
ঝিনাইদহে সার সংকটের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন আমন চাষিরা। পর্যাপ্ত সার না পেয়ে কালিগঞ্জ উপজেলার ডিলারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কৃষকরা। গোডাউনে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকা সত্ত্বেও ডিলাররা তা দিচ্ছেন না—এমন অভিযোগে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। সময়মতো সার না পেলে এ বছর আমন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
জেলার কালিগঞ্জ শহরের নিমতলা বাস স্ট্যান্ড এলাকার বিসিআইসি অনুমোদিত মেসার্স সাগর ট্রেডার্সের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সার সংগ্রহের জন্য অর্ধশতাধিক কৃষক ভিড় করেছেন কিন্তু সার না পেয়ে তারা চরম হতাশা প্রকাশ করেন। কালিগঞ্জ উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নেও একই চিত্র। সরকারি বাফার সার গোডাউন গিয়ে দেখা গেছে তালাবন্ধ। সার না পেয়ে হতাশ কষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের কাছে সার চাইতে গেলে তাদের আজ বা কাল আসার কথা বলে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
হতাশ কৃষক রফিক মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, আমরা ভিক্ষা চাইলেও ভিক্ষা পাই, কিন্তু সার পাচ্ছি না। আমাদের ১৫ বস্তা সারের প্রয়োজন, অথচ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২ বস্তা। এই সামান্য সার দিয়ে আমরা কী করব? আর এখনই সার না পেলে আমরা উৎপাদন করব কী করে? আমাদের তো সব শেষ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
চাষি ইব্রাহিম অভিযোগ করেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েও সার মিলছে না। বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) আসতে বলেছে কিন্তু এসে পেলাম না। আজ আসতে বলেছে এসে দেখি দোকানের শাটার ঝুলছে তালা। ইউরিয়া ও ফসফেটসহ কোনো সারই চাহিদামতো পাওয়া যাচ্ছে না। সামান্য যেটুকু দেওয়া হচ্ছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা ইচ্ছা করে সার সংকট তৈরি করে কৃষকদের চরম হয়রানি করছেন।
দুর্ভোগের এই সময়ে কোনো জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতা কৃষকদের পাশে দাঁড়াননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী কৃষক মিলন হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখন আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই চলছে, আমরা শুধু সার চাচ্ছি। কিন্তু এই দুর্দিনে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই।
সার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত অনেক কৃষক ডিলারের দোকানের সামনে অবস্থান নেন এবং দাবি আদায় না করে বাড়ি ফিরবেন না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন কষকরা।
সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপর। দ্রুত এই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
বিসিআইসি সার ডিলার দাউদ হোসেন বলেন, চাহিদা মোতাবেক আমরা ইউরিয়া সার পাচ্ছি না, যেটা দিচ্ছে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।
ঝিনাইদহ কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, সার সংকট এটা আমি বলতে পারবো না বিষয়টা, এরকম অভিযোগ আমার কাছে আসে নাই। যেমনটা পেয়েছি কৃত্রিম মজুদার বা অবৈধ মজুত সেগুলা তাৎক্ষনিক ব্যবস্হা নিয়ে এর আগে আমি দুই তিনটা মোবাইল কোর্ট করেছি।
আরটিভি/এমএম

-1790135980-405383_1790136034.jpg)
