ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

খুন হওয়ার আগে বাবার মোবাইলে যে মেসেজ পাঠিয়েছিল তাজমিন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যার ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে ক্রমশ। ঘটনার আগের রাতে বাবার মোবাইলে নিজের অবস্থানের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল সে। কিন্তু এরপর কী ঘটেছিল, কীভাবে নির্জন ধানক্ষেতে পৌঁছাল সে—সেসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এখনও।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের কাছেই মিলেছে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা; পাওয়া গেছে একটি ভ্যানিটি ব্যাগও। অটোরিকশাটি জব্দ করে এর সূত্র ধরে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আবদুল আলীম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবারের সদস্যরা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

চার দিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে সে কক্সবাজারে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। ফেরার পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নেমেছিল সে।

ঘটনার আগের রাতে বাবার কাছে নিজের অবস্থানের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধও করেছিল বলে জানা গেছে। এরপর কী ঘটেছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কক্সবাজার থেকে ফেরার পর তাজমিন কীভাবে লালমাইয়ের জগতপুর এলাকায় পৌঁছাল, কার সঙ্গে সেখানে গিয়েছিল এবং কেন তার মৃত্যু হলো—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, জগতপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়া নির্জন পাকা সড়কের দুই পাশে বিস্তৃত ফসলি জমি। সড়কের কাছাকাছি চার-পাঁচটি ধানক্ষেতে ধানগাছ এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। বিভিন্ন স্থানে দৌড়াদৌড়ি বা ধস্তাধস্তির মতো ঘটনা ঘটে থাকতে পারে—এমন চিহ্ন চোখে পড়ে। সড়কের এক পাশে ধানক্ষেতে পড়ে ছিল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। পরে স্থানীয়রা সেটি টেনে সড়কের ওপর তুলে আনেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, সকালে ধানক্ষেতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তিনি। সেখানে গাড়িটির প্রায় ২০ থেকে ৩০ গজ দূরে পাওয়া যায় একটি ভ্যানিটি ব্যাগ। আশপাশের ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির মতো চিহ্ন দেখে সামনে এগিয়ে একটি ধানক্ষেতে নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। মরদেহটির মাথায় কাদামাখা ছিল এবং গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। মরদেহটি পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন তিনি।

আরেক বাসিন্দা মো. মুহিন বলেন, ধানক্ষেতের অবস্থা দেখে তার মনে হয়েছে, মেয়েটি জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করে থাকতে পারে। তবে কারা তাকে হত্যা করেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করেন তিনি। এছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি কীভাবে ধানক্ষেতে পড়েছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। গাড়িটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন। যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা জানায় পরিবার। এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখান থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে। নিহতের শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, জব্দ করা অটোরিকশাটির নিবন্ধন রয়েছে। গাড়িটির সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিজিবিকে ফাঁকি দিয়ে ভারতে চলে যাচ্ছিলেন দুই বাংলাদেশি, অতঃপর...
কী উদ্দেশ্যে তারা ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন কিংবা এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বিজিবিকে ফাঁকি দিয়ে ভারতে চলে যাচ্ছিলেন দুই বাংলাদেশি, অতঃপর...
এখন প্রেমপত্র আসে না, আসে শুধু তালাকপত্র!
একসময়ে একটি চিঠি বা একটি টেলিগ্রামের জন্য তীর্থের কাকের মতো বসে থাকতো পত্র প্রাপকরা। প্রিয়জনের লেখা একটি চিঠি হাতে পাওয়ার আনন্দে কেটে যেতো সব কষ্ট। পত্র প্রেরকরাও ছুটতেন ডাকঘর গুলোতে। প্রতিদিন ডাকঘরের ডাকবাক্স খুলে যাচাই-বাছাই করে সেই ডাক নিয়ে শহর-নগর, গ্রাম-গঞ্জের পাড়া- মহল্লায় ছুটতেন ডাক পিয়ন ও রানাররা। চিঠিপত্র বা ডাক নিয়ে এখন আর সেই কর্ম ব্যস্ততা নেই ডাকঘরগুলোতে। পথঘাটহীন, ঝাড়-জঙ্গলে খোঁজে পাওয়া গেল ময়মনসিংহের গৌরীপুরের অধিকাংশ শাখা ডাকঘর। সব ডাকঘরেই ঝুলছে তালা। এ দিকে এসব পোস্ট অফিসে আসে শুধুমাত্র সরকারি-বেসরকারি নিয়োগপত্র, মামলা সংক্রান্ত চিঠিপত্র। কোনো পোস্ট অফিসে বছরে একটি প্রেমপত্রও আসার খবর পাওয়া যায়নি। তবে প্রত্যেকটি পোস্ট অফিসে প্রতি মাসে ১২ থেকে ২০টি তালাকপত্র আসার খবর পাওয়া গেছে। সরেজমিনে, উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ভূটিয়ারকোনা ডাকঘরটি খোঁজে পাওয়া গেল এক জঙ্গলের ভেতরে। পাশে উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ থাকলেও এ ডাকঘরে যাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট রাস্তা নেই।  স্থানীয়রা জানান, পোস্ট মাস্টার কবে এসেছেন, তারা কেউ দেখেন নাই। পোস্ট অফিসের দরজায় আগাছার আখড়া, সামনে গোচারণ ভূমি হওয়ায় আছে গোবর-আবর্জনা এবং পরগাছায় ভরপুর।  ওপর একটি ডাকঘর কিল্লাতাজপুর। বাজার বা জনগণের কথা বিবেচনা না করে পোস্ট মাস্টারের দেওয়া জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। একই অবস্থা দেখে গেছে অচিন্তপুর ইউনিয়নের মুখুরিয়া, মইলাকান্দা ইউনিয়নের লামাপাড়া ও ভবানীপুর। রামগোপালপুর ইউনিয়নের ভবানীপুরের জমিদার এ পোস্ট অফিসের শাখা চালু করেন। তবে একটি নির্ধারিত স্থানে নেই। বোকাইনগর ইউনিয়নে স্থানান্তর হলেও এলাকাবাসী এ নামের ডাকঘর চেনেন না। রামগোপালপুর, পাছারবাজার, শাহগঞ্জ ও বীরআহাম্মদপুর ডাকঘরেও গিয়ে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রত্যেকটি পোস্ট অফিসে সৌরবিদ্যুৎ, কম্পিউটার, ল্যাপটপ থাকলেও সেবা কার্যক্রম নেই। পাছার পোস্টার মাস্টার মো. আতাউর রহমান জানান, তিনি ১৯৯১ সাল থেকে এ ডাকঘরে আছেন। এক সময় খুব কদর ছিল। গ্রামের ছেলে মেয়েদের নিকট থেকে বকশিসও পাওয়া যেত। চিঠি পেয়েই দৌড় মারতো। সেই দিন এখন আর নেই।  মোবাইলে এসব শেষ হয়ে গেছে।  তিনি আরও জানান, গত মাসে ১৪টি তালাকনামা এসেছে। আদালতের চিঠি, এনজিওর চিঠি এসেছে। কিন্তু গত ২-৩ বছরের মধ্যে একটি প্রেমপত্র আসে নাই। লামাপাড়া পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, এসব ইলেকট্টনিক্স সামগ্রী দেওয়ার পরপরই নষ্ট হয়ে গেছে।  ভবানীপুর পোস্ট মাস্টার মহসিন মাহমুদ শাহ জানান, সব ইলেকট্টনিক্স সামগ্রী নষ্ট। তাই এগুলো অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে।  পাছার ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার মো. আতাউর রহমান জানান, আমাদের বেতনভাতা নামকাওয়াস্তে। আমরা পাই ৪ হাজার ৪৬০ টাকা, পিয়ন পান ৪ হাজার ৩৫৪ টাকা আর রানার পান ৪ হাজার ১৭৭ টাকা। তারপরেও সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে গৌরীপুর প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার আমিনুল ইসলাম জানান, উপজেলা পোস্ট অফিসে প্রতি মাসে ৮০ টাকা অফিস খরচ, যা দিয়ে স্টেপলারের পিন কেনা সম্ভব হয় না। বাজেট বরাদ্দ না থাকায় আমরাও সেইভাবে কাজ করতে পারছি না।  তিনি আরও জানান, প্রতি মাসে উপজেলার ১৪টি শাখা পোস্ট অফিস ও উপজেলা পোস্ট অফিসে প্রায় ১৬০ থেকে ১৮০টি তালাকপত্র আসে। যা বছরে ২ হাজারের অধিক হবে। বিয়ে বিচ্ছেদের বিষয়টা গৌরীপুরে বেড়ে যাচ্ছে। গত নভেম্বরে এ পোস্ট অফিসে যোগদানের পর কোনো তরুণ-তরুণীর নামে কোনো চিঠি (প্রেমপত্র) আসতে দেখি নাই। আরটিভি/টিআর
এখন প্রেমপত্র আসে না, আসে শুধু তালাকপত্র!
রাতের আঁধারে টর্চ জ্বালিয়ে কিছকি ও আক্কার বাড়ির সংঘর্ষ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দেড় বছর আগের চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
রাতের আঁধারে টর্চ জ্বালিয়ে কিছকি ও আক্কার বাড়ির সংঘর্ষ
থানা থেকে পালিয়েছেন মাদকের আসরে ধরা পড়া সেই পুলিশ কর্মকর্তা
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্র‍ামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক অভিযানে আটক হন এএসআই দেলোয়ার হোসেন।
থানা থেকে পালিয়েছেন মাদকের আসরে ধরা পড়া সেই পুলিশ কর্মকর্তা
সৌদি আরবের ৩০ কেজির পার্সেল দেশে এসে হয়ে গেলে ১৯ কেজি!
সৌদিআরব থেকে পাঠানো ২৯.৯০ কেজি মালামাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসে হয়ে গেলে ১৯.৭০ কেজি। সরকারী ডাক বিভাগে আসা এই পার্সেলের প্রাপক ওজনে কম দেখে সেটি গ্রহনে আপত্তি করলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার।
সৌদি আরবের ৩০ কেজির পার্সেল দেশে এসে হয়ে গেলে ১৯ কেজি!
আরও পড়ুন
রংপুরে ৪ খুন: নমুনা পরীক্ষায় আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডিএনএ শনাক্ত
জন্মের তিন দিনের মাথায় মা, এবার ডেঙ্গুতে বাবাকে হারাল আরফা
সুন্দরবনের গহীনে পাওয়া গেল ১৪ মোবাইল, ঘটনা কী?
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গণধর্ষণের ঘটনায় সন্তানদের যা শেখাচ্ছেন বাবা-মায়েরা