ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সেই কালো রাতে যেমন ছিল স্কুলছাত্রী তাজমিনের গতিবিধি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার লালমাইয়ে নৃশংস হত্যার শিকার হয়েছেন জান্নাতুল তাজমিন (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী। সময় যত গড়াচ্ছে এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে ততই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। বুধবার (৭ অক্টোবর) ঘটনার রাতে বাবার মোবাইলে নিজের অবস্থানের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল সে। কিন্তু এরপর কী ঘটেছিল, কীভাবে নির্জন ধানক্ষেতে পৌঁছাল সে—সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন তদন্তকারীরা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জগতপুর গ্রামের যে ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, তার কাছেই মিলেছে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা; তার ভেতরে পাওয়া গেছে একটি ভ্যানিটি ব্যাগও। জব্দ করা অটোরিকশাটির নিবন্ধন রয়েছে। এখন সেই গাড়ির সূত্র ধরেই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে তদন্ত; সেইসঙ্গে বিশ্লেষণ চলছে সিসিটিভি ফুটেজও। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশের একাধিক ইউনিট।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল সে। তার বাবা আবদুল আলীম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবারের সদস্যরা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

চার দিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে সে কক্সবাজারে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। ফেরার পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নেমেছিল সে।

সিটিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ঘড়ির কাঁটায় রাত তখন ১১টা ৪০ মিনিট। কক্সবাজার থেকে ফেরা বাস থেকে নেমে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে দাঁড়ায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন। পরনে গোলাপি কামিজ ও জিন্স প্যান্ট। হাতে মুঠোফোন, বাঁ হাতে ঝোলানো ভ্যানিটি ব্যাগ। সেখানে একটি কনফেকশনারির দোকানির সঙ্গে কথা বলে সে; এরপর দোকান থেকে বেরিয়ে এগিয়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দিকে।

নৃশংস ঘটনার শিকার হওয়ার আগে হোটেল নুরজাহানের সামনে জীবিত জান্নাতুল তাজমিনকে শেষবারের মতো এভাবেই ধারণ করে সিসিটিভি।

এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, চারদিন আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তাজনিম প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন কুমিল্লায় ফিরে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় তাজমিন। রাতে পদুয়ার বাজারে পৌঁছে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে সে। সিসিটিভি ফুটেজে ওই এলাকায় তার অবস্থান ও দোকানির সঙ্গে কথা বলার দৃশ্য দেখা গেলেও সেখান থেকে চলে যাওয়ার পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম জানান, বুধবার গভীর রাতে মেয়ের কাছ থেকে একটি বার্তা ও লাইভ লোকেশন পান তিনি। মেয়েটি তাকে সেখানে গিয়ে নিয়ে আসতে বলেছিল। তবে তখন ঘুমিয়ে থাকায় সঙ্গে সঙ্গে বার্তাটি দেখতে পারেননি তিনি। পরে লোকেশন দেখে সেখানে গিয়ে দেখতে পান তাজমিনের নিথর মরদেহ।

ঘটনাস্থলের কাছে পাওয়া যাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভেতরে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ ও শার্ট তাজমিনের বলে শনাক্ত করেছেন তার বাবা।

কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখান থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে। নিহতের শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, তাজমিনের মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত চলছে। সিসিটিভি ফুটেজে তাজমিনের গতিবিধির একটি অংশ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন তথ্য ও আলামত যাচাই করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নোয়াখালীতে এসিড গিলে যুবকের মৃত্যু
নোয়াখালীর সেনবাগে দুরারোগ্য রোগের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে রাসায়নিক পদার্থ (এসিড) পান করে দোলন কুমার বণিক (৩০) নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
নোয়াখালীতে এসিড গিলে যুবকের মৃত্যু
বিজিবিকে ফাঁকি দিয়ে ভারতে চলে যাচ্ছিলেন দুই বাংলাদেশি, অতঃপর...
কী উদ্দেশ্যে তারা ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন কিংবা এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বিজিবিকে ফাঁকি দিয়ে ভারতে চলে যাচ্ছিলেন দুই বাংলাদেশি, অতঃপর...
এখন প্রেমপত্র আসে না, আসে শুধু তালাকপত্র!
একসময়ে একটি চিঠি বা একটি টেলিগ্রামের জন্য তীর্থের কাকের মতো বসে থাকতো পত্র প্রাপকরা। প্রিয়জনের লেখা একটি চিঠি হাতে পাওয়ার আনন্দে কেটে যেতো সব কষ্ট। পত্র প্রেরকরাও ছুটতেন ডাকঘর গুলোতে। প্রতিদিন ডাকঘরের ডাকবাক্স খুলে যাচাই-বাছাই করে সেই ডাক নিয়ে শহর-নগর, গ্রাম-গঞ্জের পাড়া- মহল্লায় ছুটতেন ডাক পিয়ন ও রানাররা। চিঠিপত্র বা ডাক নিয়ে এখন আর সেই কর্ম ব্যস্ততা নেই ডাকঘরগুলোতে। পথঘাটহীন, ঝাড়-জঙ্গলে খোঁজে পাওয়া গেল ময়মনসিংহের গৌরীপুরের অধিকাংশ শাখা ডাকঘর। সব ডাকঘরেই ঝুলছে তালা। এ দিকে এসব পোস্ট অফিসে আসে শুধুমাত্র সরকারি-বেসরকারি নিয়োগপত্র, মামলা সংক্রান্ত চিঠিপত্র। কোনো পোস্ট অফিসে বছরে একটি প্রেমপত্রও আসার খবর পাওয়া যায়নি। তবে প্রত্যেকটি পোস্ট অফিসে প্রতি মাসে ১২ থেকে ২০টি তালাকপত্র আসার খবর পাওয়া গেছে। সরেজমিনে, উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ভূটিয়ারকোনা ডাকঘরটি খোঁজে পাওয়া গেল এক জঙ্গলের ভেতরে। পাশে উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ থাকলেও এ ডাকঘরে যাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট রাস্তা নেই।  স্থানীয়রা জানান, পোস্ট মাস্টার কবে এসেছেন, তারা কেউ দেখেন নাই। পোস্ট অফিসের দরজায় আগাছার আখড়া, সামনে গোচারণ ভূমি হওয়ায় আছে গোবর-আবর্জনা এবং পরগাছায় ভরপুর।  ওপর একটি ডাকঘর কিল্লাতাজপুর। বাজার বা জনগণের কথা বিবেচনা না করে পোস্ট মাস্টারের দেওয়া জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। একই অবস্থা দেখে গেছে অচিন্তপুর ইউনিয়নের মুখুরিয়া, মইলাকান্দা ইউনিয়নের লামাপাড়া ও ভবানীপুর। রামগোপালপুর ইউনিয়নের ভবানীপুরের জমিদার এ পোস্ট অফিসের শাখা চালু করেন। তবে একটি নির্ধারিত স্থানে নেই। বোকাইনগর ইউনিয়নে স্থানান্তর হলেও এলাকাবাসী এ নামের ডাকঘর চেনেন না। রামগোপালপুর, পাছারবাজার, শাহগঞ্জ ও বীরআহাম্মদপুর ডাকঘরেও গিয়ে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রত্যেকটি পোস্ট অফিসে সৌরবিদ্যুৎ, কম্পিউটার, ল্যাপটপ থাকলেও সেবা কার্যক্রম নেই। পাছার পোস্টার মাস্টার মো. আতাউর রহমান জানান, তিনি ১৯৯১ সাল থেকে এ ডাকঘরে আছেন। এক সময় খুব কদর ছিল। গ্রামের ছেলে মেয়েদের নিকট থেকে বকশিসও পাওয়া যেত। চিঠি পেয়েই দৌড় মারতো। সেই দিন এখন আর নেই।  মোবাইলে এসব শেষ হয়ে গেছে।  তিনি আরও জানান, গত মাসে ১৪টি তালাকনামা এসেছে। আদালতের চিঠি, এনজিওর চিঠি এসেছে। কিন্তু গত ২-৩ বছরের মধ্যে একটি প্রেমপত্র আসে নাই। লামাপাড়া পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, এসব ইলেকট্টনিক্স সামগ্রী দেওয়ার পরপরই নষ্ট হয়ে গেছে।  ভবানীপুর পোস্ট মাস্টার মহসিন মাহমুদ শাহ জানান, সব ইলেকট্টনিক্স সামগ্রী নষ্ট। তাই এগুলো অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে।  পাছার ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার মো. আতাউর রহমান জানান, আমাদের বেতনভাতা নামকাওয়াস্তে। আমরা পাই ৪ হাজার ৪৬০ টাকা, পিয়ন পান ৪ হাজার ৩৫৪ টাকা আর রানার পান ৪ হাজার ১৭৭ টাকা। তারপরেও সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে গৌরীপুর প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার আমিনুল ইসলাম জানান, উপজেলা পোস্ট অফিসে প্রতি মাসে ৮০ টাকা অফিস খরচ, যা দিয়ে স্টেপলারের পিন কেনা সম্ভব হয় না। বাজেট বরাদ্দ না থাকায় আমরাও সেইভাবে কাজ করতে পারছি না।  তিনি আরও জানান, প্রতি মাসে উপজেলার ১৪টি শাখা পোস্ট অফিস ও উপজেলা পোস্ট অফিসে প্রায় ১৬০ থেকে ১৮০টি তালাকপত্র আসে। যা বছরে ২ হাজারের অধিক হবে। বিয়ে বিচ্ছেদের বিষয়টা গৌরীপুরে বেড়ে যাচ্ছে। গত নভেম্বরে এ পোস্ট অফিসে যোগদানের পর কোনো তরুণ-তরুণীর নামে কোনো চিঠি (প্রেমপত্র) আসতে দেখি নাই। আরটিভি/টিআর
এখন প্রেমপত্র আসে না, আসে শুধু তালাকপত্র!
খুন হওয়ার আগে বাবার মোবাইলে যে মেসেজ পাঠিয়েছিল তাজমিন
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যার ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে ক্রমশ।
খুন হওয়ার আগে বাবার মোবাইলে যে মেসেজ পাঠিয়েছিল তাজমিন
রাতের আঁধারে টর্চ জ্বালিয়ে কিছকি ও আক্কার বাড়ির সংঘর্ষ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দেড় বছর আগের চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
রাতের আঁধারে টর্চ জ্বালিয়ে কিছকি ও আক্কার বাড়ির সংঘর্ষ
আরও পড়ুন
খুন হওয়ার আগে বাবার মোবাইলে যে মেসেজ পাঠিয়েছিল তাজমিন
দিনদুপুরে ফিল্মি স্টাইলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে উধাও দুই যুবক, অতঃপর...
ছাত্রীকে বাগে পেয়ে ‘সর্বনাশ’ করেন শিক্ষক, অতঃপর...
স্কুলছাত্রীর ‘সর্বনাশ’ করে বাড়ির সামনে ফেলে যান রুবেল, অতঃপর...