১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিং ভেঙে হুমকিতে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট সড়ক

বাসস

রোববার, ২১ জুন ২০২৬ , ০৪:৫২ পিএম


১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিং ভেঙে হুমকিতে তিস্তা সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট সড়ক

বৃষ্টি আর উজানের পানি অব্যাহতভাবে বাড়ার কারণে জেলার গঙ্গাচড়ায় মহিপুর তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এরই মধ্যে এলজিইডির ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বসানো বাঁশের পাইলিং ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক। এছাড়া পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সড়কের অন্তত দশটি পয়েন্টেও দেখা দিয়েছে ভাঙন।

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শনিবার (২০ জুন) রাত থেকে সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। রোববার (২১ জুন) সকাল ১০টা পর্যন্ত ৫০ মিটারের বেশি অংশ ভেঙে ৬০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দুই জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

dyke_collapse-01_(1)

প্রতিদিন মহিপুরের তিস্তা সড়ক সেতু দিয়ে অন্তত ৩০-৩৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। হঠাৎ বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হবার শঙ্কাসহ লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিন গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবার সরাসরি হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত বছর ওই বাঁধটির প্রায় ১০০ ফুট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়ে হুমকির মুখে পড়েছিল সেতুটি। সেসময় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের উজানে বাঁশের পাইলিং দিয়ে কোনো মতো রক্ষার চেষ্টা করে এলজিইডি। কিন্তু এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় সেই বাঁশের পাইলিং ভেদ করে আবারও পানির স্রোতের তা-বে ভাঙছে বাঁধটি।

বাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রিপন ও কাইয়ুম বলেন, নদীতে পানি বাড়তেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা এখন ভীষণ ভয়ে আছি।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর মুসরত মদাতি এলাকার শাহনাজ বেগম বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শহরে যাই। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন

তিস্তা সেতু এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী বাদশা মিয়া বলেন, বাঁধ ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে, অথচ এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। যদি উজান থেকে নেমে আসা পানি বৃদ্ধি তীব্র হয়, তখন তো কোনো উপায় থাকবে না।

কৃষক খোরশেদ আলী বলেন, এই বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু সেতুই নয়, আবাদি জমিও নদীতে চলে যাবে। 

স্থানীয়দের দাবি, এখনই জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষায় পদক্ষেপ না নিলে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও রংপুর লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, গত বছর যখন সেতু রক্ষা বাঁধটিতে ভাঙন ধরে তখন আমরা এলজিইডিকে বলেছিলাম ব্লক দিয়ে ভাঙন ঠেকাতে। কিন্তু তখন তারা সেটা শোনেননি। ১৪ লাখ টাকা দিয়ে সামনে বাঁশের পাইলিং করেছিল। এবার সেই পাইলিংও শেষ, আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি ঠেকানো না গেলে সেতুর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে। 

rong-2-20260621125506

তবে গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, তিস্তার পানি বৃদ্ধির কারণে সেতু রক্ষা বাঁধের ৫০ শতাংশ ধসে গেছে। গত বছর ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করে এ ধরনের পাইলিং করার পরামর্শ দিয়েছিল। যার কারণে সেটা করা হয়েছিল। আবারো ভাঙন ধরায় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সেটা জানিয়েছি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। সেতু রক্ষা বাঁধের ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission