
হবিগঞ্জের মাধবপুরে দেড় বছর ধরে ১৪৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া আটকে থাকার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে ভাতা না পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সম্মানী ভাতা প্রতিস্থাপনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও সোনালী ব্যাংকে যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
জানা যায়, গত ২১ জুন মাধবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী তৎকালীন ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের আমলে বিভিন্ন অনিয়ম এবং শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার ভাতা প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া আটকে রাখার প্রতিবাদে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ আটটি দপ্তরে স্মারকলিপি দেন।
মাধবপুর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ভাতা প্রতিস্থাপন না হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোকেরা অত্যন্ত আর্থিক সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
এদিকে সম্প্রতি মাধবপুরের বর্তমান ইউএনও ও ভাতা প্রতিস্থাপন কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসানের উদ্যোগে ১৪৫ জনের মধ্যে ১০৩ জন মুক্তিযোদ্ধার ভাতা প্রতিস্থাপনের জন্য সোনালী ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সেখানেও দ্রুত কার্যক্রম না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভাতা প্রতিস্থাপন কমিটির সদস্যসচিব ও সোনালী ব্যাংক মাধবপুর শাখার ব্যবস্থাপক তানিম সিদ্দিকীর সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি এবং মেসেজেরও কোনো জবাব দেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলেন, দেড় বছর অপেক্ষার পর ১৪৫টি ভাতার মধ্যে মাত্র ১০৩টি সোনালী ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। সেখানেও তড়িৎ কাজ হচ্ছে না। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও আমরা এখনো প্রতিকার পাচ্ছি না।
তৎকালীন ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আবেদন ত্রুটিপূর্ণ থাকায় এবং কিছু ভেরিফিকেশনের কারণে সময় নষ্ট হয়েছে। সংখ্যা ১৪৫টি হবে না, ৪০-৫০ জন হবে।
এ ছাড়া ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের সময়ে মাধবপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে ঐতিহাসিক জাতীয় চার নেতার মূরাল অপসারণের বিষয়টিও সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক কর্মকর্তা দাবি করেন, মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হিসাবেও অর্থ জমা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, ব্যাংকের আমানত বা ডিপোজিটের লাভের কারণে ভাতা ছাড়ে বিলম্ব হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। লভ্যাংশ বাড়ানোর জন্য এমন কর্মকাণ্ড হতে পারে বলেও জানান তিনি।
মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরাশ উদ্দিন বলেন, দেড় বছর ধরে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার ভাতা আটকে থাকা এবং এখন ব্যাংকে গিয়েও আটকে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। মুক্তিযোদ্ধারা এভাবে ভোগান্তির শিকার হলে তা জাতির জন্য লজ্জার।
তিনি দ্রুত ভাতা প্রতিস্থাপন করে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের ওয়ারিশদের কাছে প্রাপ্য অর্থ পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ বলেন, বিষয়টি এমন হলে অত্যন্ত দুঃখজনক। আগেই এগুলো দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
আরটিভি/টিআর


