
খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ২৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত দপ্তর থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গু রোগীর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ২৬৯ রোগীর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৬৯ জন। একই সময়ে খুলনা জেলায় ১২৯ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮০ জন, বাগেরহাটে ১০ জন, সাতক্ষীরায় ৫ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন, যশোরে ২৪ জন, ঝিনাইদহে ৭ জন, মাগুরায় ৪ জন, কুষ্টিয়ায় ২ জন, চুয়াডাঙ্গায় ১ জন এবং মেহেরপুরে ২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ৫ হাজার ১৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৩৩৪ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া ১১১ জন রোগীকে অন্যত্র রেফার করা হয়েছে। এ সময় মোট ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন, খুলনায় দুজন এবং বাগেরহাটে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হলেও খুলনা জেলা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে নতুন মৃত্যুর তথ্য নেই। তবে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে খুলনা জেলায়। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলাটিতে ১২৯ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর পরেই রয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যেখানে ৮০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এর আগে ২৫ আগস্টও খুলনা বিভাগে এক দিনে ২০২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য বিভাগ। ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে রোগী ভর্তির সংখ্যা আরও বেড়ে যাওয়ায় খুলনায় ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দেশজুড়েও ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
এই মুহূর্তে খুলনাবাসীর সরকারের কাছে প্রত্যাশা, প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু ইউনিট চালুর ব্যবস্থা করা। তা না হলে আগামীতে আরও ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করবে খুলনায়।
আরটিভি/টিআর



