ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সাগরে বিলীন বাবার কবর, কান্না থামছে না বৃদ্ধ জাকির হোসেনের

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
জাকির হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাবার কবর জিয়ারত করতেন জাকির হোসেন (৬২)। এ ছাড়া কোনো উপলক্ষে কিংবা বাবাকে মনে পড়লেই তিনি বাবার কবরের সামনে যেতেন। তবে এটি আর এখন সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে তিনি গিয়ে দেখেন, বাবার কবরের চিহ্নটুকুও নেই। ভাঙনে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে কবর। এর পর থেকেই কান্না যেন থামছে না জাকির হোসেনের।

জাকির হোসেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন উড়িরচরের বাসিন্দা। ২০১২ সালে তার বাবা মো. আলাউদ্দিনের মৃত্যু হয়। এরপর তাকে দাফন করা হয় উড়িরচরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলোনি বাজার মসজিদের কবরস্থানে। সবশেষ শুক্রবার বাবার কবর জিয়ারত করেন জাকির হোসেন। এর চার দিন না পেরোতেই কবরটির অস্তিত্ব মুছে যাবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি।

জাকির হোসেন বলেন, ‘বুকের ভিতরটা মোচড় দি (দিয়ে) উডে (ওঠে)। চার বছর আগে সাগরে বাড়ি হারাইছি। কিন্তু আঁত্তুন (আমার কাছে) এত খারাপ লাগে ন। আব্বার কবরটা ভাঙনের পর বুকের মইধ্যে যেন পাথর চাপি বসছে। এখন আব্বার কবরের চিহ্ন আর নাই। এই জীবনে আর আব্বার কবরে যাই জিয়ারতের সুযোগ থাইকল না।’

উড়িরচর সন্দ্বীপ উপজেলা শহর থেকে অন্তত ২০ কিলোমিটার উত্তর–পশ্চিমে নোয়াখালী উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত। বর্তমানে দ্বীপটির আয়তন প্রায় ১২০ বর্গকিলোমিটার। ১৯৭৫ সালের পর সন্দ্বীপে ভিটেমাটি হারানো কয়েকটি পরিবার সেখানে গিয়ে বসতি গড়ে। তাঁদেরই একজন ছিলেন আলাউদ্দিন।

জাকির হোসেন জানান, তাঁর বাবা ১৯৭৯ সালে সন্দ্বীপের কালাপানীয়া ইউনিয়ন থেকে উড়িরচরে গিয়ে ঘর তোলেন। তখন কালাপানীয়ায় তীব্র ভাঙন চলছিল। ১৯৯৫ সালের দিকে সেখানে ভাঙন থেমে যায়। পরে ওই এলাকায় বিস্তীর্ণ নতুন ভূমি জেগে ওঠে।


কালাপানীয়ায় ভাঙনে দিশাহারা অনেক পরিবার সে সময় নতুন জেগে ওঠা উড়িরচরে বসতি গড়ে। আলাউদ্দিনও পরিবার নিয়ে সেখানে চলে যান। তখন জাকিরের বয়স ১৫ বছর। তিনি বলেন, উড়িরচর তখন ছিল বিরানভূমি। চারদিকে তেমন কিছুই ছিল না। সময়ের সঙ্গে সেই ভূমিতেই জনবসতি গড়ে ওঠে। ধান, মাছ ও নানা ধরনের গাছপালায় সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে উড়িরচর।

জাকির হোসেন জানান, তাঁর বাবা চার ভাইকে খাইয়ে–পড়িয়ে বড় করেছেন। বিরানভূমিতে ঘর বেঁধে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে পরিবার নিয়ে টিকে ছিলেন তিনি। বয়সের ভারে কর্মক্ষমতা হারানোর পর ২০১২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। বাবার সংগ্রামী জীবনের কথা মনে পড়লে এখনো তাঁর কান্না আসে।

জাকির হোসেন আরও বলেন, ‘বাকি জনমে কবর সামনে রেখে দোয়া করার সুযোগ তো আর পাব না। উড়িরচরে তিনবার ভিটা আর জমিজিরাত হারাইলাম, আবার তৈয়ার করলাম। কিন্তু কবর তো আর তৈয়ার কইরতে পারব না।’

দক্ষিণ তীরের ভাঙনে তিনবার ঘর ও জমি হারিয়ে উত্তর দিকে সরে গেছেন জাকির হোসেন। এখন তার বাড়ি উড়িরচরের কামাল মার্কেট এলাকায়। ২০২৩ সালে উড়িরচরের সীমানা নির্ধারণের পর থেকে এলাকাটি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের অংশ হিসেবে চিহ্নিত। কলোনি বাজার থেকে কামাল মার্কেট কিছুটা দূরে হলেও বাবার কবরের টানে গতকাল সেখানে ছুটে এসেছিলেন জাকির। চেয়েছিলেন শেষবারের মতো কবরটি দেখতে। কিন্তু তার আগেই সাগরে বিলীন হয়ে গেছে সেটি।

অবশ্য শুধু জাকির হোসেন নন। গতকাল কবরস্থান এলাকায় ছুটে এসেছিলেন তার মতো আরও অনেকে। তাদের কেউ এসেছিলেন মা–বাবার কবর দেখতে, কেউ ভাই–বোন কিংবা অন্য স্বজনের। কিন্তু তারা কবরের আর কোনো চিহ্ন খুঁজে পাননি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা নুর নবি জাকির হোসেনের একটি ভিডিওধারণ করে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাকিরকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে আমার আব্বার কবর ছিল।’ এরপর সাগরের পানির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এই যে, এই বরাবর ছিল।’

নুর নবী রবিন বলেন, কলোনি বাজার মসজিদের কবরস্থানটি উড়িরচরের সবচেয়ে পুরোনো ও বড় কবরস্থান। গত সোমবার রাতে প্রায় পুরো কবরস্থান বিলীন হয়ে গেছে। এর পর থেকে জাকির হোসেনের মতো শত শত মানুষের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে উড়িরচরের বাতাস। কিন্তু এসব মানুষের কান্না ও ভোগান্তি দেখার কেউ নেই।

কবরস্থানের পাশাপাশি কলোনি বাজার মসজিদও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। গতকাল মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ইট খুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এরপর এলাকাবাসী এসে ইট খুলতে শুরু করেন। অন্য জায়গায় মসজিদ নির্মাণের কাজে এসব ইট ব্যবহার করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিলাদ হোসাইন বলেন, ‘আমরা কার কাছে অধিকার চাইব, কাকে বিচার দেব জানি না। একটি জনপদের কয়েক যুগের সব সম্পদ, মাটির সঙ্গে তৈরি হওয়া সব বন্ধন ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাচ্ছে। দুই–এক দিনেই হয়তো বিলীন হবে কলোনি বাজার। তারপর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান মাদরাসা ও উড়িরচর মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিলীন হয়ে যাবে। আমাদের কিছুই তো আর থাকল না।’

সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, উড়িরচরের ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি নিজে গিয়ে ভাঙনের তীব্রতা দেখে এসেছেন। সেখানে রাতারাতি সব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ। বিষয়টি তিনি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বরিশাল ‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের’ যাত্রা শুরু
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে বরিশালে মহিলাদের জন্য পৃথক একটি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছে সরকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়েছে ‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’। বরিশাল নগরীর আলেকান্দায় স্থাপিত ‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে’ রোববার (১১ অক্টোবর) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের সর্বপ্রথম ক্লাস শুরু হয়। বরিশাল বিভাগে এই প্রথম ‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’ নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে আর্কিটেকচার টেকনোলজি এবং কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেকনোলজি এ দুটি বিভাগ চালু করা হয়েছে। অধ্যক্ষ, ইন্সট্রাক্টর, সহকারী ইন্সট্রাক্টর কাফট ইন্সট্রাক্টরসহ ১১ জন শিক্ষক, ৬ জন কর্মকর্তা কর্মচারীসহ মোট ১৭ জন ও ৪৭ জন ছাত্রী নিয়ে এ ইনস্টিটিউট যাত্রা শুরু করেছে। এ দুই বিভাগে মোট আসন সংখ্যা রয়েছে ১শ’ টি। বরিশাল নগরীর আলেকান্দায় পরেশ সাগর মাঠের প্রবেশদ্বারের উত্তর পাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়েছে। ৩ একর ১৮ শতাংশ জমিতে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনার কাজ শুরু হয়। যার প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৫৫ কোটি টাকা। দৃষ্টিনন্দন প্রবেশ পথে একটি আকর্ষণীয় ৬ তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন, উত্তর পাশে ৬ তলা বিশিষ্ট বিশাল একাডেমিক ভবন ও দক্ষিণ পাশে ৬ তলা বিশিষ্ট আরেকটি একাডেমিক ওয়ার্কশপ ভবন রয়েছে। ভবন ৩টিতে লিফট এর ব্যবস্থা থাকছে। এছাড়া ৪ তলা বিশিষ্ট ২শ’ আসনের ছাত্রীনিবাস, ৫ তলা বিশিষ্ট ২০ ইউনিটের শিক্ষক ডরমেটরি ও ৩ তলা বিশিষ্ট ৬ ইউনিটের স্টাফ কোয়াটার, ১ তলা বিশিষ্ট অধ্যক্ষের বাসভবন, নিজস্ব বিদ্যুতের সাব স্টেশন ও অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবস্থা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। ‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে’র অধ্যক্ষ হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ এস. এম সামছুন নাহার। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম সামছুন নাহার বলেন, একাডেমিক ওয়ার্কশপ, বিদ্যুতের সাব স্টেশন ও শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে। তিনি জানান, বর্তমানে আর্কিটেকচার টেকনোলজি এবং কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেকনোলজি দিয়ে শুরু হলেও আরো দুটি কোর্স আগামী ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে চালু করা হবে। এতে আরো ১শ’ শিক্ষার্থী এখানে ভর্তির সুযোগ পাবে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস.এম সামছুন নাহার আরো বলেন, বর্তমান সরকার নারী বান্ধব। নারী শিক্ষা প্রসারে নতুন প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ প্রতিষ্ঠানে প্রথম বর্ষের দুটি বিভাগ চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও বিভাগ চালু করা হবে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করে নিজে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে। এতে যেমন শিক্ষার্থীরা নিজে স্বাবলম্বী হতে পারবে, তেমনি অন্যকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। জানতে চাইলে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’ বরিশাল বিভাগে এটাই প্রথম। এ ইনস্টিটিউটের ৬টি বহুতল ভবন, একটি একতলা ভবন, শহীদ মিনার, বিদ্যুৎ সাব স্টেশন, অভ্যন্তরীণ রাস্তাসহ, ড্রেন, দুটি অত্যাধুনিক প্রবেশ গেট, বাউন্ডারি ওয়াল এ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। ৩ একর ১৮ শতাংশ জমিতে প্রতিষ্ঠিত প্রকল্পের কাজ শেষ করতে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। তিনি আরো জানান, শহীদ মিনার, একাডেমিক ওয়ার্কশপ ও বিদ্যুতের সাব স্টেশন ভবন নির্মাণের অসমাপ্ত কাজ চলতি বছরের মধ্যে শেষ হবে। ‘সরকারি মহিলা পলিটেনিক ইনস্টিটিউটে’ বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা থেকে আসা আয়শা আক্তার আর্কিটেকচার টেকনোলজি বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী তার প্রথম ক্লাস অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, মনোরম পরিবেশ ও শিক্ষকমন্ডলীর আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমার জীবনের নতুন অধ্যায় সূচিত হল। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মরিয়ম বলেন, এ ইনস্টিটিউটে প্রবেশে আমার মনে অন্য রকম এক আনন্দ, উচ্ছ্বাস অনুভব হচ্ছে। নতুন ক্লাসে শিক্ষকদের আন্তরিকতা আমাকে উজ্জীবিত করেছে। শিক্ষাবিদ মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, মেয়েদের জন্য কারিগরি শিক্ষা কেবল একটি শিক্ষাপদ্ধতি নয় বরং এটি তাদের স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার সবচেযে শক্তিশালী হাতিয়ার। আমাদের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে কারিগরি বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে, কারণ সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির তুলনায় এ শিক্ষার মাধ্যমে সরাসরি কর্মমুখী দক্ষতা অর্জন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা । তিনি বলেন, একজন নারী যখন কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ হয়ে ওঠেন, তখন তিনি কেবল অন্যের অধীনে চাকরি করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং নিজের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন। একই সঙ্গে সমাজে আরও বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। আরটিভি/টিআর
বরিশাল ‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের’ যাত্রা শুরু
সাবেক কাউন্সিলরের বাসায় হঠাৎ ডিবির অভিযান, অতঃপর...
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানার উত্তর দেয়ানা এলাকার হোসেন শাহ রোডের ২১২ নম্বর বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।
সাবেক কাউন্সিলরের বাসায় হঠাৎ ডিবির অভিযান, অতঃপর...
হবিগঞ্জ থেকে উদ্ধার কুমিল্লার ৪ স্কুলছাত্রী, মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
বাবার মোবাইল ফোন ও মায়ের সোনার অলঙ্কার নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জ থেকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনজন পঞ্চম শ্রেণির এবং একজন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, টিকটকের মাধ্যমে পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠার পর পরিবারের অজান্তে গত ১২ অক্টোবর সকালে ওই চার শিক্ষার্থী স্কুলের অনুষ্ঠানের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু তারা ক্লাসে উপস্থিত হয়নি। বিষয়টি জানার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে অবহিত করে। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা-পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পাশাপাশি দেশের সব থানায় নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের ছবি ও তথ্য পাঠানো হয়। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, নিবিড় অনুসন্ধানের একপর্যায়ে গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত দুইটার দিকে চুনারুঘাট থানা-পুলিশের সহযোগিতায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে ওই চার শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স আট থেকে বারো বছরের মধ্যে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ কম ছিল। তারা নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং টিকটকে ভিডিও আপলোড করত। এসব মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কয়েকজন ছেলের সঙ্গে তাদের সখ্য গড়ে ওঠে। তবে পরিচিত ওই ছেলেদের প্রকৃত ঠিকানা সম্পর্কে তারা জানত না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুল ধারণা ও ফ্যান্টাসিতে বিভ্রান্ত হয়ে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন ও উপার্জনের উদ্দেশে তারা বাসা থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও সোনার অলঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে কুমিল্লার টাউন হল সুপার মার্কেটের বাহার মোবাইল মার্কেটে পরিবারের ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন চার হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা। সেই টাকা নিয়ে প্রথমে ঢাকায় গেলেও পরিকল্পনা সফল না হওয়ায়, এক শিক্ষার্থীর দাদাবাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। হবিগঞ্জে পৌঁছে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে তারা। তবে প্রকৃত ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ায় ওই সিএনজিচালক রাত ২টার দিকে চার শিশুকে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যান। ইতোমধ্যে জেলা গোয়েন্দা শাখা বিক্রি করা মোবাইল ফোন এবং সঙ্গে থাকা স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধার হওয়া চার শিক্ষার্থীকে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। আরটিভি/টিআর
বাবা-মায়ের ফোন ও সোনা বিক্রি করে পালানো ৪ স্কুলছাত্রী উদ্ধার, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সাগরে নিখোঁজ স্বামী, সৌদিতে নিহত ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় মা
যে সাগর স্বামী জালাল মিয়াকে কেড়ে নিয়েছিল, সেই সাগরেই ছেলেকে হারানোর ভয় ছিল মা ছাহেরা বেগমের। তাই স্বামীকে হারানোর পর একমাত্র ছেলেকে বাঁচানোর আকুলতায় ধারদেনা করে তাকে পাঠিয়েছিলেন সৌদি আরবে।
সাগরে নিখোঁজ স্বামী, সৌদিতে নিহত ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় মা
দেশের একমাত্র রেলপথ, চলন্ত ট্রেনে ওঠা-নামা যেখানে ‘দুধভাত’
‘দাদি, হেঁটে যাচ্ছেন কেন? ট্রেনে উঠে আসেন।’ ট্রেনের যাত্রীর এমন প্রশ্নের জবাবে বৃদ্ধার উত্তর, ‘না, আজ ট্রেনে যাব না। আমার একটু তাড়া আছে, তাড়াতাড়ি যেতে হবে।’
দেশের একমাত্র রেলপথ, চলন্ত ট্রেনে ওঠা-নামা যেখানে ‘দুধভাত’
আরও পড়ুন
ইতিহাসের উষ্ণতম বছর হতে পারে ২০২৬
বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপের আভাস, আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া
শনিবার দেশে পৌঁছাবে তৌফিক ইমরোজের মরদেহ, বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন
১০ মাসের বেশি সমুদ্রে, ঘরে ফিরল মার্কিন রণতরির নাবিকেরা