
ফ্লার্টের ধরন নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন হলেও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাদের পছন্দের বেশির ভাগ কৌশল একই— এমন তথ্য উঠে এসেছে কয়েকটি গবেষণায়।
২০১৫ সালে টি. জোয়েল ওয়েড ও জেনিফার স্লেম্প চারটি গবেষণায় নারী-পুরুষের ফ্লার্টের বিভিন্ন আচরণ বিশ্লেষণ করেন। এতে দেখা যায়, পুরুষদের কাছে নারীর শারীরিক ঘনিষ্ঠতা—যেমন কাছে এসে দাঁড়ানো, স্পর্শ করা বা বাহুতে হাত রাখা— আগ্রহ প্রকাশের কার্যকর সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
অন্যদিকে নারীরা শারীরিক ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি হাত ধরা, একসঙ্গে সময় কাটানোর আগ্রহ, বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তাব, হাসানো, আগ্রহ প্রকাশ এবং একসঙ্গে রাতের খাবারে যাওয়ার মতো আচরণকেও কার্যকর ফ্লার্ট হিসেবে দেখেছেন।
২০২২ সালে নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা ৯৯২ জন বিষমকামী মানুষের ওপর ৪০ ধরনের ফ্লার্টিং কৌশল নিয়ে আরেকটি গবেষণা করেন। এতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে ফ্লার্টের কার্যকারিতায় পার্থক্য পাওয়া যায়।
স্বল্পমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারীদের শারীরিক আকর্ষণ ও যৌন আগ্রহের সংকেত তুলনামূলক বেশি কার্যকর বলে বিবেচিত হয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রেও শারীরিক আকর্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও হাসি, কথাবার্তায় আগ্রহ, প্রশংসা ও হাসানোর মতো আচরণও কার্যকর বলে উঠে এসেছে।
দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য উদারতা, প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত, যত্ন, রসবোধ ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলাকে বেশি কার্যকর মনে করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের কার্যকর ফ্লার্টের শীর্ষ ১০টি কৌশলের মধ্যে নয়টিই ছিল অভিন্ন।
গবেষণায় বহির্মুখী স্বভাব, নিজের আকর্ষণীয়তা সম্পর্কে ধারণা বা ধর্মীয় বিশ্বাস ফ্লার্টের কার্যকারিতা শক্তভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণকারীরা শরীর প্রদর্শন, প্রথমে যোগাযোগ করা ও উদারতাকে কিছু ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর মনে করেছেন।
নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই কার্যকর একটি আচরণ হিসেবে উঠে এসেছে হাসি। গবেষকদের মতে, হাসি আগ্রহের সংকেত দিলেও এতে সরাসরি চাপ বা দাবি থাকে না।
আরটিভি/এমএইচজে


