
ময়মনসিংহের ভালুকায় শিল্পাঞ্চলে গ্যাস-সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকায় বৃহস্পতিবার অন্তত ২০ কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের বৃহস্পতিবার (২০আগষ্ট) দুপুরের খাবারের পরে তাদের ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্প পুলিশ ময়মনসিংহ-৫ এর পুলিশ সুপার আনছার উদ্দিন।
ভালুকায় বিভিন্ন শিল্প কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত ২০-২৫দিন যাবত গ্যাস সরবরাহ সংকটের কারনে, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার শিল্প-কারখানা গুলোয় উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকের নিচে। যথা সময়ে শিপমেন্ট বা সময় মতো পন্য সরবরাহ ঠিক রাখতে, শতভাগ রপ্তানীমুখী কিছু কিছু খারখানায় বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন চালিয়ে আসলেও বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন ব্যয় দ্বিগুন হওয়ায় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান তা করতে পারছেন না। ফলে, দিনের অর্ধেক সময় শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। গত দুই দিন যাবত গ্যাসের চাপ কম থাকায় অন্যান্য কারখানাতেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা চরম আকার ধারণ করায় কিছু কিছু কারখানা নিরুপায় হয়ে, আধাবেলা কাজ করিয়ে শ্রমিকদের ছুটি দিতে শুরু করেছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষরা জানান, এ অবস্থার উন্নতি না হলে যে কোন সময় অধিকাংশ কারখানা গুলো বন্ধ করা ছাড়া কোন বিকল্প থাকবে না।
তিতাস গ্যাস বিক্রয় ও বিপনন, ভালুকা জোনাল অফিসের ম্যানেজার প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, বুধবার বিকাল থেকে গ্যাস সরবরাহ লাইনে সর্বনিন্ম চাপ থাকায় বিভিন্ন কারখানার জেনারেটর চালু করা যাচ্ছে না। তিনি আরোও জানান, কখন পর্যন্ত সরবরাহ লাইনে চাপ বাড়বে তা বলা যাচ্ছে না।
উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় অবস্থিত, ক্রাউন ওয়্যার লিমিটেডের প্রোডাকশন ডাইরেক্টার (পিডি) মোঃ আসাদ জানান, গত কয়েকদিন গ্যাস সরবরাহ একবারে কম, ফলে বিকল্প ব্যাবস্থায় কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, বৃহস্পতিবার পাঁচটার দিকে শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যবস্থায় বেশি দিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে না।
জামিরদিয়া এলাকার পিএনীট কম্পোজিট কারখানার এ্যাডমিন জিএম মোঃ রুমি জানান, সোলার সহ তাদের সম্পুর্ন বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় কারখানার উৎপাদন এখনো চালু রাখা হয়েছে। তবে এ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন কমে আসবে। একই এলাকায় অবস্থিত এসকিউ গ্রুপ এর প্রশাসনিক প্রধান, লেঃ কর্নেল (অব) মোঃ রাজিব হোসেন জানান সঠিক সময়ে সিপম্যান্ট করার জন্য সম্পুর্ন বিকল্প ব্যবস্থায় কারখানার উৎপাদন চালু রাখা হয়েছে।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ বিভাগের উপমহাপরিদর্শক আহামদ মাসুদ জানান, এখনো কোন কারখানা একে বারে বন্ধ হয়নি, ধুকে ধুকে চলছে। আমাদের কাজ শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে। পুরোপুরি বন্ধ হলে আমাদেরকে অবহিত করা হতো।
ময়মনসিংহ শিল্প পুলিশ-৫ এর পুলিশ সুপার আনছার উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কাজে যোগ দিলেও, গ্যাস-সংকট থাকায় দুপুরের খাবারের পরে অন্তত ২০টি কারখানার শ্রমিকদের ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হয়। তবে কোন কোন কারখানা গ্যাস সংকটে উৎপাদনে সমস্যা হচ্ছে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।
আরটিভি/ এসকেডি


