ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

লালশাড়িতেই হারিয়ে যাচ্ছে ‘দৌড়ে বেড়ানো’ শৈশব!

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি, আরটিভ নিউজ

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
ছবি: আরটিভি

পিরোজপুর জেলা সদর থেকে মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বলেশ্বর নদের কোলঘেঁষা এ উপজেলায় প্রবাসী পরিবারের সংখ্যা বেশি। এসব পরিবারের অনেক অভিভাবক দীর্ঘদিন বিদেশে থাকায় মেয়েদের দেখভালের দায়িত্ব থাকে পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর। তদারকি ও সচেতনতার অভাবে এসব পরিবারের কিছু কিশোরী বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে পড়ছে। সচেতনতার অভাব ও অভিভাবকদের দায়িত্বহীনতার আড়ালে এভাবে বাল্যবিবাহের উদ্বেগজনক বাস্তবতা সামনে আসছে। শুধু পৌর শহরের বিদ্যালয়গুলোতেই নয়, উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও বাল্যবিবাহের প্রকোপ রয়েছে।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করা ব্যক্তিদের মতে, পিরোজপুর জেলায় বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটে না, এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া কঠিন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে যতসংখ্যক ছাত্রী ভর্তি হয়, দশম শ্রেণিতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে তাদের ৩০ থেকে ৪৮ শতাংশ শুধু বাল্যবিবাহের কারণে ঝরে পড়ে। ফলে অল্প বয়সে বিয়ের শিকার হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাজীবন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে অনেক কিশোরী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাল্যবিবাহ দেওয়া হয়েছে এমন একটি পরিবারের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন কারণে তারা মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়েছেন। কেউ দারিদ্র্য ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কেউ আবার ‘ভালো ছেলে’ পেয়ে যাওয়ায় বিয়ে দিয়েছেন। কয়েকজন অভিভাবকের দাবি, তারা মেয়ের বিয়ে দেননি বরং ছেলে-মেয়েরা নিজেরাই পছন্দ করে বিয়ে করেছে।

আব্দুল ওহাব আলিম মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন বলেন, সরকার এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে বাল্যবিবাহের এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। বাল্যবিবাহ নিবন্ধিত না হওয়ায় নির্যাতন বা বিবাহবিচ্ছেদের শিকার হলেও মেয়েরা আইনি প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করা সমাজকর্মী মমতাজ আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নে এক মাদরাসাছাত্রীর বাল্যবিবাহের আয়োজন করা হয়েছিল। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তারা সেই বিয়ে বন্ধ করেন। এমনকি উপজেলার স্বনামধন্য সরকারি হাতেম আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছে। এ রকম অনেক ঘটনা রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মনিকা আক্তার বলেন, মঠবাড়িয়ায় বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটে। যেসব ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়, সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয় অথবা মুচলেকা নেওয়া হয়। তবে তাদের অগোচরে বাল্যবিবাহ হলে সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, পরিবারভিত্তিক উঠান বৈঠক এবং কিশোর-কিশোরী ক্লাবের মাধ্যমে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অনেক সময় বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পার্শ্ববর্তী উপজেলায় গিয়ে সরকারি নিবন্ধন ছাড়াই বিয়ে করেন। এ কারণে উপজেলায় বাল্যবিবাহের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ করা কঠিন। তবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হিমালয়ের শকুনের দেখা মিলল কুড়িগ্রামের লোকালয়ে
হিমালয়ের বরফঢাকা পাহাড় পেরিয়ে শীতের অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে আসা একটি হিমালয়ান গৃধিনী শকুন এবার আশ্রয় নিয়েছিল কুড়িগ্রামের রাজারহাটের লোকালয়ে। 
হিমালয়ের শকুনের দেখা মিলল কুড়িগ্রামের লোকালয়ে
পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা
ভুয়া মনে করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় কর্মরত দুই পুলিশ সদস্যকে মারতে মারতে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।  বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ লাইন ও সরকারি মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের তুলে নেওয়া হয়। এসময় পুলিশের এক সোর্সকেও মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়। ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যরা হলেন— কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা, কনস্টেবল মো. হানিফ এবং পুলিশের সোর্স জাহিদ। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টিউশনি শেষ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম ও অর্প রাস্তা ধরে হাঁটছিলেন বাস ধরার জন্য। এসময় পুলিশ পরিচয়ে তিনজন তাদের পথরোধ করে তল্লাশি চালান। ওই শিক্ষার্থীরা পুলিশের পরিচয়পত্র দেখাতে বলায় তারা পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে তাদের ভুয়া পুলিশ মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বাস থেকে নেমে তাদের মারধর করে টেনে-হিঁচড়ে বাসে তুলে ফেলেন।  দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজনকে মারতে মারতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয় দুজন পুলিশ এবং একজন তাদের সোর্স। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। মারধরের শিকার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা বলেন, আমরা দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানতে চেয়েছিলাম। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। আমাদের সঙ্গে পরিচয়পত্র না থাকায় ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানো হয়। পাশাপাশি ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটি না শুনেই মব সৃষ্টি করে আমাদের তুলে নিয়ে যান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোতোয়ালি থানার একজন এএসআই, একজন কনস্টেবল ও পুলিশের একজন সোর্স ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের তল্লাশি করার চেষ্টা করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে। তিনি বলেন, এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের জোর করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। এভাবে কাউকে তুলে না এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো উচিত ছিল। একইভাবে পুলিশ সদস্যদেরও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত ছিল। উভয় পক্ষেরই কিছু ঘাটতি ছিল। পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তায়িন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, ঘটনাস্থল থেকেই থানায় বা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি সমাধান করা যেত। বাসে করে পুলিশ সদস্যদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ৫ আগস্টের পর থেকে একটা মব কালচারের রেশ ছিল। সেখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আরটিভি/এসআর  
পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা
কুমিল্লায় গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন হলো বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ
কুমিল্লায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার (৭৮)-এর শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বা ‘গার্ড অব অনার’ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। 
কুমিল্লায় গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন হলো বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ
এবার দিনদুপুরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন
শুক্রবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভের বেদিতে এ ঘটনা ঘটে।
এবার দিনদুপুরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন
সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে চাঁদপুরে প্রশিক্ষণ কর্মশালা 
চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউভাসিটির উদ্যোগে শুরু হয়েছে আধুনিক সাংবাদিকতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব বিষয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে চাঁদপুরে প্রশিক্ষণ কর্মশালা 
আরও পড়ুন
মোটরসাইকেলে হরিণের মাংসের চালান, পল্লী বিদ্যুতের কর্মীসহ গ্রেপ্তার ২
দেশের সেবা করে অবসরে, নামের ভুলে ৬ বছর ধরে বন্ধ ভাতা!
পুলিশ কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতাকে চাপা দিয়ে হত্যা, অতঃপর...
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ফের দুর্ঘটনা, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন