ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

‘সন্দেহের কারাগারে’ ১৪ বছর এনামুলের অপেক্ষায় মা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
এনামুলের মা আয়াতুন বেগম ও সৎমা ফাতেমা বেগম ও এনামুল। ছবি: আরটিভি

‘ছেলে যদি অপরাধী হয়, বিচার হোক। আর যদি নির্দোষ হয়, তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন।’ মৌলভীবাজারের বড়লেখার দোহালিয়া গ্রামের বৃদ্ধা ফাতেমা বেগমের কণ্ঠে এখন শুধু এই আকুতি। রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার পর সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া তার ছেলে হুমায়ুন কবীর ওরফে এনামুলের অপেক্ষায় কেটে গেছে প্রায় ১৪ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে মামলা এগোয়নি কাঙ্ক্ষিত গতিতে; কিন্তু কারাগারে থাকা এনামুলের জীবন থেমে গেছে।

পরিবারের দাবি, এত বছর পরও সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে এনামুলের সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং সম্প্রতি পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থার (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো উত্তর ইউনিটের তদন্ত প্রতিবেদনে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার আচরণ অসংলগ্ন ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, সন্দেহের ভিত্তিতে একজন মানুষকে আর কতদিন কারাগারে থাকতে হবে?

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তি সন্দেহের আওতায় আসেন। তাদের বাসার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এনামুলের নামও আসে তদন্তে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সেই গ্রেপ্তারের পর দেখতে দেখতে কেটে যায় এক যুগেরও বেশি সময়। পরিবারের আশা ছিল, তদন্ত শেষ হবে, সত্য বেরিয়ে আসবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিচার হবে; আর নির্দোষ হলে এনামুল মুক্তি পাবেন। কিন্তু বছর পেরিয়ে দশক, দশক পেরিয়ে আরও কয়েক বছর—এনামুলের ভাগ্যে ফেরেনি মুক্তির আলো।

কারাগারেই হারিয়ে গেল তারুণ্য
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের পশ্চিম দোহালিয়া গ্রামের মাদ্রাসাপড়ুয়া তরুণ এনামুলের জীবন এখন পরিবারের কাছে এক দীর্ঘ অন্ধকার অধ্যায়। যে বয়সে সংসার, কর্মজীবন ও স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সের বড় একটি অংশ কেটেছে কারাগারে।

পরিবারের ভাষ্য, দীর্ঘ কারাবাসে এনামুলের মানসিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি হয়েছে। এখন তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন না, আচরণেও অসংলগ্নতা দেখা যায়।

এনামুলের মা ফাতেমা বেগম বলেন, আমার ছেলে দোষী হলে তার বিচার হোক, আমরা কখনো বিচার চাইনি এমন নয়। কিন্তু এত বছরেও যদি তার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ না পাওয়া যায়, তাহলে শুধু সন্দেহের কারণে আর কতদিন তাকে জেলে রাখা হবে? আমার ছেলে এখন অসুস্থ। তাকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।

ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে বাবারও করুণ পরিণতি
এনামুলের কারাবাসের পাশাপাশি তার পরিবারেও নেমে আসে আরেক দুঃসহ অধ্যায়। পরিবারের অভিযোগ, সাগর-রুনি হত্যার প্রায় সাড়ে সাত মাস পর, ২০১২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, এনামুলের বাবা মকবুল আলী ওরফে কালা মিয়াকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, এরপর ২১ দিন তার কোনো সন্ধান ছিল না। পরে ভৈরবের একটি সড়কের পাশে তাকে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের অভিযোগ, অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তাকে নির্যাতন এবং বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত বা বিচারিকভাবে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

এনামুলের পরিবারের ভাষ্য, ওই ঘটনার পর মকবুল আলী আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। একের পর এক শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হন তিনি। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পরিবারের জায়গাজমি ও পুরোনো বাড়ি বিক্রি করতে হয়। প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা চিকিৎসায় ব্যয় করার পরও শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি মারা যান তিনি।

স্ত্রী ফাতেমা বেগমের ভাষায়, ওই ঘটনার পর আমার স্বামী আর আগের মতো ছিলেন না। চিকিৎসা করাতে গিয়ে যা ছিল সব শেষ করেছি। ছেলের জন্যও কিছু করতে পারিনি। ভয় ছিল, আমাদেরও বিপদ হতে পারে।

এনামুলের বড় ভাই শাহিন আহমদ বলেন, বাবাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে যায়। এখন আমার ভাইও কারাগারে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে। যদি সে নির্দোষ হয়, তাহলে তাকে মুক্তি দেওয়া হোক। অন্তত তার চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হোক।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ভাষ্য, আগের সময়ে ভয় ও আতঙ্কের কারণে তারা এনামুলের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে পারেননি। আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘমেয়াদি আইনি লড়াইও চালানো সম্ভব হয়নি।

১১২ বার পিছিয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন
সাগর-রুনি হত্যা মামলা দেশের বহুল আলোচিত মামলাগুলোর একটি। হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তের দায়িত্ব একাধিক সংস্থার হাতে গেলেও দীর্ঘ সময়েও রহস্যের জট খোলেনি। এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১১২ বার পিছিয়েছে।

একদিকে সাগর-রুনি হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের অপেক্ষা, অন্যদিকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া এনামুলের জীবনের প্রায় ১৪ বছর হারিয়ে যাওয়া—দুটি বিষয়ই এখন একই প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে।

দোহালিয়ার ছোট্ট বাড়িটিতে তাই এখনো পথ চেয়ে বসে আছেন ফাতেমা বেগম। তার চোখে ছেলের ফেরার অপেক্ষা। কিন্তু সেই অপেক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও বড় প্রশ্ন—সাগর-রুনি হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে কবে, আর সন্দেহের কারাগারে হারিয়ে যাওয়া এনামুলের জীবনের ১৪ বছরের দায় নেবে কে?

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টাঙ্গাইলে ১৩৫৭ মণ্ডপে চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে টাঙ্গাইলের ১৩৫৭টি মণ্ডপে দেবী দুর্গার অনিন্দ্যসুন্দর রূপ ফুটিয়ে তুলতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে প্রতিমা শিল্পীদের কর্মব্যস্ততা। আর এ দুর্গোৎসব পালনে জেলার ঘরে ঘরে চলছে উৎসবের আমেজ।
টাঙ্গাইলে ১৩৫৭ মণ্ডপে চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
৮ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই 
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টায় স্থানীয় রুপালি সী ফুডস লিমিটেডের সামনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।
৮ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই 
ট্রলির জন্য টাকা না দেওয়া ভোগান্তি, হাসপাতালে শিশুর মৃত্যু
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার বছরের একটি অসুস্থ শিশুকে জরুরি চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পর ট্রলির জন্য টাকা চাওয়া হয়। সেই টাকা দিতে না পারায় সময়মতো ট্রলি না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩২ সেকেন্ডের এমন এক ভিডিওকে ঘিরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার অব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ‎সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। মৃত শিশুটির নাম রুহুল আমিন (৪)। সে ফরিদপুর সদর উপজেলার পুরদিয়া গ্রামের মাফুজুরের ছেলে। স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটিকে দ্রুত জরুরি বিভাগে নেওয়ার জন্য স্ট্রেচার বা ট্রলি চাওয়া হলে কর্মচারীরা টাকার দাবি জানান। সেই টাকা দিতে না পারায় ট্রলি মেলেনি। বাধ্য হয়ে শিশুটিকে কোলে নিয়েই স্বজনদের ওয়ার্ডের দিকে ছুটতে হয়েছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এ সময় শিশুটির মুখে অক্সিজেনের মাস্ক লাগানো ছিল। একজন স্বজন কোলে শিশুটিকে নিয়ে দৌড়াচ্ছিলেন, আর অন্যরা অক্সিজেন সিলিন্ডার ও স্যালাইনের বোতল বহন করছিলেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের সেবাব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। তবে ট্রলি না পাওয়ার কারণে শিশুটির অবস্থার অবনতি বা মৃত্যু হয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও সচেতন মহলের অনেকে। তবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রোগীর স্বজনদের অভিযোগ সঠিক নয়। শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এ অবস্থায় ট্রলিতে করে তাকে নেওয়া হলে আরও বেশি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় নার্সরা শিশুটিকে ট্রলিতে নিতে নিষেধ করেছিলেন। এ বিষয়ে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আরটিভি/টিআর
ট্রলির জন্য টাকা না দেওয়া ভোগান্তি, হাসপাতালে শিশুর মৃত্যু
ছেলের পর বৃদ্ধ বাবাকে গুলি করে হত্যা
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে রূপসার দুর্জনীমহল শহীদের মোড় ঢালী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ছেলের পর বৃদ্ধ বাবাকে গুলি করে হত্যা
বেয়াইনকে বাসায় ডেকে নেন শান্ত, পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রেমিকের বাসায় গিয়ে কয়েক দফা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে এক তরুণীর (১৮) মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক শান্ত পালকে (২৭) পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
বেয়াইনকে বাসায় ডেকে নেন শান্ত, পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, টিকটকার মামুন গ্রেপ্তার
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল বিপন্ন মুখপোড়া হনুমানের
রান্নাঘরে লাকড়ির স্তূপে তাকাতেই চোখ কপালে
কথিত সীমানা পিলার ও কয়েন বিক্রি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার