
দুর্গাপূজাকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার গুলিসাখালী ইউনিয়নের কবুতরখালী গ্রামের ‘রাজ মন্দিরের’ আয়োজকেরা। মন্দির প্রাঙ্গণে চলছে প্যান্ডেল, প্রতিমা, আলপনা ও সাজসজ্জার কাজ। আয়োজকদের দাবি, এবার দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বড় দুর্গাপূজার আয়োজন হতে যাচ্ছে এখানে।
আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এবার ভিন্ন ভিন্ন থিমে সাজানো হচ্ছে মন্দির প্রাঙ্গণ। গত বছরগুলোর তুলনায় প্রতিমার সংখ্যা কমিয়ে এবার ১৬০টি প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিমার পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে বিভিন্ন থিমের আয়োজন।
কবুতরখালীর হালদার বাড়িতে এই পূজার আয়োজন করছেন অর্থোপেডিকস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সুদীপ কুমার হালদার ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. স্নিগ্ধা চক্রবর্তী দম্পতি। তাদের সঙ্গে কাজ করছেন একদল তরুণ-তরুণী।
সরেজমিনে দেখা যায়, মন্দিরের বিশাল আঙিনাজুড়ে তৈরি করা হয়েছে প্যান্ডেল। সেখানে সারিবদ্ধভাবে রাখা হচ্ছে ১৬০টি দেব-দেবীর প্রতিমা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে ইতিবাচক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে দেশের গুণীজনদের ছবি ও বিভিন্ন উপদেশমূলক বাণীও টানানো হয়েছে গাছ ও আশপাশের এলাকায়। এ কারণে প্রতিবছর পূজাকে ঘিরে হালদার বাড়িটি দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণের জায়গায় পরিণত হয়।
আয়োজকেরা জানান, পূজায় শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়, সামাজিক কার্যক্রমও থাকবে। দর্শনার্থী মায়েদের জন্য থাকবে ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার। সেখানে প্রতিদিন স্যানিটারি প্যাড বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং অন্যান্য সমাজসেবামূলক কার্যক্রমও থাকবে।
২০১৬ সালে ৪০টি প্রতিমা দিয়ে এ পূজার আয়োজন শুরু করেন সুদীপ-স্নিগ্ধা দম্পতি। মোড়েলগঞ্জের একটি বড় পূজা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা নিজেদের বাড়িতে এই আয়োজন শুরু করেন। এরপর প্রতিবছরই বেড়েছে আয়োজনের পরিসর। গত কয়েক বছরে প্রতিমার সংখ্যা তিন শতাধিক পর্যন্ত হয়েছিল।
ডা. সুদীপ কুমার হালদার বলেন, লক্ষাধিক মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই উৎসব। দুর্গাপূজাকে সব ধর্মের মানুষের মিলনক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি সমাজের ইতিবাচক বিষয়গুলো মানুষের সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করছি।
ডা. স্নিগ্ধা চক্রবর্তী বলেন, ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুরে গণভোজের আয়োজন করা হয়। এতে শত শত মানুষ অংশ নেন। পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে মানুষকে খাওয়াতে পেরে তারা আনন্দ পান।
মাগুরা জেলার প্রতিমা নির্মাণশিল্পী উজ্জ্বল বিশ্বাস গুরু বলেন, মন্দিরে দুই বছর ধরে কাজ করি। চার থেকে পাঁচ মাসের পরিশ্রমে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করেছেন তারা। এত বড় আয়োজন তার জানা মতে আর কোথাও হচ্ছে না। বড় এই আয়োজনের সঙ্গে থাকতে পেরে তিনি আনন্দিত।
এদিকে পূজাকে ঘিরে মঠবাড়িয়া থানার পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, আনসার, স্বেচ্ছাসেবকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মন্দির ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরটিভি/এমএম


