ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

রংপুরে ৪ হত্যা: আদালতে ২ আসামির জবানবন্দি, মিলল নতুন তথ্য

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই আসামি সীমান্ত দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নতুন তথ্য উঠে এসেছে।

এ ছাড়া ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্তে বেশ কিছু তথ্য সামনে এসেছে। নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীর শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে দুজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধ বা গলায় ফাঁস দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই হত্যার ঘটনায় নতুন করে আরও তথ্য দিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সংবাদ সম্মেলনে সীমান্ত দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির তথ্য তুলে ধরেন ডিআইজি।

তিনি বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সীমান্ত দাস বলেছেন, তিনি একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করেন। আর সিদ্ধার্থ দাস স্বর্ণের দোকানের কারিগর হিসেবে কাজ করেন। গণপতি চক্রবর্তী স্যারের বাড়ির সঙ্গে সিদ্ধার্থদের বাড়ি লাগোয়া ছিল। গণপতি স্যার যে জমিতে বাড়ি করেছিলেন, সেটি আগে সিদ্ধার্থদের পূর্বপুরুষদের জমি ছিল। পরে গণপতি স্যার জমিটি কিনে বাড়ি করেন।

সিদ্ধার্থের জবানবন্দি অনুযায়ী, তিনি আগে মাঝেমধ্যে উৎসবের সময় ইয়াবা সেবন করতেন। তবে ঘটনার আগের এক মাস ধরে প্রতি বৃহস্পতিবার একটি করে ইয়াবা সেবন করতেন। সিদ্ধার্থের বড় ভাইয়ের সম্প্রতি বিয়ে হয়। এরপর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে তিনি প্রায় ছয়-সাত মাস ধরে বিজয় কাকুর বাসায় ঘুমাতেন। সেখানে খাওয়া-দাওয়াও করতেন। তবে ঘটনার আগের এক মাস ধরে প্রতি বৃহস্পতিবার তিনি সীমান্তদের বাসায় থাকতেন। সীমান্ত নেশা করেন না। ঘটনার বিষয়েও তিনি কিছু জানতেন না। আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সীমান্তের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

সিদ্ধার্থের বক্তব্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর তিনি ইয়াবা নিয়ে মুগ্ধকে সঙ্গে করে সীমান্তদের বাসায় যান। সেখানে দুজন মিলে তিনটি ইয়াবা সেবন করেন। রাত ৩টার দিকে আরও ইয়াবা সেবনের ইচ্ছা হলে তারা ইয়াবা ব্যবসায়ী শান্তর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। এরপর শান্তর বাড়ির সামনে থেকে আরও চারটি ইয়াবা সংগ্রহ করেন। তদন্তে ওই ইয়াবা ব্যবসায়ীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

ইয়াবা নেওয়ার সময় তারা মোবাইল ফোন বন্ধক রেখেছিলেন। পরে ঘটনার পর তারা ওই বাড়ি থেকে ১৫ হাজার টাকা নেন। এর মধ্যে সিদ্ধার্থ ভাগে পান ৩ হাজার ৫০০ টাকা। ওই টাকা দিয়ে তিনি বন্ধক রাখা মোবাইল ফোনটি ছাড়িয়ে নেন। চারটি ইয়াবা নেওয়ার পর তারা আবার সীমান্তদের বাসায় যান। রাত ৩টার পর সেখান থেকে বের হন। রাস্তায় কুকুর থাকায় তারা সরাসরি না গিয়ে দেয়াল টপকে দেবুদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। দেবুদের বাড়ির ছাদ ছিল খোলা। সেখানে বাতাস চলাচল করত। এরপর তারা ওই ছাদ থেকে গণপতি স্যারের বাড়ির ছাদে যান। দুই ছাদের মধ্যে দূরত্ব ছিল প্রায় দুই থেকে আড়াই ফুট।

গণপতি স্যারের ছাদের চারপাশে হাফওয়াল ছিল। ফলে বাইরে থেকে সহজে দেখা যেত না। পানির ট্যাংকির আড়ালে বসে তারা ইয়াবা সেবন শুরু করেন। তারা ইয়াবা সেবন করতে করতে খেয়াল করেননি কখন ভোর হয়ে গেছে। সিদ্ধার্থের জবানবন্দি অনুযায়ী, সেদিন তারা মোট আটটি ইয়াবা সেবন করেন। জীবনে এর আগে তারা একসঙ্গে সর্বোচ্চ দুটি ইয়াবা সেবন করেছিলেন। মুগ্ধের জবানবন্দিতে অবশ্য সেদিন ৯টি ইয়াবা সেবনের কথা এসেছে। এটি আটটি ও পরে আরও একটি ইয়াবা সেবনের হিসাব হতে পারে।

পরে ভোরে গণপতি চক্রবর্তী স্যার ছাদে হাঁটতে গিয়ে তাদের দেখে ফেলেন। তিনি তাদের ধমক দিয়ে বলেন, তোরা এত সকালে এখানে কী করিস? তখন তারা ভয় পেয়ে যায়। তাদের আশঙ্কা ছিল, স্যার চিৎকার করলে বিষয়টি সবাই জেনে যাবে। মান-সম্মানের ভয়েও তারা স্যারকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জবানবন্দিতে এসেছে। সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ স্যারের গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে দুইদিক থেকে টান দেন। একপর্যায়ে স্যার মারা যান। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে শ্বাসরোধজনিত মৃত্যুর বিষয়টি উঠে আসে। তাদের দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে ময়নাতদন্তের ওই তথ্যের মিল পাওয়া গেছে।

গণপতির মরদেহ টিন দিয়ে ঢেকে রাখার সময় শব্দ পেয়ে সম্ভবত তার স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে চলে আসেন। তারা চিৎকার শুরু করেন। তখন মুগ্ধ গণপতির স্ত্রীর গলা চেপে ধরেন আর সিদ্ধার্থ মেয়ের গলা চেপে ধরেন। একপর্যায়ে গণপতির স্ত্রীর গলায় থাকা গামছা দিয়েই মেয়েটির গলায় প্যাঁচ দেওয়া হয়। পরে পাশের কবুতরের খাবার রাখার বাক্স থেকে রশি নিয়ে মেয়েটির গলায় পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেওয়া হয়। এভাবে মা ও মেয়েকেও হত্যা করা হয়। এরপর বাড়িতে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা আছে কি না, সেই আশঙ্কা থেকে তারা নিচতলায় যান। সেখানে একটি পুরোনো প্লাস পান। সেটি দিয়ে বিদ্যুতের তার কেটে দেন, যাতে কোনো ক্যামেরা থাকলেও সেটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পরে তারা আবার ছাদে যান। মা ও মেয়ের মরদেহ ছাদের গেটের ভেতরে সিঁড়ির দিকে রেখে দেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, দেবুদের বাড়ির ছাদ থেকে যেন মরদেহ দেখা না যায়। এরপর তারা গণপতির ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে দেখেন, শিশুটি ঘুম থেকে উঠছে। শিশুটি সিদ্ধার্থকে চিনতে পারে এবং বলে, সিদ্ধার্থ দাদা, তুমি এখানে কেন? এর আগে আমরা শিশুটি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল বলে যে তথ্য পেয়েছিলাম, তখন সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তারা বলেছে, শিশুটি ঘুম থেকে উঠে সিদ্ধার্থকে চিনে ফেলে এবং তার নাম ধরে ডাকে।

শিশুটি চিৎকার করে অন্যদের জানিয়ে দিতে পারে— এই আশঙ্কায় তারা তাকে হত্যা করে। জবানবন্দি অনুযায়ী, কাপড় দিয়ে শিশুটির গলায় প্যাঁচ দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। এরপর তারা দুজনই অনেকটা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তারা গোসল করেন। গোসলের পর তাদের কাছে থাকা আরেকটি ইয়াবা সেবন করেন। এরপর মুগ্ধের মাথায় বাড়িটিকে চুরি বা ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখানোর পরিকল্পনা আসে। তারা ঘরের ড্রয়ার খুলে জিনিসপত্র এলোমেলো করতে থাকেন। মুগ্ধ বিভিন্ন অলংকার এনে দেন। সিদ্ধার্থ সেগুলো প্লাস্টিকের বাক্স ও কাপড়ের প্যাকেটে রাখেন।

বাড়ি থেকে তারা ১৫ হাজার টাকা নেন। জুমার নামাজের সময় বাইরে মানুষের চলাচল কমে গেলে তারা গণপতির বাড়ির ছাদ থেকে দেবুদের বাড়ির ছাদে যান। এরপর দেয়াল টপকে বাইরে বের হয়ে যান। মুগ্ধ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যান। আর স্বর্ণালংকারের ব্যাগ নিয়ে সিদ্ধার্থ একটি গলিতে যান। পরে কাউকে বুঝতে না দিয়ে পূর্ণিমা নামে এক কাকির বাড়ির পেছনে মাটির নিচে স্বর্ণালংকারগুলো রেখে দেন। পূর্ণিমা ও তার স্বামী বিজয় এসব বিষয়ে কিছুই জানতেন না।

এরপর সিদ্ধার্থ বাড়িতে গিয়ে আবার গোসল করেন। পরে মুগ্ধের কাছে গিয়ে তার ভাগের ৩ হাজার ৫০০ টাকা নেন। ওই টাকা দিয়ে বন্ধক রাখা মোবাইল ফোনটি ছাড়িয়ে নেন। পরদিন সিদ্ধার্থ স্বাভাবিকভাবে দোকানে কাজে যান। অন্যদিকে মুগ্ধ বাড়িতেই ছিলেন। পরে পুলিশ মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করে।

এই হত্যাকাণ্ডে সিদ্ধার্থের সঙ্গে অপর আসামি হিসেবে মুগ্ধ দাসের নামও এসেছে। মুগ্ধের জবানবন্দিতেও একই ধরনের ঘটনার কথা উঠে এসেছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বরগুনায় সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন
বরগুনায় এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বরগুনায় সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন
২০ টাকা চুরির অপবাদে শিশুকে বেধড়ক পেটালেন মাদরাসাশিক্ষক
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ২০ টাকা চুরির অভিযোগে ১০ বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রকে মারধর, গলা চেপে ধরা ও লাথি মারার পর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরিফ উল্লাহ (২৩) নামে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চকরিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাষ্টারপাড়ায় অবস্থিত চকরিয়া তানযীমুল কুরআন হিফজ মাদরাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তার আরিফ উল্লাহ কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরং ইউনিয়নের জুম্মাপাড়ার বাসিন্দা শহিদুল্লাহর ছেলে। পুলিশ জানায়, মাদরাসাটিতে পড়াশোনা করা ১০ বছর বয়সী শিশুটির বিরুদ্ধে ২০ টাকা চুরির অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষক আরিফ উল্লাহ শিশুটিকে মাদরাসার অফিসকক্ষে নিয়ে বেত দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরা, কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে খবর পেয়ে শিশুটিকে আহত ও অবরুদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে চিকিৎসার জন্য চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি আরিফ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।  ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তার শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।  আরটিভি/এসকে
২০ টাকা চুরির অপবাদে শিশুকে বেধড়ক পেটালেন মাদরাসাশিক্ষক
চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি মামলার প্রধান আসামি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদাদাবি, মারধর ও বিপুল পরিমাণ সিগারেট লুটের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯ ও এসআরবি-৭-এর যৌথ দল।
চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি মামলার প্রধান আসামি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রেপ্তার
বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে ব্যাগ উধাও, কাঁদছেন জার্মান পর্যটক
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখতে এসে নাটোর রেলস্টেশনে ব্যাগ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন ১৮ বছর বয়সী জার্মান পর্যটক কিরিল।
বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে ব্যাগ উধাও, কাঁদছেন জার্মান পর্যটক
মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
মা ইলিশের নির্বিঘ্নে প্রজনন নিশ্চিত করতে মধ্যরাত থেকে নদ-নদী ও অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ মাছ ধরা বন্ধ হচ্ছে। ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার নদীপথের অভয়াশ্রম ও সংশ্লিষ্ট নদ-নদীতে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
আরও পড়ুন
বেরোবিতে পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি
‘কাঁদলে লাশ গায়েব করে দেবো’ ইমনের মায়ের বর্ণনা
ধানক্ষেতে মিলল গলাকাটা মরদেহ
যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেপ্তার ৩