
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সহিংসতার পরিকল্পনা ও আত্মহত্যায় উৎসাহ পাওয়ার ঘটনা বাড়ছে বলে নতুন এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধবিষয়ক সংগঠন এভরিটাউন ফর গান সেফটি (everytown.org)। সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় হামলাকারীরা এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থার সাহায্য নিয়েছে। এসব ঘটনায় তথ্য ও আদালতের নথি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ফ্লোরিডা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ফিনিক্স ইকনারের মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলির ঘটনায় দুজন নিহত ও পাঁচজন আহত হন। ওই ঘটনায় হত্যার অভিযোগে ইকনারের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।
আদালতের নথির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার আগে ইকনার এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থার কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকেন্দ্রে কখন সবচেয়ে বেশি মানুষ থাকে, কোন ধরনের গুলি বেশি ক্ষতি করতে পারে এবং আগ্নেয়াস্ত্র কীভাবে ব্যবহার করতে হয়—এ ধরনের তথ্য জানতে চেয়েছিলেন।
ইকনারের শিকার হওয়া তিরু চাব্বার পরিবারের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থাটি তাকে কিছু ব্যবহারিক তথ্যও দিয়েছিল। পরিবারের আইনজীবীদের দাবি, এসব কথোপকথন ইকনারের বিভ্রান্ত ধারণাকে আরও জোরালো করেছিল এবং হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাকে উৎসাহিত করেছিল।
তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ওই কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থা সহিংসতার নিন্দা করেছে এবং ইকনারের পরিকল্পনা সম্পর্কে না জেনে এমন তথ্য দিয়েছে, যা অন্যান্য প্রকাশ্য উৎস থেকেও পাওয়া সম্ভব।
এভরিটাউনের প্রতিবেদনে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলার রিজে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত গুলির ঘটনাটিও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় জেসি ভ্যান রুটসেলার আটজনকে হত্যা করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, আগের একটি হিসাব বন্ধ করে দেওয়ার পর নতুন হিসাব খুলে তিনি আবারও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনা চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে আত্মহত্যার কয়েকটি ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। অন্তত পাঁচটি মামলায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কথোপকথনভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আত্মহত্যার চিন্তায় থাকা ব্যক্তিদের সেই চিন্তাকে আরও উসকে দিয়েছে। এসব অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আটটির মধ্যে প্রায় ছয়টি ব্যবস্থাই কিশোর সেজে সহিংস হামলার পরিকল্পনায় সহায়তা চাওয়া গবেষকদের সহায়তা করতে রাজি হয়েছিল। তবে সব ব্যবস্থা একইভাবে সাড়া দেয়নি। কিছু ব্যবস্থা সহিংস হামলার পরিকল্পনায় সহায়তা করতে ধারাবাহিকভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এভরিটাউন বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি, পরিবর্তন বা সংগ্রহের বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া বন্ধ করা, কেউ নিজের বা অন্যের ক্ষতি করার ইঙ্গিত দিলে সংশ্লিষ্ট কথোপকথন মানব কর্মীদের দিয়ে পর্যালোচনা করা এবং সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত হলে প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো।
সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জাস্টিন ওয়াগনার বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থা এখন মানুষের তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তার দাবি, বিশেষ করে সংকটময় পরিস্থিতিতে এসব ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। জুনে প্রকাশিত পিউ গবেষণা কেন্দ্রের এক জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় অর্ধেক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করেন এবং প্রতি ১০ জন ব্যবহারকারীর একজন মানসিক সহায়তার জন্যও এসব ব্যবস্থার কাছে যান।
সূত্র: ইউএসএ টুডে
আরটিভি/জেএমএ


