
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর শহরের সলেমানপুর সাহাপাড়ায় দুর্গাপূজার সব আয়োজন করছেন নারীরা। প্রতিমা সাজানো, মন্দিরের সাজসজ্জা, বাজার-সদাই, পুরোহিত ঠিক করা থেকে শুরু করে অতিথি আপ্যায়ন— সব দায়িত্বই পালন করছেন তারা। এ উদ্যোগের শুরু ২০২৫ সালে, যখন কয়েক বছর ধরে পুরুষদের উদ্যোগে পূজার আয়োজন বন্ধ ছিল।
এলাকাবাসী জানান, ব্রিটিশ আমল থেকে সাহাপাড়ার মন্দিরে দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। আগে পুরুষরাই পূজার আয়োজন করতেন। তবে ২০২৫ সালের আগে কয়েক বছর পূজার আয়োজন বন্ধ থাকায় মহল্লার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে এলাকার নারীরা একত্র হয়ে গঠন করেন নবারণ মহিলা সংঘ। সংগঠনটির উদ্যোগে গত বছর পূজার আয়োজন করা হয়। এবারও পূজার সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন নারীরা।
মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গা, গণেশ, কার্তিক ও সরস্বতীর প্রতিমা সাজানোর কাজ চলছে। কেউ মন্দিরের দেয়ালে রং ও আল্পনা আঁকছেন, কেউ ডেকোরেশনের কাজে ব্যস্ত। আবার কেউ বাজার-সদাই করছেন, কেউ ব্যস্ত মন্দির চত্বর পরিষ্কার ও অতিথি আপ্যায়নে।
স্থানীয় বাসিন্দা হরিপ্রসাদ সাহা জানান, পাড়ার নারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পূজার চাঁদা সংগ্রহ করেন। সারা বছর তারা নিজ উদ্যোগে অর্থও জমিয়ে রাখেন। নারীদের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
পার্শ্ববর্তী আলামপুর গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজার-সদাই থেকে শুরু করে পুরোহিত ঠিক করা ও ডেকোরেটর ভাড়া— সব কাজ নারীরাই করছেন। তাদের উদ্যোগ, পরিশ্রম ও আন্তরিকতা দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।
নবারণ মহিলা সংঘের কোষাধ্যক্ষ পূজা রানি সাহা বলেন, গত বছরের তুলনায় প্রতিমা সাজানোর সরঞ্জাম ও পূজার আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। নারীদের উদ্যোগে সংগ্রহ করা অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় কম। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের সহযোগিতা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
সংঘের সাধারণ সম্পাদক কবিতা রানি সাহা বলেন, পুরুষেরা কয়েক বছর পূজার আয়োজন করতে না পারায় এলাকার নারীরা বৈঠক করে নবারণ মহিলা সংঘ গঠন করেন। এরপর বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা সংগ্রহ করে পূজার আয়োজন শুরু করেন। দেবী দুর্গার আরাধনাই তাদের মূল লক্ষ্য।
সংঘের সভাপতি বেবী রানি সাহা বলেন, শুরুতে অনেকেই তাদের নিরুৎসাহিত করেছিলেন। তবে মহল্লার নারীদের আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় তারা কাজটি চালিয়ে যেতে পেরেছেন। এবার টানা দ্বিতীয়বারের মতো তারা দুর্গাপূজার আয়োজন করছেন।
তিনি জানান, পূজার সব কাজ নারীরা করলেও পুরুষেরা বিভিন্নভাবে সহায়তা ও পরামর্শ দেন। গত বছর শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করা হয়েছিল। এবারও সার্বিক পরিবেশ সন্তোষজনক। প্রশাসনের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে


