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি। দুই শিক্ষার্থীর বক্তব্যেই একটি বিষয় স্পষ্ট এআই নিয়ে ভয় যেমন আছে, তেমনি এআইকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আরও দক্ষ করে তোলার প্রয়োজনীয়তাও তারা অনুভব করছেন। বদলে যাচ্ছে জুনিয়র ডেভেলপারের সংজ্ঞা এআই-সহায়িত সফটওয়্যার তৈরির কারণে জুনিয়র ডেভেলপারের সংজ্ঞাও পরিবর্তিত হচ্ছে। আগে একজন সিএসই গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামিং ভাষা, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কিংবা ছোট প্রকল্পের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করতেন। এখন সেই কাজের কিছু অংশ এআই খুব দ্রুত করে দিতে পারে। মেহেদী হাসানের মতে, শুধু প্রোগ্রামিং ভাষা জানা এখন যথেষ্ট নয়। একজন ডেভেলপারের ফ্রন্টএন্ড, ব্যাকএন্ড ও ডেটাবেজের সম্পর্ক, এপিআই, গিট, ক্লাউড, ডেপ্লয়মেন্ট ও সিআই/সিডি সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সিস্টেম ডিজাইন ও সফটওয়্যার আর্কিটেকচারের প্রাথমিক ধারণা এবং এআই টুল কার্যকরভাবে ব্যবহারের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পরিবর্তনটি এখানেই। এআই যদি প্রাথমিক বা পুনরাবৃত্তিমূলক কোড লিখে দিতে পারে, তাহলে একজন নতুন ডেভেলপারের মূল্যায়ন শুধু সে কত দ্রুত কোড লিখতে পারে—এতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং সে সমস্যাটি কতটা বুঝতে পারে, এআইয়ের তৈরি কোড যাচাই করতে পারে কি না এবং পুরো সিস্টেম কীভাবে কাজ করে তা বোঝে কি না এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রেও দ্রুত বাড়ছে এআই বাংলাদেশের বাস্তবতাতেও এআই ব্যবহারের বিস্তার দেখা যাচ্ছে। টেলিনর এশিয়ার ‘ডিজিটাল লাইভস ডিকোডেড ২০২৫’ গবেষণায় বাংলাদেশের ১ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ওপর জরিপ করা হয়। এতে ৯৬ শতাংশ ব্যবহারকারী নিয়মিত এআই ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৮৮ শতাংশ। কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের হারও বেড়েছে। ২০২৫ সালে কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের হার ৬২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের বছর ছিল ৪৪ শতাংশ। এআই ব্যবহারকারীদের মধ্যে কনটেন্ট তৈরি ও তথ্য বিশ্লেষণ উল্লেখযোগ্য ব্যবহারক্ষেত্র ছিল। কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারকারীদের ৪২ শতাংশ কোড লেখার টুল ব্যবহার করেন। তবে একই গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারকারীদের মাত্র প্রায় অর্ধেক জানিয়েছেন যে তাদের প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক এআই কৌশল রয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে এআই গ্রহণের গতি অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর আনুষ্ঠানিক নীতিমালা তৈরির গতির চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি কি সংকটে? বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও আইটি সেবা খাতের আকারও ছোট নয়। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি আইটি ও আইটিইএস প্রতিষ্ঠান এবং ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি পেশাজীবী রয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যালান্স অব পেমেন্টস তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে টেলিকম, কম্পিউটার ও তথ্যসেবা থেকে দেশের সেবা আয় ছিল ৭২৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ আয় ছিল ৬৭২ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। গত পাঁচ বছরের তথ্যেও বাংলাদেশের আইটি সেবা রপ্তানিতে ওঠানামার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে পুনরুদ্ধারের চিত্র দেখা যায়। ২০২০-২১ অর্থবছরে আইসিটি সেবা রপ্তানি ছিল প্রায় ৪৩৬ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ৭৩৮ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কমে হয় ৬৬৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৬৭২ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৭২৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। অর্থাৎ এআই আসার পর বাংলাদেশের সফটওয়্যার ও আইটি সেবা খাত দ্রুত সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে এমন চিত্র এসব রপ্তানি তথ্য দিচ্ছে না। বরং বড় প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ কাজের ধরন কী হবে। বদলে যাচ্ছে দক্ষতার চাহিদা বাংলাদেশের ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট অথরিটির দক্ষতার ঘাটতি-সংক্রান্ত তথ্যেও নতুন দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। ১৫০টি আইটি ও আইটিইএস প্রতিষ্ঠানের ওপর করা জরিপে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, প্রোগ্রামিং ভাষা, সফটওয়্যার টেস্টিং, ডেটাবেজ এবং নেটওয়ার্ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণের চাহিদা পাওয়া গেছে। সফটওয়্যার টেস্টিং প্রশিক্ষণে ৮১ শতাংশ এবং ডেটাবেজ-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ ছিল। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু কর্মী কমানোর দিকে যাচ্ছে এমন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। কর্মীদের নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট। এখানে এআই নতুন একটি স্তর যোগ করছে। এখন একজন ডেভেলপারের শুধু কোড লেখার দক্ষতা থাকলেই হচ্ছে না; এআই দিয়ে তৈরি কোড যাচাই, সিস্টেম আর্কিটেকচার বোঝা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যবসায়িক সমস্যার প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরির দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীরা কী ভাবছে? বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর করা সাম্প্রতিক গবেষণাতেও এআই নিয়ে দ্বৈত মনোভাবের চিত্র পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের জুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে করা এক গবেষণা ২০২৬ সালে প্রকাশিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এআই যত চাকরি নষ্ট করবে তার চেয়ে বেশি চাকরি তৈরি করবে এমন মত দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। একই সময়ে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী এআইয়ের কারণে দক্ষতার অমিল বা স্কিল মিসম্যাচ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ হার ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৬ শতাংশ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে ক্যারিয়ারে সফলতার জন্য এআই-জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৪ শতাংশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৮ শতাংশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের বড় অংশ এআইকে শুধু চাকরি হারানোর কারণ হিসেবে দেখছে না; বরং ভবিষ্যৎ চাকরির বাজারে টিকে থাকার জন্য এআই-জ্ঞানকে প্রয়োজনীয় দক্ষতা হিসেবেও দেখছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাব্যবস্থাতেও পরিবর্তন এআইয়ের প্রভাব শুধু সফটওয়্যার কোম্পানিতে সীমাবদ্ধ নেই। কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষাব্যবস্থাও পরিবর্তনের মুখে পড়েছে। এসিএম, আইইইই কম্পিউটার সোসাইটি এবং এএএআই-এর সিএস২০২৩ কারিকুলামে এআইকে কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষার মধ্যে আরও বিস্তৃতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও মূল কম্পিউটার বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান বাদ দেওয়া হয়নি। বরং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর মৌলিক ধারণা, এআই নৈতিকতা এবং এর সামাজিক প্রভাবের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসিএম-এর জেনারেটিভ এআই ও কারিকুলামবিষয়ক আলোচনাতেও রুটিন কোডিং বা শুধু সিনট্যাক্স শেখানোর পাশাপাশি উচ্চতর পর্যায়ের ধারণা, সমস্যা সমাধান এবং মৌলিক কম্পিউটার বিজ্ঞান জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ এআই কোড লিখতে পারলেও প্রোগ্রামিংয়ের মৌলিক জ্ঞানের প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং একজন শিক্ষার্থী এআইয়ের তৈরি কোড বুঝতে, যাচাই করতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারছে কি না সেটিই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতের ডেভেলপার কেমন হবে? সব তথ্য এক জায়গায় রাখলে সফটওয়্যার শিল্পের পরিবর্তনের একটি চিত্র স্পষ্ট হয়। আগের সফটওয়্যার ডেভেলপারের বড় দক্ষতা ছিল প্রোগ্রামিং ভাষা জানা এবং কোড লেখা। ভবিষ্যতের ডেভেলপারের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সিস্টেম আর্কিটেকচার, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটাবেজ, ক্লাউড, সমস্যা সমাধান, এআই টুল ব্যবহার, কোড যাচাই এবং মানুষের তত্ত্বাবধান। গিটহাবের গবেষণায়ও ডেভেলপাররা জানিয়েছেন, এআই ব্যবহারে সময় বাঁচিয়ে তারা সিস্টেম ডিজাইন, সহযোগিতামূলক কাজ এবং গ্রাহকের প্রয়োজন বোঝার মতো কাজে বেশি সময় দিতে পারছেন। স্ট্যাক ওভারফ্লোর জরিপে এআই ব্যবহারের হার যেমন বেড়েছে, তেমনি এআইয়ের ফলাফল যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট হয়েছে। এ কারণে ভবিষ্যতের ডেভেলপার হয়তো শুধু ‘কোড লেখক’ থাকবেন না। তিনি হয়ে উঠবেন এআই-সহায়িত সমস্যা সমাধানকারী—যিনি প্রয়োজন অনুযায়ী এআই দিয়ে কোড তৈরি করবেন, সেই কোডের ভুল ধরবেন, নিরাপত্তা যাচাই করবেন এবং পুরো সিস্টেমের কার্যকারিতা নিশ্চিত করবেন। তাহলে সংকট কোথায়? সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির সামনে কোনো সংকট নেই এমনটাও বলা যায় না। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে সেই কাজগুলোর ক্ষেত্রে, যেগুলো পুনরাবৃত্তিমূলক, পূর্বানুমানযোগ্য এবং সহজে স্বয়ংক্রিয় করা যায়। একই সঙ্গে নতুনদের শিল্পে প্রবেশের পথও বদলে যেতে পারে। যে কাজগুলো দিয়ে একজন জুনিয়র ডেভেলপার আগে অভিজ্ঞতা অর্জন করতেন, সেগুলোর কিছু অংশ এআই করে ফেলতে পারলে এন্ট্রি-লেভেল ডেভেলপারকে শুরু থেকেই আরও বিস্তৃত দক্ষতা দেখাতে হতে পারে। তবে এর বিপরীতে এআই নতুন ধরনের কাজেরও সৃষ্টি করছে। এআই ইন্টিগ্রেশন, তথ্য বিশ্লেষণ, সাইবার নিরাপত্তা, এআই-সহায়িত সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, সিস্টেম আর্কিটেকচার এবং এআইভিত্তিক পণ্যের মতো ক্ষেত্রে নতুন দক্ষতার প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে এআইয়ের কারণে কর্মী কমানোর কথা ভাবছে, অন্যদিকে এআই-সম্পর্কিত দক্ষতার কর্মী নিয়োগ এবং বিদ্যমান কর্মীদের নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করার পরিকল্পনাও করছে। শেষ পর্যন্ত এআই কী বদলাচ্ছে? সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে এআইয়ের প্রভাবকে শুধু ‘চাকরি যাবে’ কিংবা ‘চাকরি বাড়বে’ এই দুই ভাগে দেখলে বাস্তব পরিবর্তনের বড় অংশটি বাদ পড়ে যায়। বর্তমান তথ্য বরং বলছে, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের রুটিন কাজের একটি অংশ দ্রুত স্বয়ংক্রিয় হচ্ছে, এআই-সহায়িত ডেভেলপমেন্টে উৎপাদনশীলতা বাড়ছে এবং একই সঙ্গে ডেভেলপারদের কাজের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বিশ্লেষণেও জেনারেটিভ এআইয়ের ক্ষেত্রে পুরো চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার চেয়ে কাজের ধরন পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সফটওয়্যার ডেভেলপারদের কর্মসংস্থানের ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের পূর্বাভাসেও পেশাটির বিলুপ্তির কোনো চিত্র নেই; বরং ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে ভবিষ্যতের সফটওয়্যার কর্মসংস্থান বর্তমানের মতো থাকবে না এটি ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। একজন ডেভেলপারের মূল্য শুধু তিনি কত দ্রুত কোড লিখতে পারেন, তার ওপর নির্ভর না করে তিনি কত ভালোভাবে সমস্যা বুঝতে পারেন, এআইয়ের ফলাফল যাচাই করতে পারেন, সিস্টেম ডিজাইন করতে পারেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন এবং প্রযুক্তিকে বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধানে কাজে লাগাতে পারেন তার ওপর আরও বেশি নির্ভর করবে। অর্থাৎ, এআই সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিকে সরিয়ে দিচ্ছে এমন প্রমাণের চেয়ে এআই সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির *কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে* এমন প্রমাণই এখন বেশি দৃশ্যমান। প্রশ্ন তাই শুধু ‘এআই কতজনের চাকরি নেবে’ নয়। বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এআইয়ের সঙ্গে কাজ করার জন্য আগামী দিনের কর্মী কতটা প্রস্তুত? আরটিভি/টিআর
406984
কিশোর-কিশোরীদের হোয়াটসঅ্যাপে নিরাপত্তা দিতে নতুন সুবিধা চালু
কিশোর-কিশোরী হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার আরও নিরাপদ ও বয়স উপযোগী করতে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সুবিধা চালু করেছে হোয়াটসঅ্যাপ। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে সন্তান কোনো গ্রুপে যোগ দিলে বা গ্রুপ থেকে বের হয়ে গেলে অভিভাবকেরা জানতে পারবেন। পাশাপাশি সন্তানের অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন গোপনীয়তা সেটিংসও নির্ধারণ করে দিতে পারবেন তারা।  শিশুদের জন্য নিরাপদ ও বয়স উপযোগী অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি-প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিভিন্ন দেশের সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাপ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন এই সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। হোয়াটসঅ্যাপের প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সুবিধায় অভিভাবকেরা নির্ধারণ করে দিতে পারবেন, কোন কোন ব্যক্তি তাঁদের সন্তানের প্রোফাইল ছবি দেখতে পারবেন এবং কারা তাকে কোনো গ্রুপে যুক্ত করতে পারবেন। সন্তান হোয়াটসঅ্যাপের ‘চ্যানেলস’ সুবিধা কীভাবে ব্যবহার করবে, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন তারা। তবে নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে সন্তানের ব্যক্তিগত বার্তা পড়ার সুযোগ পাবেন না অভিভাবকেরা।  ফলে সন্তান যেসব বার্তা পাঠাবে বা গ্রহণ করবে, সেগুলো ব্যক্তিগতই থাকবে। ফোনকলের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ফলে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সুবিধা চালু থাকলেও কিশোর-কিশোরীদের আদান–প্রদান করা বার্তা ও কল এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকবে। প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সুবিধা কাজে লাগিয়ে অভিভাবকেরা চাইলে হোয়াটসঅ্যাপে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহকারী ‘মেটা এআই’ ব্যবহারও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এ জন্য হোয়াটসঅ্যাপের ডিফল্ট ‘১৩+’ সেটিংস থেকে ‘লিমিটেড কনটেন্ট’ অপশন বেছে নিতে হবে। তবে হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সুবিধা ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়। অভিভাবকেরা চাইলে যেকোনো সময় সুবিধাটি বন্ধ করতে পারলেও কিশোর-কিশোরীরা নিজ থেকে বন্ধ করতে পারবে না। হোয়াটসঅ্যাপের নতুন প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সুবিধা ঐচ্ছিক হওয়ায় এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষক ম্যাট নাভারা।  তার মতে, এই ব্যবস্থা মেটার জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। কারণ, এতে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের কার্যক্রম কিছুটা কমবে। শুধু তা–ই নয়, কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন নিরাপত্তার দায়িত্বের একটি অংশ অভিভাবক ও ব্যবহারকারীদের ওপর বর্তাবে। সূত্র: বিবিসি আরটিভি/এসআর
কিশোর-কিশোরীদের হোয়াটসঅ্যাপে নিরাপত্তা দিতে নতুন সুবিধা চালু
আরও পড়ুন
চুল পাকার সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে বিজ্ঞানীদের নতুন ইঙ্গিত
নারী-পুরুষের ফ্লার্টের ধরন নিয়ে গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
চট্টগ্রামে বিসিএসআইআর গবেষণা কেন্দ্রে হঠাৎ এসি বিস্ফোরণ
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলা বাড়াচ্ছে এআই, নতুন প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য