ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নির্বাচনে কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না: ইসি সানাউল্লাহ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১১ এএম
নির্বাচনে কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না: ইসি সানাউল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনে কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কাউকে কখনো কোনো পক্ষ অবলম্বন করে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হবে না। এরপরও যদি কেউ পক্ষপাতিত্ব করেন, তবে সেটি তার ব্যক্তিগত দায় (ইনডিভিজুয়াল রেসপন্সবিলিটি) এবং সেক্ষেত্রে কমিশন 'ভয়ানক দৃঢ়' অবস্থানে থাকবে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সদস্যদের উদ্দেশ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, এবারে নির্বাচন ভালো হবে। স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতায় এক সুতাও এপাশ-ওপাশ করা যাবে না। আপনি একজন নাগরিক হিসেবে ভোট দেবেন, অতটুকুই আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ বা পার্টিজানশিপ। কিন্তু যখন দায়িত্ব পালন করবেন, তখন এক সুতা ডানে-বামে যাওয়ার সুযোগ নেই।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নৈতিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আপনারা এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে গেছেন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর আমাদের সন্তানদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা নির্বাচন করছি। কমিশনের পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য আপ্যায়নের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাই কারো কাছে এক গ্লাস পানিও খাবেন না। বিশেষ করে নির্বাচনের দিন স্থানীয় পাতি নেতারা খাবার অফার করেন, আগে প্রস্তুতি না থাকায় অনেকে তা গ্রহণ করতে বাধ্য হতেন। কিন্তু এবার সবার জন্য আলাদা বরাদ্দ দেওয়া আছে। এখন থেকে নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত কারো কাছ থেকে কোনো আতিথেয়তা নেওয়া যাবে না।

নির্বাচনি এলাকায় অবৈধ লেনদেন বন্ধের বিষয়ে ইসি বলেন, 'বিকাশ, নগদ, রকেট বা উপায়ের মতো মাধ্যমে যাতে কোনো অবৈধ লেনদেন না হয়, সেজন্য আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনা দিয়েছি। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।'

ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আচরণবিধিতে স্পষ্ট বলা আছে, ভোট দিয়ে ভোটাররা ৪০০ গজের বাইরে চলে যাবেন। কেন্দ্রের ভেতরে বা আশেপাশে বিলম্ব করার কোনো সুযোগ নেই। কেন্দ্র দখলে রাখতে হবে' বা 'ফলাফল আদায় করে ঘরে ফিরতে হবে-এমন মানসিকতা থাকলে মারামারি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি, যা ভোট পড়বে এবং যা গণনা হবে, সেই ফলাফলই প্রকাশিত হবে। কেন্দ্র দখল করে ফলাফল আদায়ের কোনো সুযোগ এবার নেই।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সানাউল্লাহ বলেন, জুলাই যোদ্ধারা খালি হাতে লড়াই করে সফল হয়েছে। এখন আমাদের হাতে আইন এবং অস্ত্র; উভয়ই আছে। তাহলে কেন আমরা একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটাতে পারব না? অতীতের চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলো এখন আচরণবিধি মানার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সচেতন।

আরও পড়ুন

স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি গ্রাম পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সোর্স হিসেবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বহিরাগত কারা এলাকায় আসছে বা কারা মারা গেছেন বা জীবিত আছেন, তা স্থানীয়রা ভালো জানেন। একটি ভালো নির্বাচনের পূর্বশর্তই হলো ভালো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবি-৪ ব্যাটালিয়নের সিইও মো. মোশারফ হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, সেনাবাহিনীর লক্ষ্মীপুর ক্যাম্পের মেজর জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সম্রাট খীসা প্রমুখ।

আরটিভি/কেআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পাইকগাছার টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি
লবণাক্ততা, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল বেড়িবাঁধ, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বছরের পর বছর এসব সংকট মোকাবিলা করে আসছেন উপকূলীয় খুলনার পাইকগাছার মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও এলাকার টেকসই উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক প্রতিনিধিরা।
পাইকগাছার টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি
কচুয়ায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
চাঁদপুরের কচুয়ায় আল্লামা শহীদ ফারুকী (রহ.) স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে মেধাবৃত্তি ২০২৫ এর বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
কচুয়ায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
পার্বত্যাঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন: দীপেন দেওয়ান
শিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত জোর দিয়েছেন। শিক্ষার ক্ষেত্রে পার্বত্য অঞ্চল অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। তাই পার্বত্যাঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন। আমরা সেই বরাদ্দকে কাজে লাগাতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
পার্বত্যাঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন: দীপেন দেওয়ান
সৌদি প্রবাসীদের কাছে আকুতি, মায়ের সন্ধান চান সন্তানরা
সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে গিয়ে চার বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার জামালদি গ্রামের রওশন আরা (৬০)।
সৌদি প্রবাসীদের কাছে আকুতি, মায়ের সন্ধান চান সন্তানরা
মাদরাসা ‘গোল্লায়’ গেলেও বেতন নিতে ভুল করেন না শিক্ষক-কর্মচারীরা
শ্রেণিকক্ষ আছে, শিক্ষক-কর্মচারী আছেন, নেই শুধু শিক্ষার্থী। মাঠজুড়ে হাঁটুসমান ঘাস, শ্রেণিকক্ষগুলো প্রায় ফাঁকা। অথচ কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী ১৫৭ জন। এর মধ্যে উপবৃত্তি পাচ্ছে ৯৬ জন। বাস্তব চিত্র আরও বিস্ময়কর-সরেজমিনে সব শ্রেণি মিলিয়ে উপস্থিত পাওয়া গেছে মাত্র ছয়জন। অথচ এ প্রতিষ্ঠানে ২১ শিক্ষক-কর্মচারী প্রতিমাসে বেতন উত্তোলন করছেন প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার নিজাই খামার বালিকা দাখিল মাদরাসায় প্রায় এক দশক ধরে চলছে এমন অনিয়ম।
মাদরাসা ‘গোল্লায়’ গেলেও বেতন নিতে ভুল করেন না শিক্ষক-কর্মচারীরা
আরও পড়ুন
এ বছর হচ্ছে না স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি আনোয়ারুল
যেসব প্রতীকে হবে ইউপি নির্বাচন
রাশিয়ায় নির্বাচন: পুতিনের দলের নিরঙ্কুশ জয়
পেছাচ্ছে ইউপি নির্বাচন, জানা গেল নতুন সম্ভাব্য সময়