
চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদার দলকা-লক্ষীপুর বিলের পানি দূষণে মারা গেছে বিপুল পরিমাণ মাছ। পুরো বিলজুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে রুই, কাতলা, সিলভারসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় মৎস্যজীবী ও মাছ চাষিরা। সাড়ে ৩০০ মণেরও বেশি মাছ মারা গেছে বলে দাবি তাদের। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে দলকা-লক্ষীপুর বিলে দেখা যায়, পানি দূষণের কারণে কালো আকার ধারণ করেছে পুরো বিল। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে অসংখ্য মরা মাছ। এরমধ্যে রয়েছে্ ১ থেকে ২ দুই কেজি ওজনের রুই, কাতলা, সিলভার, ব্রিগেড। এছাড়াও পুঁটি, টেংরা, শিং, টাকি, খলিশাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ।

মাছ চাষি মাসুদ রানা বলেন, বিলে নতুন করে লাখ লাখ টাকার মাছ ছাড়া ছিল। সেই মাছ বড় হচ্ছিল। এক মাসের মধ্যে আমরা মাছ ধরতাম। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেছে। গত কয়েকদিন থেকে বিলের মাছ মারা যাচ্ছে। সাড়ে ৩০০ মণেরও বেশি মাছ মারা গেছে। সবমিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। আমরা মৎস অফিসারদের সাঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। তারা এখানে আসেননি। তবে, লবন ও চুন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
দলকা-মরাগাংনী মৎসজীবী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি ওমর আলী ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তার আলী বলেন, বিলে প্রতিদিনই মাছ মারা যাচ্ছে। প্রতিদিন সকালে এসে দেখি মাছ মরে ভেসে আছে। এই বিল থেকেই আমাদের সংসার চলে। এভাবে মাছ মারা গেলে আমাদের তো পথে বসতে হবে।
সরেজমিনে বিল পরিদর্শন না করার বিষয়টি স্বীকার করে দামুড়হুদা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারুক মহলদার বলেন, বিলের পানিতে পাট জাগ দেওয়ার কারণে পানি দূষিত হয়ে মাছ মারা যেতে পারে। এছাড়া বিলের আশপাশের জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের পর বৃষ্টির পানির সাথে তা বিলের পানিতে মেশার কারণে মাছ মারা যেতে পারে। অতিরিক্ত গরমের কারণেও মাছের বিভিন্ন রোগ দেখা দিলে মাছ মারা যেতে পারে। মাছ মারা যাওয়া রোধে বিঘা অনুযায়ী লবণ ও চুন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই আমরা বিল পরিদর্শন করবো।
এদিকে, মাছ মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটন ও সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবী ও চাষিরা।
আরটিভি/এমএম




