
ফেনী জেলায় ৫৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩২৮টিতে প্রধান শিক্ষক নেই।
দীর্ঘদিন ধরে এসব পদে স্থায়ী নিয়োগ বা পদায়ন না হওয়ায় জেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা সংকটে পড়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের একসঙ্গে পাঠদান ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার মানও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোনাগাজী ও ফেনী সদর উপজেলায় প্রধান শিক্ষক পদ সবচেয়ে বেশি শূন্য। সোনাগাজীর ১১০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৫টিতে এবং ফেনী সদরের ১৫১টির মধ্যে ৭৬টিতে প্রধান শিক্ষক নেই।
এ ছাড়া ফুলগাজীর ৬৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৫টি, ছাগলনাইয়ার ৭৮টির মধ্যে ৩৯টি, দাগনভূঞার ১০২টির মধ্যে ৫৯টি এবং পরশুরামের ৫১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৪টিতে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
ফলে জেলার অর্ধেকের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের শিক্ষকরা বলছেন, বছরের পর বছর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। একজন সহকারী শিক্ষককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় তাঁকে নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজও করতে হচ্ছে। এতে তাঁর নির্ধারিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অন্য শিক্ষকদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
দাগনভূঞার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকেই প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করায় বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক ও একাডেমিক উভয় ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। গ্রেডেশনের মাধ্যমে দ্রুত পদোন্নতির তালিকা তৈরি করে প্রধান শিক্ষক পদে জনবল নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ফেনী সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মনসুর মেহেদী হাসানও দ্রুত শূন্য পদ পূরণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়গুলো নানা সমস্যার মুখে পড়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. মহি উদ্দিন খোন্দকার বলেন, মামলার কারণে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। সরকারের উদ্যোগে এসব মামলা নিষ্পত্তি করে দ্রুত শূন্য পদ পূরণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হৃষীকেশ শীল বলেন, জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘদিন একটি মামলা চলমান থাকায় প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে তিনি জানান। শিগগিরই নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, জেলার শূন্য পদের তালিকা ও সার্বিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রমে গতি ফিরবে বলে আশা করছেন তিনি।
আরটিভি/টিআর



