ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে সেই অটোরিকশাচালকই, বিস্তারিত জানাল পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার (কুমিল্লা), আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২০ এএম
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার লালমাটিয়ায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। অটোরিকশাচালক সুমনই তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে তারা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।

তিনি জানান, ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর (উত্তর পাড়া) গ্রামে ধানক্ষেতের আইলের পাশে একটি মেয়ের মরদেহ পড়ে আছে মর্মে জাতীয় জরুরী সেবা (৯৯৯) এ কল আসে। লালমাই থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমকে শনাক্তকরণসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে, ভিকটিমের পিতা মরদেহটি শনাক্ত করেন এবং ভিকটিমের নাম জান্নাতুল তাজমিন (১৫) মর্মে জানা যায়। ভিকটিমের স্থায়ী ঠিকানা যশোর জেলা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া আরও জানান, ভিকটিম তার পিতার চাকরির সূত্রে পরিবারসহ কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করে। ভিকটিম জান্নাতুল তাজমিন (১৫) কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। এই সংক্রান্তে লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। মামলা রুজু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম হতে আটক করা হয়।

আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভিকটিম গত ৮ অক্টোবর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডস্থ তিশা বাস কাউন্টারের সামনে হতে তার বাসা রেসকোর্সে যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করতে যায়। অটোরিকশা চালক সুমন মিয়াকে (৩৫) ৩০০ টাকা ভাড়ায় ঠিক করে তাজমিন। আসামি সুমন মিয়া তাকে শর্টকাট রাস্তা দিয়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নুরজাহান হোটেলের সামনে হতে ইউটার্ন করে চাঁদপুরগামী রোড দিয়ে বিজরা বাজার হয়ে ঘটনাস্থলের দিকে চলে যায়।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুমন মিয়া তার সিএনজি বন্ধ করে দেয়। ঘটনাস্থলটি অন্ধকার ও নির্জন জায়গা হওয়ায় ভিকটিম ভয় পায় এবং সুমন মিয়াকে জিজ্ঞেস করে এটা কোন জায়গা। তখন সুমন মিয়া বলে এটা রেসকোর্স না, এটা অন্য জায়গা। তখন ভিকটিম ভয় পেয়ে সিএনজি থেকে নেমে যায় এবং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় সিএনজিচালক সুমন মিয়া ভিকটিমকে আটকানো এবং অসৎ উদ্দেশ্যে চরিতার্থ করার চেষ্টা করলে ভিকটিম চিৎকার শুরু করে। তখন আসামী সুমন মিয়া তার গামছা ভিকটিমের গলায় পেঁচিয়ে ধরে। আসামী সুমন মিয়া ও ভিকটিমের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ভিকটিম দুর্বল হয়ে পড়ে।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামী সুমন জানায়, সে ভিকটিমকে ধর্ষণ করেছে। পরবর্তীতে আসামি সুমন মিয়া ভিকটিমকে ধানক্ষেতে নিয়ে মাটিতে উপুড় করে রেখে তা মাথা তার পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে ভিকটিমের ব্যবহৃত হ্যান্ডব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে নেয় এবং ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেয়।

পরবর্তীতে সুমন মিয়া ঘটনাস্থলে তার সিএনজিটি রেখে কাছাকাছি মসজিদের সামনে গিয়ে পুকুরে গোসল করে এবং একটি ভাড়ায়চালিত সিএনজিতে করে ঝালমুড়ি বাজার যায়। ঝালমুড়ি বাজার এলাকায় একটি পুকুরের পাশে জঙ্গলে ভিকটিমের নিকট থেকে নেওয়া আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রাম চলে যায় সে। পরদিন অর্থাৎ গত ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম হতে আসামি সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে ঝালমুড়ি এলাকার পুকুরের পাশের জঙ্গল হতে ভিকটিমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাসচাপায় একসঙ্গে প্রাণ গেল শাশুড়ি-পুত্রবধূর
জামালপুরের বকশীগঞ্জে বাসচাপায় শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ৬টার দিকে ঢাকা-বকশীগঞ্জ মহাসড়কের নিলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাসটি জব্দ ও এর হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন নিলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া গ্রামের উফেজা বেগম (৬৫) ও তার পুত্রবধূ ফরিদা বেগম (৪০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা শান্তি পরিবহন নামের একটি বাস বকশীগঞ্জ উপজেলার ঠাকুরপাড়া হয়ে রৌমারীর দিকে যাচ্ছিল। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন শাশুড়ি উফেজা বেগম ও তার পুত্রবধূ ফরিদা বেগম। সকাল ৬টার দিকে বাসটি ঠাকুরপাড়া এলাকা অতিক্রম করার সময় তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর বাসের হেলপার মহিউদ্দিনকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি জব্দ করে। শাশুড়ি ও পুত্রবধূর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মকবুল হোসেন জানান, বাসটি জব্দ ও এর হেলপার মহিউদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আরটিভি/টিআর
সাতসকালে বাসচাপায় প্রাণ গেল শাশুড়ি-পুত্রবধূর
শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল ও সনদ অর্জনের পেছনে ছুটলেই চলবে না; বরং নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে মানিকগঞ্জের মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শিক্ষার মূল লক্ষ্য শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, বরং একজন যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। শিক্ষার্থীদের মেধা, দক্ষতা ও মূল্যবোধ ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করাই যথেষ্ট নয়; তোমাদের সৎ, দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিক্ষা যেন কেবল সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং তা যেন মানুষের চিন্তাশক্তি, বিবেক ও দায়িত্ববোধকে সমৃদ্ধ করে। তিনি আরও বলেন, আধুনিক বিশ্বে নিজেদের যোগ্য মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। তোমাদের বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সততা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে হবে। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. খাইরুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহররম আলী। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সমন্বয়কারী রহমত আরা লস্করার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদ হাসান, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির জেলা শাখার সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি শাহজাহান বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক রিপন আনসারী এবং জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মিনহাজ মিয়া। প্রতিষ্ঠানের মিলনায়তনে আয়োজিত এ নবীনবরণ অনুষ্ঠানে নাচ, গান, ফ্যাশন শো ও আলোচনা পর্বের মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী
অন্যের স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে ৭ মাসের ‘সংসার’ মসজিদের ইমামের
বরিশালের বাকেরগঞ্জে এক বিবাহিত নারীকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় সাত মাস ধরে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে একটি মসজিদের ইমাম আব্দুল্লাহ তুহিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ওই ইমাম ও নারীকে আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। তবে কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ তুহিন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে তুহিনের সঙ্গে পাশের গ্রামের এক নারীর বিয়ে হয়। পরে পটুয়াখালীর মজিদপুর গ্রামের একটি মসজিদে ইমামতি করার সময় ওই মসজিদের পাশের বাড়ির এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর বড় ভাইয়ের অভিযোগ, এর আগে মজিদপুর এলাকার একটি মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করার সময় তুহিন ওই মসজিদের পাশের বাড়ির বিবাহিত নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ওই নারী তার স্বামীর সংসার ছেড়ে তুহিনের সঙ্গে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ওই নারীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। পরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে তুহিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে পরিবারের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সাত মাস আগে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে তুহিন বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নে আসেন এবং এক মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর তারা স্থানীয় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে তুহিনের প্রথম স্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ওই ভাড়া বাসায় গিয়ে দুজনকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে দাড়িয়াল সরসী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। দাড়িয়াল সরসী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুস সালাম জানান, স্থানীয়রা মসজিদের ইমাম ও এক নারীকে আটক করার পর পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। পরে কলাপাড়া থেকে আসা ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। উভয় পক্ষের কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ তুহিন দাবি করেন, নারীর সঙ্গে তার মৌখিকভাবে বিয়ে হয়েছে। তবে এ সময় তিনি বিয়ের কোনো কাবিননামা বা নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একজন মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আইনগত অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আরটিভি/টিআর
অন্যের স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে ৭ মাসের ‘সংসার’ মসজিদের ইমামের
ধস্তাধস্তির পর ধানক্ষেতেই তাজমিনকে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন সুমন
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৩) গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সিএনজিচালক সুমন। ধানক্ষেতে নিয়ে যাওয়ার পর ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।  শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাজমিনের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করেও ঘটনার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তির আলামত মিলেছে। পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সুমন একাই তাজমিনকে ধানখেতে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন। হত্যার কারণও অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৭ অক্টোবর) গভীর রাতে বাস থেকে নেমে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সর্বশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে কিশোরীকে একা পেয়ে সুমন শহরের দিকে না গিয়ে উল্টো পথে অটোরিকশা চালাতে থাকেন। বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া হয়ে তিনি লালমাই উপজেলার জগতপুরের একটি ধানক্ষেতের দিকে যান। বিষয়টি বুঝতে পেরে চলন্ত অটোরিকশা থেকেই রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে লাইভ লোকেশন ও বার্তা পাঠিয়ে উদ্ধারের আকুতি জানায় তাজমিন। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় তার বাবা বার্তাটি দেখতে পাননি। পরে জগতপুরের ধানক্ষেতে পৌঁছালে আত্মরক্ষার জন্য পালানোর চেষ্টা করে তাজমিন। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশে অটোরিকশাটিও পড়ে ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে তার পরিচয় শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তে সুমনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত জান্নাতুল তাজমিন কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে উপস্থিত হয়নি। তার বাবা আব্দুল আলিম একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। পরিবার নিয়ে তারা কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামে। এর আগে গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে বুধবার রাতে বাসায় ফেরার পথে সিএনজিচালকের অটোরিকশায় ওঠার পর এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হয় সে। আরটিভি/এসকে
ধস্তাধস্তির পর ধানক্ষেতেই তাজমিনকে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন সুমন
মা-বাবার শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে বরযাত্রা
বিয়ের বরযাত্রা মানেই সাধারণত গাড়ি, মাইক্রোবাস কিংবা ঘোড়ার গাড়ি। তবে ব্যতিক্রমী আয়োজন করে আলোচনায় এসেছেন গাইবান্ধার সাকিব মিয়া। পরিবারের একমাত্র ছেলের বিয়েতে মা-বাবার দীর্ঘদিনের শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়িতে যান তিনি। ব্যতিক্রমী এই বরযাত্রা দেখতে কনের বাড়িতে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী উৎসুক মানুষ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের চকনদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর সাকিব মিয়া চকনদী গ্রামের সাইদ আলীর ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। তার কনে সুরাইয়া আক্তার একই উপজেলার হিংগারপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার বড় মেয়ে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন সাকিব। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন একমাত্র দুলাভাই। পরিবারের অন্য সদস্য ও বরযাত্রীরা মাইক্রোবাসে করে কনের বাড়িতে যান। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ধাপেরহাট ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামে কনের বাড়িতে পৌঁছান সাকিব। হাতির পিঠে বরের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে একনজর দেখতে সেখানে জড়ো হন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্কদের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক কৌতূহল। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুরাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় সাকিবের। যৌতুকবিহীন এ বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় আড়াই লাখ টাকা। বিয়ের আসরেই নববধূকে দেনমোহরের অর্থ বুঝিয়ে দেন বর। পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতেই নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। বরের বোন জানান, পরিবারের একমাত্র ছেলের বিয়েতে মা-বাবার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল ছেলেকে হাতির পিঠে চড়িয়ে বিয়ে করানোর। সেই শখ পূরণ করতেই নেওয়া হয় ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ। সাকিব মিয়া বলেন, ‘বিয়ে জীবনের একটি বিশেষ দিন, যা বারবার আসে না। মা-বাবার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল আমাকে হাতির পিঠে চড়িয়ে বিয়ে করাবেন। তাদের ইচ্ছা পূরণ এবং দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০ হাজার টাকা দিয়ে হাতিটি ভাড়া করে আনা হয়। মা-বাবার শখ পূরণ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাদের এলাকায় হাতির পিঠে চড়ে বরের কনের বাড়িতে যাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। এ কারণে ব্যতিক্রমী বরযাত্রাটি দেখতে আশপাশের অনেক মানুষ ছুটে আসেন। ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন জানান, মা-বাবার ইচ্ছা পূরণ করতেই হাতির পিঠে চড়ে বিয়ের এ আয়োজন করা হয়েছে। বর ও হাতিকে দেখতে বিয়েবাড়িতে শত শত মানুষের ভিড় জমে। আরটিভি/এসকে
মা-বাবার শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে বরযাত্রা
আরও পড়ুন
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৩
‘তেলাপোকাদের’ বিক্ষোভ দমনে নয়াদিল্লিতে ২৫ হাজার পুলিশ, প্রস্তুত ১২ বন্দিশিবির
মেক্সিকোয় দুই ভাইসহ ৩ পর্যটক হত্যায় দোষী ৩ জন
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এলো তাজমিন হত্যার যেসব তথ্য