
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নের বড় মদক ও আশপাশের প্রায় ৬০ গ্রামের ১০ হাজারের বেশি মানুষের জন্য নেই স্থায়ী হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সামান্য চিকিৎসা নিতেও তাদের পাড়ি দিতে হয় প্রায় ৭০ কিলোমিটার পাহাড়ি ও নৌপথ। এতে জরুরি চিকিৎসা পেতে বিলম্বের পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি। এ অবস্থায় বড় মদকে সরকারি হাসপাতাল স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা।
বড় মদক, ছোট মদক, সাঙ্গু রিজার্ভ, আন্ধারমানিক ও তিন্দু ইউনিয়নের কিছু অংশে প্রতিবছর ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও হামসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। স্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং টিকাদান কার্যক্রম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকে। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে নিতে দেরি হওয়ায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে রেমাক্রী ও তিন্দু ইউনিয়নে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শতাধিক রোগী চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছাতে না পেরে নদীপথে মারা গেছেন।
রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা (রনি) বলেন, বড় মদক ও আশপাশে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না থাকায় জরুরি চিকিৎসার অভাবে প্রতিবছর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সেখানে হাসপাতাল স্থাপন করা হলে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকার মানুষ দ্রুত চিকিৎসা পাবেন।
স্থানীয় বাসিন্দা চসিংমং মারমা বলেন, অস্থায়ী চিকিৎসা কার্যক্রম দিয়ে দীর্ঘদিনের সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। বড় মদকে হাসপাতাল স্থাপনের পাশাপাশি চিকিৎসক, ওষুধ ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, পাড়াপ্রধান ও শিক্ষিত তরুণেরা বড় মদকে হাসপাতাল স্থাপনের আবেদন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে



