ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মুমূর্ষু বৃদ্ধ মাকে নিয়ে উত্তাল সাগর পাড়ি, স্পিডবোটের ভিডিও ভাইরাল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামে গুরুতর অসুস্থ ৮০ বছরের মাকে নিতে উত্তাল সাগর পাড়ি দিতে হয়েছে স্বজনদের। নাকে অক্সিজেনের নল, পাশে অক্সিজেন সিলিন্ডার। কোলে শুয়ে থাকা বৃদ্ধাকে বৃষ্টি থেকে রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা। এর মধ্যেই উত্তাল ঢেউ আর মুষলধারে বৃষ্টি। এমনই একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে ধারণ করা ভিডিওটিতে দেখা যায়, উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে কখনো ওপরে উঠে যাচ্ছে স্পিডবোট, আবার আছড়ে পড়ছে নিচে। এর মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ রওশন আরা বেগমকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। বৃষ্টি থেকে তাকে রক্ষায় স্বজনরা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখলেও বাতাসে তা বারবার সরে যাচ্ছিল।

রওশন আরা বেগম সন্দ্বীপ পৌরসভার তালতলি বাজারসংলগ্ন ছটাই বাড়ির বাসিন্দা। তার বয়স প্রায় ৮০ বছর। কয়েক বছর ধরে তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। শনিবার সন্ধ্যা থেকে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে রোববার সকালে তাকে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল সন্দ্বীপ মেডিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা দ্রুত তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

পরে সকাল ১০টার দিকে স্বজনরা তাকে নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে জনপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়ায় একটি স্পিডবোটে করে সাগর পাড়ি দিতে হয় তাদের। প্রায় চার ঘণ্টা পর বেলা ২টার দিকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছান তারা।

রওশন আরার ছেলে জাহাঙ্গীর কবির বলেন, জরুরি রোগী পারাপারের জন্য ঘাটে গিয়ে তারা কোনো বিশেষ সহায়তা পাননি। বাধ্য হয়ে স্পিডবোটে করে মাকে নিয়ে চট্টগ্রামে যেতে হয়েছে।

তিনি বলেন, এমন দুর্ভাগ্য আমাদের, জরুরি চিকিৎসায় পারাপারের ব্যবস্থা নেই। উল্টো জীবনের শঙ্কা নিয়েই রোগী নিয়ে সাগরে ঝাঁপ দিতে হয়।

জাহাঙ্গীর জানান, বর্তমানে তার মা চট্টগ্রাম শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছেন। তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো হলেও এখনো আশঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বশির আহম্মেদ জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ সময় সাগর উত্তাল থাকে। ১ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত এ সতর্কসংকেত বহাল থাকবে।

এমন বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে সাগর পাড়ি দেওয়ার ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে সন্দ্বীপের জরুরি রোগী পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্দ্বীপে জরুরি রোগী পারাপারের জন্য দুটি সি-অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে দুটিই অচল।

একটি সি-অ্যাম্বুলেন্স ২০০৮ সাল থেকে গুপ্তছড়া ঘাটের কাছে কেওড়াবাগানে পড়ে আছে। স্থানীয়দের দাবি, এক দিনের জন্যও সেটি রোগী পরিবহনে ব্যবহার করা হয়নি।

অন্যদিকে, ২০১৫ সালে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পক্ষ থেকে আরও একটি সি-অ্যাম্বুলেন্স সন্দ্বীপে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেটিও একবারের জন্যও চলাচল করেনি। বর্তমানে সেটি হারামিয়া ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পড়ে আছে।

মুমূর্ষু রোগী পারাপারে সি-অ্যাম্বুলেন্স দুটি কেন ব্যবহার করা হচ্ছে না জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানস বিশ্বাস বলেন, ওই দুটি সি-অ্যাম্বুলেন্স অচল হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। আমরা নতুন সি-অ্যাম্বুলেন্সের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানিয়ে এখনো কোনো সাড়া পাইনি।

আরও পড়ুন

এদিকে মুমূর্ষু রোগীকে উত্তাল সাগরের মধ্যে স্পিডবোটে করে চট্টগ্রামে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সন্দ্বীপের জরুরি চিকিৎসা ও রোগী পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
নেত্রকোনায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে কারাভোগে বাধ্য করার দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। মামলায় নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে। লিপি আক্তারের সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিনকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামাল উদ্দিনকে খালাস দেন। এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে কারাভোগে বাধ্য করার প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন। আরটিভি/এসকে
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
চট্টগ্রামের রাউজানে পরীক্ষার হলে চুল লম্বা রাখার কারণ জানতে চেয়ে শাসন করায় এক শিক্ষককে কলম দিয়ে একাধিক আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মাথায় সেলাই দিতে হয়।
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁর মান্দায় বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
দিনে জীবিকার তাগিদে কাজ করেন এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর অবসর পেলেই মেতে ওঠেন সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায়। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
আরও পড়ুন
৩০০ যাত্রী নিয়ে ডুবোচরে আটকে গেল ফেরি