ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

শিশু রামিসাকে নৃশংস হত্যা: গ্রেপ্তার সোহেলের দোষ স্বীকার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার সোহেল রানা। ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার সোহেল রানা।

বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

পুলিশ জানিয়েছে, সোহেল রানা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় আদালতে তা রেকর্ডের আবেদন করা হয়। সেই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখারও আবেদন করা হয়েছে। এর আগে সোহেলকে ১০ দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়।

বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান। পরবর্তীতে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে হাজতখানা থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। ওই সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত কয়েকজন তাকে উদ্দেশ্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পরে সোহেল রানাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে করা ‎পুলিশের আবেদনে বলা হয়, হত্যার শিকার শিশু রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ‎সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। পরে অনেক ডাকাডাকিতেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন শিশুটির স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ওই সময় ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে শিশুটির মাথাবিহীন মরদেহ পড়ে ছিল। এ ছাড়া আরেকটি কক্ষের ভেতরে একটি বালতির মধ্যে তার মাথাটি রাখা ছিল।

আবেদনে আরও বলা হয়, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু রামিসার মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। সেই সঙ্গে তার সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে কাটা মাথাটি বালতির মধ্যে রাখা হয়।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে ঘটনার পর কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলেও পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মাদানী অ্যাভিনিউ / ১০০ ফুট সড়কের ৯০ ফুটই বেদখল
রাজধানীর নতুন বাজার মাদানী অ্যাভিনিউয়ের ১০০ ফুট সড়কে বেপরোয়া অটোরিকশা, যত্রতত্র পার্কিং এবং টাফিক পুলিশের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এই এলাকায় চলাচলকারীদের দূর্ভোগের শেষ নেই।
১০০ ফুট সড়কের ৯০ ফুটই বেদখল
অনলাইনে আয়ের ফাঁদে ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৬
অনলাইনে আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাৎকারী চক্রের শামীম আহমেদ (৩০) সহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার (১২ অক্টোবর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য জানান।  মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভুক্তভোগী বাদী একটি প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে আয়ের প্রলোভনে প্রতারণার শিকার হন। প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে বাদীর কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে।  একপর্যায়ে ভুক্তভোগী তার অর্থ উত্তোলন করতে চাইলে প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগী বাদীকে সিকিউরিটি ফি জমা দেওয়ার কথা বলে আরও অর্থ আদায় করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে তার প্রাপ্য অর্থ বুঝিয়ে না দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকলে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি মতিঝিল থানায় মামলা করেন। তদন্তের তথ্য জানিয়ে সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রতারক চক্রের দেওয়া একটি বেসরকারি ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে মোট ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে। সেই অর্থ পরবর্তী সময়ে প্রতারক চক্রের নির্দেশিত অন্য একটি ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, গ্রেপ্তার শামীম আহমেদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অনলাইন প্রতারণাসংশ্লিষ্ট অর্থ লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। এসব অর্থের উৎস, গন্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।  মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি, ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব এবং প্রতারণার অর্থের চূড়ান্ত গন্তব্য শনাক্তে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ নিয়ে এই মামলায় শামীম আহমেদসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে একজন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। আরটিভি/এসআর
অনলাইনে আয়ের ফাঁদে ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৬
পুরান ঢাকার আগুন ১২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে, ৪ ফায়ার ফাইটার হাসপাতালে 
পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোটকাটারার ইউসুফ খান প্লাজা মার্কেটে আগুন লাগে সোমবার বিকেলে। প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস।
পুরান ঢাকার আগুন ১২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে, ৪ ফায়ার ফাইটার হাসপাতালে 
উত্তরায় মদের বারে অভিযান, নারীসহ আটক ৪৭
রাজধানীর উত্তরার সিটি অরচার্ড রিক্রিয়েশন ক্লাব অ্যান্ড বারে অভিযান চালিয়ে ৪৭ জন নারী-পুরুষকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উত্তরার হাউজ বিল্ডিংয়ের ওই বারে সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৯টায় শুরু হওয়া অভিযানটি চলে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। এতে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা জোনাল টিমের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইলিয়াস কবীর। অভিযানকালে পারমিট ছাড়া মদ ও বিয়ার সেবনের অভিযোগে ১৭ জন নারীসহ ৪৭ জনকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে ডিবির উত্তরা জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইলিয়াস কবীর এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমরা পারমিটবিহীন মদ ও বিয়ার পান করার অভিযোগে ১৭ জন নারী ও ৩০ জনকে আটক করেছি।’ ইলিয়াস কবীর বলেন, প্রতিটি বারেই একে একে অভিযান চালানো হবে। পারমিট ছাড়া কেউ মাদক সেবন করতে পারবে না। আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান ডিবির এই কর্মকর্তা। আরটিভি/এসআর
উত্তরায় মদের বারে অভিযান, নারীসহ আটক ৪৭
পাশের ফ্ল্যাটে অদ্ভুত শব্দ, দরজা খুলতেই হতভম্ব বাড়ির মালিক
রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীতে স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করে রান্নাঘরে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বামী দুলাল হাওলাদারের (৫০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী দুলালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) মধ্যরাতে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর একটি পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত শিরিন বেগম (৪২) পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বিখাখালি গ্রামের মৃত সোহরাব আলীর মেয়ে। পুলিশ ও মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে পাশের ফ্ল্যাট থেকে সন্দেহজনক কোপানোর শব্দ পান বাড়ির মালিক খোরশেদ আলম। ৮-১০ দিন আগে ভাড়া নেওয়া ওই ফ্ল্যাটের দরজায় দীর্ঘক্ষণ কড়া নাড়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর দরজা খোলেন দুলাল।  ভেতরে সন্দেহজনক পরিস্থিতি ও স্ত্রীর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে একপর্যায়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন বাড়ির মালিক। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ রান্নাঘর থেকে শিরিনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত দুলালকে আটক করে। মামলার বাদী ও নিহত দম্পতির ছেলে সিরাজ হাওলাদার জানান, তার মা শিরিন দীর্ঘদিন জর্ডানে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। দুই মাস আগে শাশুড়ির মৃত্যুর খবর শুনে দেশে ফিরে স্বামীকে নিয়ে যাত্রাবাড়ীর ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকছিলেন। দেশে ফেরার পর থেকেই স্বামী দুলাল তার কাছে টাকা দাবি করতেন এবং এ নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এছাড়া ফোনে অন্য কারও সঙ্গে কথা বলা নিয়েও তাদের মধ্যে সন্দেহ ও বিরোধ ছিল। যাত্রাবাড়ী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুলাল স্বীকার করেছেন যে, রবিবার রাতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে স্ত্রীর মাথা ধরে দেয়ালে আঘাত করলে তিনি জ্ঞান হারান। এরপর বটি দিয়ে স্ত্রীর মাথা ও দুই পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে রান্নাঘরে লুকিয়ে রাখেন এবং আলামত হিসেবে রক্তের দাগ মুছে ফেলার চেষ্টা চালান। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সিরাজ হাওলাদার বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।  পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আরটিভি/এসআর
পাশের ফ্ল্যাটে অদ্ভুত শব্দ, দরজা খুলতেই হতভম্ব বাড়ির মালিক
আরও পড়ুন
খুলনার হত্যা মামলার আসামি চট্টগ্রামে ধরা
স্ত্রীকে হত্যার পর ৯৯৯-এ কল দিলেন স্বামী
স্বামী-শ্বশুড়বাড়ির নির্যাতন সইতে পারলেন না মেধাবী ছাত্রী ঝুমুর
নিছক বিরক্তিতেই হত্যা করা হয় ৩ বছরের হালিমাকে!