
একসময় বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে মানুষের ঘরে আলো পৌঁছে দিতেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করাই ছিল তার কাজ। কিন্তু সেই বিদ্যুৎই এক মুহূর্তে বদলে দিয়েছে লাইনম্যান মো. নূর আলমের জীবন। কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মানবেতর জীবন পার করছেন তিনি।
আহত মো. নুরে আলম ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার পৌরসভা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এর লাইনম্যান গ্রেড ১ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মে মাসের ২১ তারিখে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এর সদর দপ্তরের উপকেন্দ্রে ৩৩ কেভি লাইনে কাজ করার সময় ভয়াবহ বিদ্যুৎ দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নূর আলমকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় ঢাকার বার্ন ইউনিটে। সেখানে প্রায় ৪০ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর কর্মস্থলে ফিরে যোগ দেন। তবে চিকিৎসা শেষ হয়নি। শরীরের পুড়ে যাওয়া অংশে এখনও জ্বালা-পোড়া রয়েছে।
নূর আলমের অভিযোগ, কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হলেও চিকিৎসার জন্য অফিস থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা পাননি তিনি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে ১২ দিনের ছুটি দেওয়া হলেও পরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাকে জোনাল অফিসে বদলি করা হয়। এরপর আসে আরও বড় দুশ্চিন্তা।
চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ থেকে তাকে বদলি করা হয়েছে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে। চলমান চিকিৎসার মধ্যে দূরের কর্মস্থলে গিয়ে দায়িত্ব পালন করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
নূর আলমের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর শরীর এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। পুড়ে যাওয়া স্থানে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় নতুন কর্মস্থলে গিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হলে একদিকে যেমন চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে শারীরিকভাবেও তাকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
একজন বিদ্যুৎকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হওয়ার পরও চিকিৎসা সহায়তা না পাওয়া এবং চিকিৎসা চলাকালীন দূরের কর্মস্থলে বদলি হওয়ায় হতাশ নূর আলম। তার এখন একটাই চাওয়া মানবিক বিবেচনায় তাকে কিছুটা সময় দেওয়া হোক, যাতে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পরিচালক (মানবসম্পদ) বরাবর লিখিত আবেদনও করেছেন নূর আলম।
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ জেনারেল ম্যানেজার গোলাম কাউছার তালুকদার বলেন, নুরে আলম আহত হওয়ার পর তাকে ঢাকা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সেই চিকিৎসার খরচ আমরা সকলেই বহন করেছিলাম। তার বদলি আমার হাতে না। তখন যারা তাকে দিয়ে কাজ করিয়েছে শাস্তি হলে তাদের হবে।
আরটিভি/ এসকেডি


