ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

খুলনাঞ্চলে তরমুজের ব্যাপক ফলনে ৭২৩ কোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

বাসস

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
তরমুজ ক্ষেতের পুরনো ছবি

খুলনাঞ্চলের উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে এবার রসালো ফল তরমুজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। এতে ৭২৩ কোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর খুলনাঞ্চলে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ করতে না পারলেও মৌসুমে সম্ভাব্য প্রায় ৪১৩ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা লাভের আশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে খুলনা অঞ্চলের চার জেলায় এবার তরমুজ বিক্রির টার্গেট করা হয়েছে ৭২৩ কোটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না এলে এই টার্গেট পূরণ হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ ও তরমুজ চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুসারে, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের রবি মৌসুমে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইলে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ হাজার ৫৫ হেক্টর জমি। এর বিপরীতে ১৩ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ১৭ হাজার ২৯১ হেক্টরের বিপরীতে অর্জন ১৩ হাজার ১৫৬ হেক্টর, বাগেরহাট জেলায় ১৩৩ হেক্টরের বিপরীতে অর্জন ১৬৪ হেক্টর, সাতক্ষীরা জেলায় ৬১৮ হেক্টরের বিপরীতে ৪৭১ হেক্টর ও নড়াইল জেলায় ১৩ হেক্টরের বিপরীতে অর্জন ১৯ হেক্টর জমি।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিঘা প্রতি তরমুজের উৎপাদন সংখ্যা ৭০০-৮০০টি এবং বিঘা প্রতি তরমুজের উৎপাদন খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা করে। আর বিঘাপ্রতি তরমুজ বিক্রি হবে ৭০ হাজার টাকা। একজন কৃষক বিঘা প্রতি তরমুজ উৎপাদনে ৪০ হাজার টাকা লাভ করবে।

১৩ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে তরমুজের মোট উৎপাদন (প্রতি বিঘায় ৭০০ টি হলে) ৭ কোটি ২৩ লাখ ৫৬ হাজার ২০০টি এবং (প্রতি বিঘায় ৮০০টি হলে) ৮ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ৮০০ টি। অর্জিত ১৩,৮১০ হেক্টর জমিতে মোট উৎপাদন খরচ ৩১০ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অর্জিত ১৩,৮১০ হেক্টর জমির সম্ভাব্য মোট বিক্রয় মূল্য ৭২৩ কোটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। এতে লাভ হবে ৪১৩ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গত অর্থবছরে এই অঞ্চলের প্রান্তিক তরমুজ চাষিরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও প্রান্তিক পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় এ বছর তরমুজ চাষে আগ্রহ হারিয়েছে। যে কারণে এ বছর এই অঞ্চলে তরমুজ চাষের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ হয়নি। চলতি অর্থ বছরে এই অঞ্চলে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪ হাজার ২৪৫ হেক্টর কম চাষাবাদ হয়েছে।

খুলনাঞ্চলের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে খুলনা জেলার বাজুয়া, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, মোংলার বানিয়াশান্তাসহ অন্যান্য উপজেলাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্বল্প খরচে অধিক লাভের কারণে এই অঞ্চলের কৃষকরা দিন দিন তরমুজ চাষে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে এই অঞ্চলের কৃষকেরা তরমুজ চাষে বড় লাভের মুখ দেখবে। এই অঞ্চলের উৎপাদিত তরমুজ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দাকোপ উপজেলার কৈল্লাশগঞ্জ ইউনিয়নের হরিণটানা ব্লকের কৃষক ইন্দ্রজিং বলেন, আমি এবার কয়েক বিঘা জমিতে তরমুজের চাষাবাদ করেছি। বিঘা প্রতি খরচ পড়েছে ২৮-৩০ হাজার টাকা। এবার ফলন বেশ ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘাতে আট থেকে নয়শ পিস তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। আশা করি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে ভালো লাভ হবে।

image বটিয়াঘাটা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (হালিয়া ব্লক) মোহাম্মাদ তারিকুল ইসলাম বলেন, আমার ব্লকে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ করেছি। ক্ষেতে কৃষক এখন পরিচর্যা, কীটনাশক প্রয়োগ ও সেক্সফেরোমন ফাঁদ স্থাপন করছে। কোনো বড় ধরনের দুর্যোগ দেখা না দিলে কৃষকরা লাভবান হবে।

দাকোপ উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা করুনা কান্ত সরকার বলেন, চুনকুড়ি ব্লকে ৪০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ করা হয়েছে। পরিচর্যাসহ পানির সঙ্গে সার মিশিয়ে সেচের সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে এবং মাতৃ পোকা (ফলের মাছি) দমনের জন্য সেক্সফেরোমন ফাঁদ স্থাপন ও হলুদ আঠালো ফাঁদ স্থাপন করা হচ্ছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে এই এলাকার কৃষকেরা এবার তরমুজ চাষে লাভবান হবে।

তিনি বলেন, ১৫ থেকে ২০ দিন পর থেকে তরমুজ তোলা শুরু হবে।

খুলনার দাকোপ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ২৮টি ব্লক নিয়ে দাকোপ উপজেলা। খুলনাঞ্চলের মধ্যে দাকোপ উপজেলাতে সবচেয়ে বেশি তরমুজের আবাদ হয়ে থাকে। চলতি অর্থ বছরে এই উপজেলায় তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর। গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়ে কৃষকের ক্ষেতের তরমুজের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং কৃষক দামও কম পেয়েছে। এসব কারণে এ বছর অনেক কৃষকই তরমুজের আবাদ করেননি।

তিনি বলেন, উপজেলার কৃষকেরা ক্ষেতের পরিচর্যাসহ পানির সঙ্গে সার মিশিয়ে সেচের সঙ্গে মাতৃ পোকা (ফলের মাছি) দমনের জন্য সেক্সফেরোমন ফাঁদ স্থাপন ও হলুদ আঠালো ফাঁদ স্থাপন করছেন। এ বছর তরমুজ চাষিদের চাহিদানুসারে সার, বীজ ও কীটনাশক প্রদান করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে এই এলাকার কৃষকেরা তরমুজ চাষে সফলতার মুখ দেখবে। ১৫ থেকে ২০ দিন পর তরমুজ তোলা শুরু হবে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, খুলনাঞ্চলে চলতি অর্থ বছরে তরমুজ চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৮ হাজার ৫৫ হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত হয়েছে ১৩ হাজার ৮১০ হেক্টর। গত বছর খরার কারণে তরমুজ চাষিদের চরম ক্ষতি হয়। ফলন কম হয় এবং কৃষক তরমুজের দামও কম পায়। এ কারণে অনেক কৃষকই এ বছর তরমুজ চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ অঞ্চলে তরমুজের আবাদ কমেছে। তবে এবার কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ (কালবৈশাখি, ঝড়, শিলা বৃষ্টি, খরা) না হলে এই অঞ্চলের কৃষকেরা তরমুজ চাষে সফলতা ও লাভের মুখ দেখবে।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এক মাস পর ভেসে উঠলো রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু
কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় পর পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে রাঙামাটির পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু। বুধবার থেকে সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেতুটিকে ঘিরে ফিরতে শুরু করেছে পর্যটকদের পদচারণা। স্বস্তি ফিরেছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যেও। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা সেতুটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন। আলোক বিকাশ চাকমা জানান, চলতি বছর দ্বিতীয় দফায় গত ১১ সেপ্টেম্বর কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় ঝুলন্ত সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওই দিন থেকেই সেতুতে প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে হ্রদের পানি কমে সেতুটি দৃশ্যমান হলে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষে বুধবার থেকে পর্যটকদের চলাচলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। সেতুটি পুনরায় পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ায় স্বাভাবিক পর্যটন কার্যক্রম ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আগমন বাড়লে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। রাঙামাটির পর্যটন পরিচিতির অন্যতম প্রতীক এই ঝুলন্ত সেতু দেখতে প্রতিবছরই ছুটে আসেন অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক। কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি, পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর নৌভ্রমণের পাশাপাশি সেতুতে ঘুরে বেড়ানো পর্যটকদের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতার অন্যতম আকর্ষণ। তবে বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় প্রায় প্রতিবছরই পানির নিচে তলিয়ে যায় সেতুটি। ফলে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয় এই দর্শনীয় স্থাপনা। গত বছরও টানা ৮৫ দিন পানির নিচে ছিল সেতুটি। এতে পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। প্রতিবছর একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রাঙামাটির পর্যটন খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সেতুটি তলিয়ে যাওয়ায় পর্যটকেরা অন্যতম আকর্ষণটি উপভোগের সুযোগ হারান। অন্যদিকে, পর্যটকদের আগমন কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েন হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন ও নৌযান ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু পানি কমার অপেক্ষায় না থেকে সেতুটির অবস্থান, কাপ্তাই হ্রদের পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা এবং কাঠামোগত নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। কারিগরি সমীক্ষার ভিত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে পর্যটন মৌসুমে সেতুটি বন্ধ থাকার সময় কমানো সম্ভব কি না, তা বিবেচনা করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে নির্মিত প্রায় ৩৩৫ ফুট দৈর্ঘ্যের রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুটি জেলার অন্যতম পরিচিত পর্যটন আকর্ষণ। দুটি পাহাড়ের মাঝখানে নির্মিত এই সেতু দেখতে স্থল ও জলপথে পর্যটন কমপ্লেক্স এলাকায় পৌঁছানো যায়। আরটিভি/টিআর
এক মাস পর ভেসে উঠলো রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু
দুর্গাপূজার ছুটিতে কক্সবাজারে ৬ লাখ পর্যটক সমাগমের প্রত্যাশা
আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার পাঁচ দিনের ছুটিতে ৬ লাখেরও বেশি পর্যটককে বরণ করে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে কক্সবাজার। ইতিমধ্যে উপকূলীয় জেলাজুড়ে হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে অগ্রিম বুকিংয়ের হার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। টানা ছুটির এই সময়ে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগমের আশা করছেন পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা, কারণ আবাসন ব্যবস্থার প্রায় ৭০ শতাংশই ইতিমধ্যে অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। সম্ভাব্য ভিড় সামাল দিতে পরিবহন সেবা সম্প্রসারণ, আতিথেয়তার মানোন্নয়ন এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বাসসকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি, প্রতিদিন গড়ে এক লাখের বেশি পর্যটক কক্সবাজারে আসবেন। সে হিসাবে পাঁচ দিনে ৬ লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম হতে পারে।’ তিনি জানান, কক্সবাজারে বিভিন্ন শ্রেণির ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও কটেজ রয়েছে। এরমধ্যে বেশির ভাগ আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কক্ষ আগাম বুকিং হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক হোটেলে প্রায় ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। কক্সবাজার হোটেল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি নাজিম উদ্দীন বাসসকে বলেন, টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে হোটেল-মোটেলে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তারকা মানের হোটেলগুলোর বেশির ভাগ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা ভালো একটি সপ্তাহের প্রত্যাশা করছেন। রামুর মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন পেঁচারদ্বীপের মারমেইড বিচ রিসোর্টের ব্যবস্থাপক রানা কর্মকার বাসসকে বলেন, তাদের রিসোর্টের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অতিথিদের শুভেচ্ছা জানানো হবে। পাশাপাশি রিসোর্টের রেস্তোরাঁ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যে কেউ সেখানে এসে ঘুরে যেতে পারবেন এবং খাবার খেতে পারবেন। অন্যদিকে, তারকা মানের হোটেল বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজের ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজার তারেক আজিজ জানান, তাদের হোটেলের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের জন্য ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর ১ হাজার ২শ’ টাকায় ৫০টির বেশি পদের বুফে ডিনারের আয়োজন করা হয়েছে। টানা ছুটিতে পর্যটক ও যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা স্পেশাল’ দুপুর আড়াইটায় ছেড়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। একই দিন ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার পৌঁছাবে। ২৩ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বিশেষ ট্রেন সকাল সাড়ে ১১টায় ছেড়ে রাত ৮টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। একই দিন ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছাবে। এ ছাড়া ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ সকাল সাড়ে ১১টায় ছেড়ে রাত ৮টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। একই দিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ‘চট্টগ্রাম স্পেশাল’ রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে পরদিন ভোর ৪টায় চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার জয়নাল আবেদীন বিশেষ ট্রেন পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, টানা ছুটিতে কক্সবাজারগামী যাত্রীর চাপ অনেক বেশি থাকে। এ চাপ সামাল দিতেই বিশেষ ট্রেন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আন্তনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস চলাচল করছে। নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি বিশেষ ট্রেন চালু হলে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে। এতে সড়কপথের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি পর্যটকদের যাতায়াতও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন সামাল দিতে আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থার পাশাপাশি সৈকতসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান বাসসকে বলেন, পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকের চাপ বাড়বে। তাদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। আরটিভি/এসআর  
দুর্গাপূজার ছুটিতে কক্সবাজারে ৬ লাখ পর্যটক সমাগমের প্রত্যাশা
কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর
আমীর নির্বাচনকে ঘিরে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর
মারা গেছেন নীলফামারীর কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফারুক ভূঁইয়া
উত্তরবঙ্গের সংগীতজগতের অন্যতম প্রাণপুরুষ, সুরসাধক ও সংগঠক ফারুক ভূঁইয়া (৫৯) হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোর ৬টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এর আগে মঙ্গলবার রাতে নীলফামারী সদর উপজেলার কলেজ স্টেশন হারোয়া এলাকার নিজ বাড়িতে হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন তিনি। পরে স্বজনেরা তাকে দ্রুত নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নিজ উদ্যোগে কিংবদন্তি শিল্পী প্রয়াত ফিরোজ সাঁই ও পিলু মমতাজ স্মৃতি সংসদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ফারুক ভূঁইয়া। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন গুণী শিল্পীকে সম্মাননা দিয়ে আসছিলেন। চলতি বছরের ২৯ আগস্ট নীলফামারী শহীদ মিনারে স্মৃতি সংসদের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তিনি। সংগীতের প্রতি তার আজীবন নিবেদন ছিল অতুলনীয়। গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যায় রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত একটি কালজয়ী গানের অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন তিনি। সহকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, এটিই ছিল তার জীবনের শেষ মঞ্চ পরিবেশনা। নীলফামারী ও এ অঞ্চলের মানুষের প্রতি ফারুক ভূঁইয়ার টান ছিল অকৃত্রিম। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শ্রাদ্ধ’ কবিতায় নীলফামারী বাজারের ঐতিহ্যবাহী বেগুনের উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি তিনি তার গানের সুরেও ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তার প্রয়াণে উত্তরবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ ১৪ অক্টোবর বাদ মাগরিব নীলফামারী কলেজ স্টেশন আদর্শ হাইস্কুল মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে নীলফামারী কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে। তার মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক, নীলফামারী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও নীলফামারী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী, নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আহসান হাবীব লেলিন, সাবেক সংসদ সদস্য এনকে আলম চৌধুরী, সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম, নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুব-উর রহমান, সহসভাপতি আকতার হোসেন স্বপন, নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম সিয়াম, যুগ্ম সভাপতি হাসান রাব্বি প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক মিলাদুর রহমান মামুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। আরটিভি/টিআর
মারা গেছেন নীলফামারীর কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফারুক ভূঁইয়া
‘শেখ হাসিনার দুপুরের খাবার খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান খান ১৫০ টাকায়’
মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, কেয়ামতের মাঠে আল্লাহ আপনার হৃদয় দেখে বিচার করবেন। আপনারাও তারেক রহমানের হৃদয় দেখবেন। মোটা কাপড়, সিম্পল জীবনযাপন করেন। গত পরশুদিন দুপুরে ঢেরস ভাজি, কুমড়া ভর্তা ও ডাল দিয়ে তার (তারেক রহমান) সঙ্গে খেয়ে এসেছি। 
‘শেখ হাসিনার দুপুরের খাবার খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান খান ১৫০ টাকায়’
আরও পড়ুন
অসময়ের তরমুজ চাষ করে তাক লাগিয়েছেন আতিয়ার
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৃতির পাঠশালায় ‘তুলির রঙ’
খুলনায় ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু
একদিনও ব্যবহার করা যায়নি ২৭ লাখ টাকার টয়লেট