
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী গ্রামে এক কৃষকের হাঁস-মুরগির ঘরে (খোপ) ঢুকে পড়া ৮ থেকে ১০ ফুট দীর্ঘ একটি অজগর সাপ উদ্ধার করে সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে অবমুক্ত করেছেন বন বিভাগ ও কমিউনিটি প্যাট্রোল গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে মুক্তার গাজীর বসতবাড়ির হাঁস-মুরগির কোটায় অজগরটির উপস্থিতি টের পান পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয়দের ধারণা, সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে গিয়ে অজগরটি ওই খোপে ঢুকে ছয়টি হাঁস-মুরগি গিলে ফেলে।
মুক্তার গাজী জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে তার স্ত্রী খোয়াড়ের দরজা খুলে হাঁস-মুরগি বের করতে যান। এ সময় প্রথমে কোটার ভেতরে একটি মৃত মুরগি পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে ভেতরে তাকিয়ে বিশাল আকৃতির অজগরটিকে কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকতে দেখে ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন। অজগরটি দেখতে পেয়ে বাড়ির লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে স্থানীয় সিপিজি সদস্যদের খবর দেওয়া হলে তারা বিষয়টি বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনে জানান। খবর পেয়ে ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা এরফান উদ্দিনের নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল ও সিপিজি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সতর্কতার সঙ্গে অজগরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরেস্ট স্টেশনে নিয়ে যান।
বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন বলেন, উদ্ধার করা অজগরটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৮ থেকে ১০ ফুট এবং ওজন ২৫ থেকে ৩০ কেজি। নিরাপদে হেফাজতে নেওয়ার পর বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী অজগরটিকে সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, লোকালয়ে কোনো বন্যপ্রাণী চলে এলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে হত্যা বা আঘাত না করে দ্রুত বন বিভাগকে খবর দিতে হবে। বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্থানীয়দের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, অজগর নির্বিষ সাপ। এটি নিশাচর ও খুবই অলস প্রকৃতির, প্রয়োজন ছাড়া নড়াচড়াও করে না। এই প্রজাতিটি গাছে একাকী বাস করলেও শুধু প্রজননকালে জোড়া বাঁধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে এদের প্রজননকাল। দেশের ম্যানগ্রোভ বন, ঘাসযুক্ত জমি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে এদের দেখা পাওয়া যায়। সাপটি সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না। খাদ্য হিসেবে এরা ইঁদুর, কচ্ছপের ডিম, সাপ, বন মুরগি, পাখি, ছোট বন্যপ্রাণী ইত্যাদি খায়। সাপটি নিজের আকারের চেয়েও অনেক বড় প্রাণী খুব সহজেই গিলে খেতে পারে।
জোহরা মিলা বলেন, চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে এটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর তফশিল-২ অনুযায়ী এ বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত, তাই এটি হত্যা বা এর যে কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ভবিষ্যতে কোনো বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত হয়ে হত্যা না করে বন বিভাগ বা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেওয়ার জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে


