
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা থেকে প্রায় ১৩ কেজি ওজনের একটি বার্মিজ অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ১০ থেকে ১২ ফুট। পরে স্থানীয়রা সাপটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের বাংলাবান্ধা গ্রামের মহানন্দা নদী থেকে স্থানীয়রা সাপটি উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের মহানন্দা নদীতে কয়েকজন ব্যক্তি মাছ ধরছিলেন। এ সময় তাদের জালে একটি অজগর সাপ আটকা পড়ে। পরে স্থানীয়রা সাপটি উদ্ধার করে বন বিভাগকে খবর দেন। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা গিয়ে অজগরটি হেফাজতে নেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মনির জানান, সকালে মহানন্দা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জালে আটকা পড়ে অজগর সাপটি। এ সময় সাপটিকে দেখার জন্য অনেক মানুষ ভিড় করে। পরে বনবিভাগ জানানো হলে বন কর্মকর্তা সেটি উদ্ধার করে তেঁতুলিয়া বনবিভাগে নিয়ে যায়।
তেঁতুলিয়া বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (বিট) নুরুল হুদা বলেন, বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন থেকে একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। অজগরটির ওজন আনুমানিক ১৩-১৫ কেজি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১০-১২ ফুট। আমরা সাপটিকে উদ্ধার করে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। পরবর্তীতে উদ্ধার হওয়া অজগরটিকে অবমুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২-৩ বছরের ব্যবধানে পঞ্চগড় সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলায় ৫-৬ বার বার্মিজ অজগর সাপের দেখা মিলেছে। এর মধ্যে স্থানীয়দের সহায়তায় পাঁচটি অজগর উদ্ধার করেছে পঞ্চগড় বন বিভাগ।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, অজগর নির্বিষ সাপ। এটি নিশাচর ও খুবই অলস প্রকৃতির, প্রয়োজন ছাড়া নড়াচড়াও করে না। এই প্রজাতিটি গাছে একাকী বাস করলেও শুধু প্রজননকালে জোড়া বাঁধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে এদের প্রজননকাল। দেশের ম্যানগ্রোভ বন, ঘাসযুক্ত জমি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে এদের দেখা পাওয়া যায়। সাপটি সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না। খাদ্য হিসেবে এরা ইঁদুর, কচ্ছপের ডিম, সাপ, বন মুরগি, পাখি, ছোট বন্যপ্রাণী ইত্যাদি খায়। সাপটি নিজের আকারের চেয়েও অনেক বড় প্রাণী খুব সহজেই গিলে খেতে পারে।
জোহরা মিলা বলেন, চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে এটি দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর তফশিল-২ অনুযায়ী এ বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত, তাই এটি হত্যা বা এর যে কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ভবিষ্যতে কোনো বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত হয়ে হত্যা না করে বন বিভাগ বা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেওয়ার জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে


