ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

শারদীয় দুর্গোৎসবে ১৩ জেলায় ‘নিরানন্দ’ মানুষের পাশে ‘সনাতন বন্ধুরা’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

উৎসবের আলোয় যখন ঢেকে যায় শহর থেকে গ্রাম, নতুন পোশাকের সুবাসে মেতে ওঠে শিশু থেকে বৃদ্ধ—ঠিক তখনই সমাজের কোনো এক কোণে থমকে থাকে বহু অভাবী মানুষের দিন। তাদের কাছে পূজার আনন্দ মানে কেবলই দীর্ঘশ্বাস। তবে এবারও সেই মলিন মুখে হাসির ঝিলিক ফুটিয়ে এক অন্যরকম উৎসবের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের একদল তরুণ, যাদের পরিচয়ের মূল ভিত্তি একটাই—মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

সারাদেশে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পথ মাড়িয়ে ‘সনাতন বন্ধুরা সনাতন মানুষের পাশে’—নামে ভার্চুয়াল সংগঠনটি শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেশের ১৩টি জেলার ৬৭০ জন ‘নিরানন্দ’ মানুষের হাতে শারদ উপহার হিসেবে পৌঁছে দিয়েছে নতুন বস্ত্র।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির মুখপাত্র রাজীব মজুমদার জানান, গত ২০ আগস্ট থেকে সংগঠনের সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়নে ফান্ড সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। এরপর আট অক্টোবর থেকে হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা (পাইকগাছা), ফেনী, রংপুর, কক্সবাজার, গাইবান্ধা, নারায়ণগঞ্জ, সন্দ্বীপ, নড়াইল, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ এবং টাঙ্গাইল জেলার দূর-দূরান্তের গ্রামে উপহার পৌঁছানোর এই কর্মযজ্ঞ শুরু হয়।

প্রতিটি জেলার রিমোট এলাকা, পাহাড়ি চা বাগান, সুন্দরবনসংলগ্ন অবহেলিত জনপদ এবং বিভিন্ন নদীর চরাঞ্চলে ঘুরে ঘুরে মোট ৪২০ পিস শাড়ি ও ২৫০ পিস লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে।

সংগঠনের সদস্য প্রশান্ত ভৌমিক, সঞ্জয় সাহা, শুশাংকর মন্ডল, অমিত ভূঁইয়া, কল্যাণ সরকার, জীবন দাশ ও সজল সাহারা জানান, প্রথাগত কোনো বড়ো তহবিল নয়, বরং বন্ধুদের মধ্যে ভালোবাসা ভাগাভাগির এই প্রয়াস সাজাতে তারা প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। রাত-দিন এক করে অবহেলিত মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের সুখ-দুঃখের কথা শুনেছেন এবং তাদের হাতে শারদীয় শুভেচ্ছা তুলে দিয়েছেন।

একক প্রচেষ্টার চেয়ে সম্মিলিত উদ্যোগ যে কতো বড়ো পরিবর্তন আনতে পারে, তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই আয়োজন। মুখপাত্র রাজীব মজুমদার বলেন—কারো একার পক্ষে হয়তো ১০ জনকে সহযোগিতা করা সম্ভব। কিন্তু আমরা যখন সম্মিলিতভাবে হাত বাড়াই, তখন এর পরিধি হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সমাজের সচেতন মানুষ এভাবে এগিয়ে এলে কোনো উৎসবই আর নিরানন্দ থাকবে না।

সংগঠনটির সদস্য শ্রাবণী সাহা, শীবেন রয়, সজীব দাস, তুহিন ও শ্যামলীদের মতে, এই প্রচেষ্টা কেবল পোশাক বিতরণ নয়; এটি ভালোবাসার এক অকৃত্রিম বিনিময়। দেশ ও বিদেশে থাকা সকল সদস্য—যেমন দুবাই প্রবাসী মৃত্যুঞ্জয়, আমেরিকা প্রবাসী চম্পা, ওমান প্রবাসী অজিত সহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য বন্ধুর এই সম্মিলিত প্রয়াসই প্রমাণ করে, দূরত্ব কিংবা সীমাবদ্ধতা মানুষের সেবায় কখনো বাধা হতে পারে না।

শারদোৎসবের মহালয়া পার হয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে যখন ঢাকের বাদ্য বেজে ওঠার অপেক্ষা, তখন সুন্দরবনের পাশের অবহেলিত গ্রাম কিংবা চায়ের বাগানের প্রবীণ মানুষগুলোর পরনে নতুন শাড়ি-লুঙ্গির এই উপহার কেবলই এক টুকরো কাপড় নয়; এটি তাদের কাছে পরম প্রাপ্তি। ‘সনাতন বন্ধুরা’র এই মানবিক স্পর্শ স্মরণ করিয়ে দেয়—সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আনন্দের জোয়ারে ভাসাই দুর্গোৎসবের প্রকৃত সার্থকতা।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকতে বলেছে দূতাবাস
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।
সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকতে বলেছে দূতাবাস
এমজিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এম গাজিউল হক মারা গেছেন
এমজিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এম গাজিউল হক মারা গেছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১টা ১০ মিনিটে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
এমজিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এম গাজিউল হক মারা গেছেন
মিষ্টি–গাজী নজরুলের আগে বিতর্কে জড়ানো এমপিদের শেষ পরিণতি যা হয়েছিল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরুর পরে এ পর্যন্ত দুইজন সংসদ সদস্য ভিন্ন কারণে বিতর্কে জড়ালেন।
মিষ্টি–গাজী নজরুলের আগে বিতর্কে জড়ানো এমপিদের শেষ পরিণতি যা হয়েছিল
খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালকের ৫১ কোটি টাকার আমানত, বেরিয়ে আসল চাঞ্চল্যকর তথ্য
খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সুকুমার রায়। ২০১৭ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন সরকারের তৃতীয় গ্রেডের এই কর্মকর্তা। সরকারি হিসাব অনুসারে চাকরির শেষ সময়ে তার মাসিক বেতন-ভাতা মিলিয়ে ছিল প্রায় ৯০ হাজার টাকা। এই বেতনের চাকরি করে গড়েছেন সম্পদের এক মহা সাম্রাজ্য।  সম্প্রতি এক অনুসন্ধানে তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, জমি ও ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু সোনালী ব্যাংকেই সুকুমার রায়ের নামে কমপক্ষে ৫১ কোটি টাকা আমানত রয়েছে। নিজের নামে রয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার টাকার সঞ্চয়পত্র। এছাড়া ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রামদিয়া মৌজায় তার নামে ২২০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ—দুটি জমির তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকার পল্টন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট এবং ফরিদপুর সদর এলাকায় আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। সুকুমার রায় খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক পদ থেকে ২০১৭ সালে অবসরে যান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অবসরের পর তিনি এককালীন প্রায় ৮০ লাখ টাকা পেনশন পেয়েছেন। চাকরিজীবনে তার মোট বেতন-ভাতা ছিল প্রায় ১ কোটি টাকা।  অর্থাৎ চাকরিকালীন আয় ও পেনশন মিলিয়ে একজন তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তার সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা আয় করতে পারেন। কিন্তু তার ব্যাংক হিসাবে কমপক্ষে ৫১ কোটি টাকা আমানত রেখেছেন বলে জানা গেছে এত টাকা ও জমি তিনি কোন প্রদীপের আলো আয় করেছেন তার কোনো সঠিক ব্যাখ্যা নেই। সুকুমার রায়ের আয়কর নথিতেও কোনো তথ্য নেই এসব সম্পদের। এসব অভিযোগের বিষয়ে দেশের বেসরকারি এক গণমাধ্যমকে সুকুমার জানিয়েছেন, ‘আমার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ আছে। তাতে আপনাদের কী? আপনি খুঁজে দেখেন আমার আরো অনেক সম্পদ রয়েছে।’ এরপর তিনি ফোন কেটে দেন। এদিকে সুকুমার রায়ের স্ত্রী বনশ্রী বোস নিজেকে একজন গৃহিণী হিসেবে নিজেকে দাবি করলেও তার নামে থাকা সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে রয়েছে ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার আমানত। এছাড়া আইএফআইসি ব্যাংকেও রয়েছে তার হিসাব যার নাম্বার ০১৯০৩১৫২৭৩-৮১১। এই হিসাবটি খুলতে তিনি নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন চাকুরিজীবী হিসেবে। কিন্তু কোথায় চাকরি করেন সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। জানা গেছে, বনশ্রী বোসের নামে রয়েছে ৫৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। এরমধ্যে ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র আমানত রয়েছে ৫ লাখ টাকার। এছাড়া পরিবার সঞ্চয়পত্র হিসেবে রয়েছে ৩০ লাখ টাকা। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক আমানত হিসেবে আরো রয়েছে ১০ লাখ টাকা। বনশ্রী বোসের নামে রয়েছে ফরিদপুর সদরের শ্রীঅংগন দক্ষিণ পল্লী এলাকায় বাড়ি। এ ছাড়াও বনশ্রী বোসের সোনালী ব্যাংকের ৪টি অ্যাকাউন্টের তথ্য থেকে জানা গেছে, হিসাব নাম্বার ২০১১০৫০৫০০০৭৪০ এর বিপরীতে ২ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) হিসেবে রয়েছে। ২০১১০৫০৫০০০৮১৩ হিসাব নাম্বারের বিপরীতে রয়েছে আরো ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর। ২০১১০৫০৫০০০১৯১ হিসাব নাম্বারের বিপরীতে রয়েছে ১১ কোটি টাকা এবং ২০১১০৫০৫০০০২১৭ হিসাবে আছে আরো ১০ কোটি টাকার এফডিআর। এসব এফডিআর করার সময়ে দেখানো হয়েছে বাবার বাড়ি থেকে প্রাপ্ত সম্পদ এবং জমি বিক্রয়ের টাকা। কিন্তু বনশ্রী বোসের ট্যাক্স ফাইলে নেই এসব সম্পদের কোনো বিবরণ। সুকুমারের স্ত্রী ছাড়াও তার সুকুমার রায়ের বড় ছেলে সৌমেন রায়ের অ্যাকাউন্টেও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা গেছে, সৌমেন রায়ের অ্যাকাউন্টে ৪০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে তার মা বনশ্রী বোসের আইএফআইসি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে। ফলে খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক এই পরিচালকে বিপুল সম্পদের তথ্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমের খবর প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার কথা জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক খোন্দকার ফরহাদ আহমেদ। আরটিভি/এসআর
খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালকের ৫১ কোটি টাকার আমানত, বেরিয়ে আসল চাঞ্চল্যকর তথ্য
বাংলাদেশকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার কারণ জানাল পাকিস্তান
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি বহনকারী রুশ বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছে ঢাকাভিত্তিক পাকিস্তান হাইকমিশন।
বাংলাদেশকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার কারণ জানাল পাকিস্তান
আরও পড়ুন
পাবনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে উপহার বিতরণ
১৯ অক্টোবর দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা
মাটির অবয়বে ফুটছে দেবীর রূপ, দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে