
দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ঘাট ও ফেরি সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত ও নাব্যতা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। এতে উভয় পাড়ে আটকা পড়ছে শত শত যানবাহন। দীর্ঘ অপেক্ষায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও পণ্যবাহী গাড়ির চালকরা।
ভরা বর্ষায় পদ্মা নদীতে পলি জমে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটের কাছে ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। এতে ফেরি ভিড়তে না পারায় গত পাঁচদিন ধরে ঘাটটি বন্ধ রয়েছে।
এদিকে দৌলতদিয়ার সাতটি ঘাটের মধ্যে বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র দুটি। অপর পাঁচটি ঘাট বিভিন্ন সময়ে নদীভাঙনের কবলে পড়ে এবং নাব্যতা সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে সীমিত ঘাট ও ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করায় প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি পারাপারে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ সময় লাগছে। এতে দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাক, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হচ্ছে।
ঘাটে অপেক্ষমাণ যানবাহনের মধ্যে রয়েছে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। দীর্ঘ সময় রোদে অপেক্ষা করতে গিয়ে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থায় মানবেতর সময় কাটাচ্ছেন চালক, সহকারী ও সাধারণ যাত্রীরা।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন জানান, নদীতে নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি প্রবল স্রোতের কারণে সব ঘাটে ফেরি ভেড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। কয়েকটি পকেট অচল হয়ে পড়ায় সীমিতসংখ্যক ফেরি দিয়ে পারাপার পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জরাজীর্ণ ও পুরোনো ফেরিগুলোর ধীরগতির কারণে ঘাটের জট ও ভোগান্তি আরও প্রকট হয়েছে। প্রবল স্রোতের কারণে ফেরির ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত সাতটি ফেরি পর্যায়ক্রমে সচল রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে পারাপার দ্রুত করা হবে।
বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাছান আহমেদ জানান, সাধারণত ৩ থেকে ৪ নটিক্যাল মাইল স্রোতের মধ্যে তারা ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কিন্তু দৌলতদিয়া প্রান্তে বর্তমানে স্রোতের তীব্রতা প্রায় ৭ নটিক্যাল মাইল। এমন পরিস্থিতিতে ড্রেজিং করলে স্রোতের প্রবাহে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই ড্রেজিং করতে দেরি হবে।
এ ছাড়া দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলাচলকারী ফেরিগুলোর বেশির ভাগই ২০ থেকে ২২ বছরের পুরোনো। বর্তমানে মাত্র ৯টি ফেরি চালু থাকলেও এর মধ্যে ৫টি ফেরি পদ্মার ৭ দশমিক ২০ নটিক্যাল মাইল বেগের স্রোতের বিপরীতে চলতে পারে না।
দিনের বেলায় গাড়ির চাপে বিআইডব্লিউটিসি ফেরিতে গাড়ি লোড দিলেও মাঝ নদীতে গিয়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ডুবোচরে আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। গত এক সপ্তাহে গাড়ি ও যাত্রী নিয়ে দুটি ফেরি মাঝ নদীতে এভাবে বিপদে পড়েছে।
ফেরি ও ঘাট সংকটের কারণে প্রতিদিন দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার জিরো পয়েন্ট থেকে ক্যানালঘাট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে দুই সারিতে পাঁচ শতাধিক যানবাহন নদী পারাপারের অপেক্ষায় আটকে থাকছে।
অন্যদিকে, হঠাৎ করে ৭ নম্বর ঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই ঘাটের দুই পাশের দোকানপাট, হোটেলসহ অন্যান্য আয়নির্ভর ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
নাব্যতা সংকট, ঘাটের অপ্রতুলতা, পুরোনো ফেরি ও তীব্র স্রোতের কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথে প্রতিদিনই বাড়ছে যানজট ও জনদুর্ভোগ।
আরটিভি/এমএইচজে



