চুয়াডাঙ্গায় ডিসি ইকো পার্কের সরকারি গাছ দেদারসে নিধন! 

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ , ০২:৩৮ পিএম


চুয়াডাঙ্গায় ডিসি ইকো পার্কের সরকারি গাছ দেদারসে নিধন! 
ছবি: আরটিভি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগর ডিসি ইকো পার্কে নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি মরা গাছের দোহাই দিয়ে তাজা গাছ বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।

তবে এসব সরকারি গাছ কাটার বিষয়ে কোনো উন্মুক্ত টেন্ডার, নিলামের খবর স্থানীয়ভাবে কেউ জানেন না বা কোনো নোটিশ করা হয়নি। যা নিয়েও এলাকায় নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্কটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বাহালুল হকের যোগসাজশে এই গাছগুলো কাটা হয়েছে এবং তিনিই এই কাঠ ব্যবসায়ীকে ঠিক করেছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই দামুড়হুদা শিবনগর ডিসি ইকো পার্কের কিছু ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছ বিক্রির জন্য পার্ক চত্বরে উন্মুক্ত নিলাম হয়। সেখানে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে চন্দ্রবাস গ্রামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে মো. নজরুল ইসলাম ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ২৯টি মরা গাছ কেনেন। গাছগুলোর মধ্যে ছিল- ১৯টি আম গাছ, ৬টি শিশু গাছ, ৪টি কাঁঠাল গাছ। পরদিন ২০ জুলাই দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত একটি কার্যাদেশ দেওয়া হয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে।

কার্যাদেশ পেয়েই ডিসি ইকো পার্কের মরা গাছের পাশাপাশি তরতাজা গাছ কাটা শুরু করেন ক্রেতা নজরুল ইসলাম।

গাছের ক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, নিলামে কয়জন ছিল আমার জানা নেই। আমি যখন পার্কে আসলাম তখন কোনো ব্যবসায়ী ছিলেন না। ইউএনও স্যার আর অফিসের লোকজন ছিল। আমি ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় গাছগুলো কিনেছি।

আরও পড়ুন

পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বাহালুল হক বলেন, ইউএনও স্যার আমাকে গাছের ব্যবসায়ী দেখে দিতে বলেন। বিষয়টি আমি আমার গ্রামের দুজন কাঠের ব্যবসায়ীকে বলি। তারা গাছগুলো দেখে একটা দাম বললে আমি স্যারকে জানাই। পরে গাছগুলো তাদের কাছে বিক্রি করেছে ইউএনও স্যার। গত দুদিন আমি পার্কে ছিলাম না কয়টা গাছ কাটা হয়েছে এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।

কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বিশ্বাস বলেন, বিক্রিকৃত গাছের চেয়ে অতিরিক্ত গাছ কাটা হয়েছে বলে শুনেছি। যদি এটা সত্য হয় তাহলে এই কাজের সাথে যে বা যারা জড়িত তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।

ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন বলেন, এটা তো উন্মুক্ত নিলাম হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্তে কমিটির মাধ্যমে নিলাম করা হয়েছে। নিলামের ফাইল তো ডিসি স্যারের কাছে- তাই কয়টা গাছ সঠিক বলতে পারব না।

তিনি আরও বলেন, নিলামকৃত মরাগাছের পাশাপাশি আরো কিছু অতিরিক্ত গাছ কাটা হয়েছে বলেও অভিযোগ পেয়েছি। এখন আমরা কমিটি করে দিয়েছি সরেজমিনে তদন্ত করে দেখব।

স্থানীয়দের মতে, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন দেশে সবুজ বনায়ন করতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন, যা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হচ্ছে। তখন একশ্রেণির মানুষ কীভাবে সবুজ তরতাজা বৃক্ষ নিধনে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা কি বর্তমান সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করছেন এমনই মন্তব্য তাদের। সেই সঙ্গে এই গাছ বিক্রির অনিয়ম তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission