দিনাজপুরের হিলিতে দেশি কাঁচামরিচ ও দেশি পেঁয়াজের দামে ওঠানামা করছে। বর্তমানে দেশি কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ২৪০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার কারণে পাইকারি মোকামগুলোতে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খুচরা বাজারেও। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে হিলির কাঁচাবাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়।
হিলি বাজারে কাঁচামরিচ কিনতে আসা অটোরিকশাচালক আতাউর রহমান বলেন, তার পরিবারে চার সদস্য। তিনি অটোরিকশা চালিয়েই সংসার চালান। দিনে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হলেও কাঁচাবাজার করতেই প্রায় সব টাকা শেষ হয়ে যায়। নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার মতো আরও অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। তাদের দাবি, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করলে নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা দিনমজুর ইউসুফ আলী বলেন, পেঁয়াজ নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি পণ্য। এটি ছাড়া রান্না করা প্রায় অসম্ভব। দুই সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে। কিন্তু বন্যার কারণে হঠাৎ করেই দাম বেড়ে গেছে। তিনি হিলি স্থলবন্দরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কোনো দিন কাজ থাকে, আবার কোনো দিন থাকে না। কিন্তু পরিবারের জন্য নিয়মিত বাজার করতে হয়। তাই ধারদেনা করেও বাজার করতে হচ্ছে। পেঁয়াজসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় তাদের কষ্ট বেড়েছে।
হিলি বাজারের কাঁচামরিচ বিক্রেতা বিপ্লব শেখ জানান, এক দিনের ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন মোকামে কাঁচামরিচের দাম প্রতি কেজিতে ২০ টাকা কমেছে। গতকাল ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা কম দামে কিনে কম দামে বিক্রি করছি। তবে আগের তুলনায় ক্রেতা অনেক কমে গেছে।
হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা শাকিল মাহমুদ জানান, গত তিন দিন ধরে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগের তুলনায় ক্রেতা অনেক কম। সারাদিনে দুই বস্তা পেঁয়াজ বিক্রি করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে দেশি পেঁয়াজের দাম আরও কমে আসতে পারে।
আরটিভি/টিআর



