ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

‘আব্বা’ ডেকেও রেহাই পেলেন না ছাত্রদল নেতা

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম
ছবি: আরটিভি

পটুয়াখালীর মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মহিপুর থানা সদর ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারুক।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন এই ছাত্রদল নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মহিপুর সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম, মহিপুর ইউনিয়নছাত্রদলের সহসভাপতি মেহেদী হাসানসহ আরও অনেকে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফারুক বলেন, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে তার ওপর এ হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনায় মাসুদ রানা, আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও রাশেদসহ ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন তিনি।

ফারুক বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর থেকে সাদা পোশাকে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যান। তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। তাকে মোটরসাইকেলে বসিয়ে কলাপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমিরুল ইসলাম ফাহিমের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে দফায় দফায় মারধর ও নির্যাতন করেন। রাত ১টা পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ফারুক। তাকে তুলে নেওয়ার পুরো ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি তাদের পা ধরে আব্বা বলে ডেকেছি। বলেছি আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার বাবা। আমার মা অসুস্থ-এ ঘটনা জানলে তিনি মারা যেতে পারেন। তারপরও তারা আমাকে ছাড়েনি।

পরে তার দুই বন্ধু মহিপুর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলাম শাওন ও রবিউল ইসলাম খবর পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফারুককে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। দীর্ঘ ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর ২৬ সেপ্টেম্বর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশালে নেওয়া হয় বলে জানান ফারুক।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ঘটনার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। বর্তমানে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন।

ফারুক বলেন, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়া অপরাধ হতে পারে না। ডিবি পরিচয় দিয়ে কাউকে তুলে নেওয়া এবং নির্যাতন করা গুরুতর অপরাধ। আমরা এমন বর্বরতার অবসান চাই।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযুক্ত মাসুদ রানা, রাশেদ ও আমিরুল ইসলাম ফাহিমসহ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানা।

ফাহিম জানান, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মাসুদ রানাও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে সিসিটিভি ফুটেজে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্বামী মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে রেললাইনে স্ত্রী, একসঙ্গে সৎকার
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগড় ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে স্বামীর মৃত্যুর পর শোক সইতে না পেরে বাড়ির পাশে রেললাইনে গিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক নারী। 
স্বামী মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে রেললাইনে স্ত্রী, একসঙ্গে সৎকার
আবাসিক হোটেলের টয়লেটে চিনি জ্বাল দিয়ে তৈরি হচ্ছিল ‘খাঁটি মধু’
টয়লেটে গ্যাস সিলিন্ডার ও চুলা বসিয়ে আসল মধুর সঙ্গে ১০ কেজি চিনি জ্বাল দিয়ে তৈরি হচ্ছিল ‘খাঁটি মধু’। খবর পেয়ে ফেনী শহরের বড় মসজিদ রোডের ‘হোটেল ট্যুরিস্ট আবাসিক’-এ অভিযান চালিয়ে ভেজাল মধু প্রস্তুতকারী চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মোহাম্মদ মহসিন (৪৫), মেহেদী হাসান (৪০), মোহাম্মদ রাসেল (৩৮) ও জসিম উদ্দিন (৪০)। তাদের সবার বাড়ি কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোটেলের ছয়তলার একটি কক্ষের টয়লেটে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের চুলা বসিয়ে চিনি জ্বাল দিয়ে ভেজাল মধু তৈরির কাজ চালিয়ে আসছিল চক্রটি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের মূল হোতা মোহাম্মদ মহসিন জানান, বাজারে ভালো মানের প্রতি কেজি খাঁটি মধুর দাম ১ হাজার ২০০ টাকার ওপরে। সাধারণ ক্রেতাদের কমদামে মধু কেনার আগ্রহ থাকে। এই ধারণাকে পুঁজি করেই তারা প্রতিদিন দুই কেজি আসল মধুর সঙ্গে ১০ কেজি চিনি মিশিয়ে ১২ কেজি ভেজাল মধু তৈরি করত।  দুই কেজি আসল মধু ও চিনি জ্বালাতে তাদের খরচ হতো প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। এরপর সেগুলো বোতলে ভরে ‘খাঁটি মধু’ নামে প্রায় ছয় হাজার টাকায় বাজারে বিক্রি করা হতো। জিজ্ঞাসাবাদে মহসিন আরও জানান, তাদের চক্রে মোট ৩৮ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ জন সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া এলাকায় এবং অপর ১৪ জন এই আবাসিক হোটেলে অবস্থান করে তৈরি করা ভেজাল মধু বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত বিক্রি করতেন। হোটেল ট্যুরিস্ট আবাসিকের ব্যবস্থাপক রুস্তম আলী বলেন, পুলিশ যাদের হোটেল থেকে আটক করেছে, তারা দীর্ঘ আট বছর ধরে আমাদের হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত ও অবস্থান করতেন। আমরা তাদের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলে জানতাম। তবে তাদের ব্যবসা কী, কখনো জানার চেষ্টা করিনি। তাদের আচরণেও কখনো সন্দেহ হয়নি। টয়লেটের ভেতরে এমন অপকর্ম চলছিল, তা হোটেলের কেউ কখনো টের পাননি। স্থানীয় বাসিন্দা নুর নবী জীবন বলেন, একে তো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিনি জ্বাল দিয়ে ভেজাল মধু উৎপাদন করা হচ্ছে, তার ওপর খাঁটি মধুর নাম দিয়ে বাজারে বিক্রি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে চক্রটি। সহজ-সরল মানুষেরা এসব মধু কিনে যেমন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, তেমনই তাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে। খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণের সঙ্গে জড়িত এমন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অভিযান পরিচালনাকারী ফেনী মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ সবুজ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা চিনি মিশিয়ে ভেজাল মধু তৈরির কথা স্বীকার করেছেন। গ্রেফতার চারজনকে সোমবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরটিভি/এসআর
আবাসিক হোটেলের টয়লেটে চিনি জ্বাল দিয়ে তৈরি হচ্ছিল ‘খাঁটি মধু’
শিশুর ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ করে জিন দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখান শিক্ষক
হবিগঞ্জ শহরের রাজনগর এলাকায় একটি কওমি মাদরাসায় ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার কথা বলে এক স্কুলছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মাওলানা সাদেকুল ইসলাম (৩৫) নামে ওই শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
শিশুর ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ করে জিন দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখান শিক্ষক
সাজেকে ইউপিডিএফ-জেএসএসের সংঘর্ষে শিশু গুলিবিদ্ধ
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফ (প্রসীত) ও জেএসএস (সন্তু লারমা) সমর্থিত সশস্ত্র দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে সঞ্জিতা ত্রিপুরা (৯) নামে এক শিশু।
সাজেকে ইউপিডিএফ-জেএসএসের সংঘর্ষে শিশু গুলিবিদ্ধ
শেখ হাসিনার জন্মদিনের কেক ওসির জন্য রেখে গেলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা!
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জন্য থানার কাছেই একটি কেক রেখে গেছেন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যদিও সদর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এআই দিয়ে বানানো ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
শেখ হাসিনার জন্মদিনের কেক ওসির জন্য রেখে গেলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা!
আরও পড়ুন
পবিপ্রবিতে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে অশালীন অঙ্গভঙ্গি, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পলাতক যুবক
পুকুরপাড়ে মিলল ড্রামভর্তি দেশীয় মদ, বাবা-ছেলে আটক
১৪ টুকরো করার হুমকির পর মিলল ছাত্রদল নেতার লাশ
রাতের আঁধারে ছাত্রদল নেতা ও তার দাদাকে বেধড়ক পিটুনি