
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে জুমার নামাজ আদায় করতে বাড়ি থেকে বের হয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ইমরান হোসাইনের (৩৫)। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার সাঁতারপাড়া সড়কের মালে বাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমরান হোসাইন রামগঞ্জ পৌরসভার টামটা এলাকার বাগাড়ী বাড়ির সৌদি প্রবাসী হাফেজ শামসুল ইসলামের বড় ছেলে। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার সংসার ছিল।
নিহতের ছোট বোন বুসরা আক্তার জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সোনাপুর বড় মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন ইমরান। পথে সাঁতারপাড়া সড়কের মালে বাড়ি এলাকায় একটি কুকুরকে পাশ কাটাতে গিয়ে সিএনজিটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এ সময় এতে আরও কয়েকজন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় ইমরান গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
ইমরানের বড় ছেলে আব্দুল্লাহ (১১) লক্ষ্মীপুর শহরের একটি হাফেজি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। আর ছোট মেয়ে ফাতেমা (৯) রামগঞ্জ মডেল মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইমরান আগে ইতালিতে প্রবাসজীবন কাটিয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রায় সাত বছর আগে দেশে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় এক খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবসা করছিলেন। প্রায় দুই মাস আগে তারা ব্যবসাটি শুরু করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ইমরান নিয়মিত জুমার নামাজ আদায় করতেন। রামগঞ্জের বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে প্রতি শুক্রবার ভিন্ন ভিন্ন মসজিদে নামাজ পড়তেন। এবার সোনাপুর বড় মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। তবে নামাজ পড়ার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাঁতারপাড়া সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ থাকায় যান চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর মধ্যে হঠাৎ কুকুরকে পাশ কাটাতে গিয়ে সিএনজিটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বলে জানান তারা। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রামগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাবুর আলী জানান, ঘটনাটি শুনে তারা অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত সব ধরনের সহায়তা করা হবে।
আরটিভি/এসকে



