
রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে একটি নির্মাণাধীন গ্যাস কেমিক্যাল প্রকল্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহত প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক আব্দুল কুদ্দুস চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
নিহত আব্দুল কুদ্দুস রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের ধোঁপাকেল্লা গ্রামের মৃত মোমিন মোল্লার ছেলে।
জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে প্রায় দেড় বছর আগে রাশিয়ায় পাড়ি জমান আব্দুল কুদ্দুস। সেখানে তিনি সিনোপেক প্ল্যান্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন। পিতৃহীন কুদ্দুসের ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে জীবন কেটেছে। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো এবং একটু ভালো থাকার আশায় তিনি প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে একটি নির্মাণাধীন গ্যাস কেমিক্যাল প্রকল্পে পাইপলাইনের প্রাথমিক গ্যাস সরবরাহ পরীক্ষা চলাকালে একটি সংযোগস্থলে পাইপ ফেটে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে রূপ নেয়। এ ঘটনায় অন্তত ৩৫ জন বাংলাদেশি শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
ঘটনার পর নিখোঁজ বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার দুইজনের নাম উঠে আসে। তারা হলেন- আব্দুল কুদ্দুস ও পাংশা পৌরসভার চরমোদিপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম। পরে দুজনেরই সন্ধান পাওয়া যায়। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন আব্দুল কুদ্দুস চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৩১ আগস্ট) মারা যান।
আব্দুল কুদ্দুসের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার বড় ভাই আব্দুল আলীম জানান, সন্ধ্যার দিকে তারা জানতে পারেন যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ভাই মারা গেছেন। এখন তাদের পরিবারের একটাই চাওয়া— যেকোনো উপায়ে আব্দুল কুদ্দুসের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হোক।
এদিকে কুদ্দুসের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর থেকেই তার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বিশেষ করে ছেলের মৃত্যুর খবরে বৃদ্ধ মায়ের আহাজারিতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের চোখও অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠেছে।
পরিবারের সদস্যরা সরকারের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে কুদ্দুসের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে একই ঘটনায় নিখোঁজ থাকা পাংশা পৌরসভার চরমোদিপুর গ্রামের মনিরুল ইসলামেরও সন্ধান পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণের পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
আরটিভি/এমএইচজে



