ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

থানা থেকে পালিয়েছেন মাদকের আসরে ধরা পড়া সেই পুলিশ কর্মকর্তা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৬ এএম
এএসআই দেলোয়ার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে মাদকের আসরে অভিযান চালিয়ে নারীসহ আটক করা হয়েছিল পুলিশের সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেনকে। কিন্তু, ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই থানা থেকে পাকিয়ে গেছেন তিনি। এখন তাকে ধরতে আবারও অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্র‍ামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক অভিযানে আটক হন এএসআই দেলোয়ার হোসেন। অভিযানে তার সঙ্গে আরও আটক হন তিনজন। তারা হলেন বাগেরহাটের নোয়াপাড়ার বাসিন্দা নাহিদ হাসান (২৮), পাঁচগাঁও গ্রামের মিরাজুল ইসলাম (৩৪) ও ফাতেমা আক্তার নুরতাজ (৩০)।

আটকের পর অভিযুক্ত এএসআই দেলোয়ারকে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানায়, আটককৃতদের মধ্যে দুইজনের ডোপটেস্টে ইয়াবা সেবনের প্রমাণ পাওয়ায় দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু, এর আগেই এএসআই দেলোয়ার থানা থেকে পালিয়ে যান।

অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানার এএসআই ও খুলনা সদরের শেরেবাংলা রোড এলাকার মো. সাখাওয়াত হোসেন সিকদারের ছেলে।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো রফিকুল ইসলাম জানান, ওই এএসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আর কি করে তিনি পালালেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তাকে আটকের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

অভিযানের বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরিশাল জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জানান, বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্রামের বাসিন্দা মিরাজের বাসায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের আসর বসত। এমন খবরে বৃহস্পতিবার ভোরে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বাসায় থাকাদের স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। তখন তারা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে বাসা থেকে ইয়াবা সেবনের ফয়েল পেপার, লাইটারসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রাতের আঁধারে টর্চ জ্বালিয়ে কিছকি ও আক্কার বাড়ির সংঘর্ষ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দেড় বছর আগের চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
রাতের আঁধারে টর্চ জ্বালিয়ে কিছকি ও আক্কার বাড়ির সংঘর্ষ
সৌদি আরবের ৩০ কেজির পার্সেল দেশে এসে হয়ে গেলে ১৯ কেজি!
সৌদিআরব থেকে পাঠানো ২৯.৯০ কেজি মালামাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসে হয়ে গেলে ১৯.৭০ কেজি। সরকারী ডাক বিভাগে আসা এই পার্সেলের প্রাপক ওজনে কম দেখে সেটি গ্রহনে আপত্তি করলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার।
সৌদি আরবের ৩০ কেজির পার্সেল দেশে এসে হয়ে গেলে ১৯ কেজি!
হত্যার হুমকি পেলেন যুবদল নেতা, চিঠিতে লেখা ‘জয় বাংলা’  
যুবদলের ওই নেতার বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে রেখে যাওয়া হয়েছে কাফনের কাপড়, আগরবাতি ও গোলাপজল। সেইসঙ্গে রেখে যাওয়া হয়েছে এক চিঠি, যাতে লেখা— ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। 
হত্যার হুমকি পেলেন যুবদল নেতা, চিঠিতে লেখা ‘জয় বাংলা’  
মেয়ের জন্মদিনের কেক কিনতে যান বাবা, অতঃপর...
চাঁদপুরে মেয়ের জন্মদিনের কেক কিনতে গিয়ে বাসের চাপায় বাবা আল আমিন (৪০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। 
মেয়ের জন্মদিনের কেক কিনতে যান বাবা, অতঃপর...
মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল তাজমিনের সঙ্গে, ধরা পড়ল সিসিটিভি ফুটেজে
কুমিল্লার লালমাইয়ে ফসলি জমি থেকে গলায় গামছা পেঁচানো জান্নাতুল তাজমিন (১৫) নামে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সামনে এসেছে। ফুটেজে দেখা গেছে, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর হোটেলের পশ্চিম পাশে কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যায় সে। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলে। এ সময় দোকানিকে তাকে কিছু একটা দেখাতে বা কোনো দিক নির্দেশ করতে দেখা যায়। এতে আরও দেখা গেছে, দোকানের সামনে কিছু একটা দেখানোর পর তাজমিন সেখান থেকে সরে অন্য পাশে যায়। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। তবে এলাকা ছাড়ার পর তাজমীন কোন পথে গিয়েছিল, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তার চলাচলের পথ এবং সম্ভাব্য যাতায়াতের মাধ্যম নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। এদিকে ঘটনা স্থলের কিছুটা দূরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। তবে জব্দ করা অটোরিকশাটির সঙ্গে তাজমীনের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। তারা কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। সেই বাসা থেকে ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে যায় তাজমিন। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হলো তার মরদেহ। তাজমিন কুমিল্লা শহরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ঘটনা স্থলে দেখা গেছে, লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নির্জন পাকা সড়ক। সড়কের দুপাশ জুড়ে বিস্তৃত সবুজ মাঠ। সড়কটির মধ্যবর্তী স্থানের দুপাশে অন্তত ৪ থেকে ৫টি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন দেখা গেছে। ক্ষেতের মধ্যে থাকা মাথা তোলা ধানগাছ এলোমেলো হয়ে আছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে তাজমিন জীবন বাঁচাতে হত্যাকারীদের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। সড়কের একপাশে ধানক্ষেতে পড়েছিল সিএনজি চালিত অটোরিকশা। পরে সেটিকে স্থানীয়রা টেনে সড়কের ওপর তোলেন। স্থানীয় জগতপুর গ্রামের বাসিন্দা তমাল বনিক জানান, সকালে কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার পাকা সড়কের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমিতে গিয়ে আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় গামছা পেঁচানো এবং মুখ মাটিতে চেপে রাখা ছিল। নিহতের বাবা আবদুল আলীম জানান, ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তাজমিন। এরপর বিভিন্ন সময় ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা জানায়। বুধবার রাত পৌনে ২টার দিকে তাজমিন তাকে মেসেজের পাশাপাশি লাইভ লোকেশন পাঠায় এবং সেখানে এসে তাকে নিয়ে যেতে বলে। তখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে ভোরে ঘুম থেকে উঠে মেসেজ দেখতে পান। লাইভ লোকেশনে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা দেখতে পান তিনি। সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস জানান, ৪ অক্টোবর কুমিল্লা শহরে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় জান্নাতুল তাজমিন। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে আবার ভোররাতে কক্সবাজার যায়। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সহকারী পুলিশ সুপার আরও জানান, উদ্ধার করা সিএনজির ভেতর থেকে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ ও জামা পাওয়া গেছে। নিহতের বাবা জামা দেখে সেটি জান্নাতের বলে শনাক্ত করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মরদেহটি প্রথমে অজ্ঞাত ছিল। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতের বয়স আনুমানিক ১৫ বছর। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, আমরা ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছি। তথ্য প্রযুক্তির সহয়তায় ঘাতকদের আটক করতে অভিযান পরিচালনা করছি। শিগগিরই ঘাতকদের আটক করা হবে। আরটিভি/টিআর
মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল তাজমিনের সঙ্গে, ধরা পড়ল সিসিটিভি ফুটেজে
আরও পড়ুন
জনগণকে নিয়ে অপরাধ দমনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশ আইজিপির
মিস্ত্রিকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন পুলিশ কর্মকর্তা
মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের
টেবিলের নিচ দিয়ে ঘুষ নিয়ে ভাইরাল পুলিশ কর্মকর্তা