
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে সাপে কাটা এক শিশুকে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (এএসভি) প্রয়োগ করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপ ও সময়োপযোগী ব্যবস্থাপনায় শিশুটির প্রাণ রক্ষা এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে ইসরাত (৮) নামে ওই শিশু। সে উপজেলার তারাপাল্লা গ্রামের ইকবাল হোসেনের মেয়ে।
হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে নিজ বাড়ির রান্নাঘরে যাওয়ার সময় সাপের কামড়ের শিকার হয় শিশু ইসরাত। পরিবারের সদস্যরা কোনো সময় নষ্ট না করে তাকে দ্রুত কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।
জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোয়াইব হোসেন শিশুটিকে পরীক্ষা করেন। এ সময় কামড়ের স্থান ফুলে ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শরীরে বিষক্রিয়ার গুরুতর লক্ষণ দেখা যায়। বিশেষ করে চোখের পাতা ঝুলে পড়া ও খিঁচুনির মতো উপসর্গ প্রকাশ পায়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা চলাকালে শিশুটিকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। চিকিৎসক, নার্স ও উপসহকারী মেডিকেল কর্মকর্তাদের সমন্বিত দল নিবিড়ভাবে শিশুটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুটির অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি এড়াতে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫০ শয্যার কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন নিয়মিতভাবে সাপে কাটা রোগীদের জরুরি বিভাগে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হচ্ছে। সঠিক সময়ে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হওয়ায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া গেছে।
এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সোহেল রানা বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাপে কাটার পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে আনা উচিত। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো কুসংস্কারে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ার পাশাপাশি জরুরি বিভাগে সাপে কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় একটি বড় অগ্রগতি ও ইতিবাচক বার্তা।
আরটিভি/এমএইচজে


