
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার এএম রথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার শূন্য। বিদ্যালয়টিতে মোট ১১ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচজন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় দুইশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের পাঠদানের জন্য সাতজন এমপিওভুক্ত ও চারজন নন-এমপিওসহ মোট ১১ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। এ ছাড়া আরও চারটি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও পাঁচজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজনও পাস না করায় চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়মিত পাঠদানে উদাসীনতা ও শিক্ষার মান নিম্নমুখী হওয়ায় পরীক্ষার ফলাফলে এ ধস নেমেছে।
উপজেলার মদাতী ইউনিয়নে নারী শিক্ষার প্রসারে ১৯৯৯ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে ‘এএম রথবাড়ী বালিকা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১১ সালে প্রথম এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। কালক্রমে ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির নিম্ন মাধ্যমিক শাখাটি এমপিওভুক্ত হয়।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মদাতী ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব বলেন, নিম্ন মাধ্যমিক শাখার শিক্ষকরা সরকারি বেতন-ভাতা পেলেও উচ্চ বিদ্যালয় শাখাটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় উচ্চ বিদ্যালয় শাখার শিক্ষকরা পাঠদানে কিছুটা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এর পাশাপাশি শিক্ষক সংকট তো রয়েছেই। এসব কারণেই চলতি বছর পাঁচজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েও কেউ পাস করতে পারেনি।
বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদরুল আলম জানান, এএম রথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এ চরম ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/টিআর


