
নীলফামারীর সৈয়দপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে শহরের মিস্ত্রিপাড়া মোড়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) থেকেই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিস্ত্রিপাড়া শাখাওয়াত তালাও (পুকুর) এলাকার কিশোর গ্যাং গ্রুপের সাথে মিস্ত্রিপাড়া নবীনগর এলাকার গ্রুপের বিরোধ চলছে। এনিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনার সমাধানে বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই শনিবার দুপুরে নবীনগর এলাকার সাহিদের ছেলে রাজা (১৮) মিস্ত্রিপাড়া মোড়ে যায়। সেখানে শাখাওয়াত তালাও এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সাদ্দাম, গোল্ডেন, সালাউদ্দিন ও জুয়েলের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন তার (রাজা) ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাৎক্ষণিক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
এর প্রেক্ষিতে নবীনগর এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি-সোঁটা নিয়ে প্রতিপক্ষের এলাকায় গিয়ে মহড়া দিয়ে মিস্ত্রিপাড়া মোড়ে অবস্থান করে। আর এর ফাঁকেই শাখাওয়াত তালাও এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা উল্টোপথে নবীনগর এলাকায় গিয়ে বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করাসহ সেখানকার নারী-পুরুষের উপর হামলা চালায়। এতে প্রায় ৫ জন আহত হয়। এঘটনায় এলাকার সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানকার লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
নবীনগর এলাকার আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী গুলশান আরা বলেন, শাখাওয়াত তালাও এলাকার ছেলেরা অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তারা আমার বাড়িতেও চড়াও হয় এবং আমাকে মারধর করেছে। অথচ দুই পক্ষের গ্যাঞ্জামের সাথে আমার পরিবারের কেউ জড়িত নয়। আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। এমনকি সাহিদের ছেলে রাজাকে যে কোপানো হয়েছে। সে এসবের মধ্যে ছিলনা। সে খুবই সাধারণ ও ভদ্র ছেলে। কিন্তু সন্ত্রাসীরা তাকেই মেরেছে। একারণেই এলাকার ছেলেরা ক্ষিপ্ত হয়েছে। আমরা এমন দুর্বৃত্তদের হাত থেকে বাঁচতে চাই। নিরীহ লোকজনকে নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।
মিস্ত্রিপাড়া মোড় এলাকার সাহিদের ছেলে ইমরান বলেন, একটা ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শুক্রবার গ্যাঞ্জাম হয়। সে সময় তানভির নামে একটি শিশুকে শাখাওয়াত তালাও এলাকার ছেলেরা আটক করে মারধর করছিল। আমি এর প্রতিবাদ করে তানভিরকে ছেড়ে দিতে বলেছিলাম। একারণে তারা আমাকে প্রতিপক্ষ মনে করে আমার বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে। অস্ত্র দিয়ে দরজায় ও জানালায় আঘাত করে প্লেনসিট বাঁকা করে ফেলেছে এবং বাড়িতে ঢুকে জিনিসপত্র তছনছ করেছে। আমরা পুলিশকে খবর দিলেও আসেনি। বরং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে যাওয়া যাবে না। কারণ এক নেতা নিষেধ করেছে।
নবীনগর এলাকার গৃহিণী নিপু বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কথা আমরা টিভির পর্দায় দেখেছি। কিন্তু আজ চোখের সামনে অস্ত্র নিয়ে ১৫-২০ জনের মহড়া দেখলাম। তারা আমাদের ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এমনকি মহিলাদের গায়েও হাত তুলেছে। বাধা দেওয়ায় প্রায় ৫ জনকে এলোপাথাড়ি মারধর করে জখম করেছে। একারণে আমরা চরমভাবে আতঙ্কিত। তারা এলাকার রাজাকে নৃশংসভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে। সে এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এই সন্ত্রাসীদের উচিত বিচার দাবি করছি।
সৈয়দপুর পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তারিক আজিজ বলেন, মূলত কী কারণে এই ঘটনা তা জানি না। তবে শনিবার সকালে শাখাওয়াত তালাও এলাকার ছেলে সাদ্দাম সাহেবপাড়া আমিন মোড় এলাকায় তার কর্মস্থল দর্জি দোকানে গেলে তাকে দোকান থেকে বের করে নবীনগর এলাকার ছেলেরা আটক করে মারপিট করে। এর প্রেক্ষিতেই পাল্টা হামলা চালানো হয়। বিষয়টা মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সার্বিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে


