ঢাকা শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

অর্থাভাবে থমকে গেছে চিকিৎসা, তিন সন্তানের জন্য বাঁচতে চান ক্যানসার আক্রান্ত নজরুল

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
ছবি: আরটিভি

তিনটি ছোট সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন নজরুল ইসলাম হাওলাদার (৪০)। একসময় ছোট্ট চায়ের দোকানের আয় দিয়ে কোনোমতে চলত সংসার। কিন্তু মরণব্যাধি ক্যানসার কেড়ে নিয়েছে তার কর্মক্ষমতা, বন্ধ হয়ে গেছে আয়ের পথ। এখন নিজেই বিছানায় পড়ে অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করছেন, আর চোখের সামনে অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে স্ত্রী সন্তানদের ভবিষ্যৎ। অর্থের অভাবে থমকে যাওয়ার পথে তার ক্যানসারের চিকিৎসা।

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের গোলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা নজরুল। তিনি জামাল হাওলাদারের ছেলে। পাইলসের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ধরা পড়ে মলদ্বারে ক্যানসার। এরপর থেকে শুরু হয় চিকিৎসার দীর্ঘ লড়াই। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কেমোথেরাপিতে ইতোমধ্যে ব্যয় হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা। কিন্তু এত টাকা খরচ করেও স্বস্তি ফেরেনি পরিবারে। বরং চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে পরিবারটি।

নজরুলের চিকিৎসা চলছে ঢাকার মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে। আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এ পর্যন্ত চারটি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর পরবর্তী কেমোথেরাপির তারিখ। এজন্য প্রয়োজন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু এই সামান্য টাকাটুকু জোগাড় করার সামর্থ্যও এখন নেই পরিবারের। একদিকে অসহনীয় শারীরিক যন্ত্রণা, অন্যদিকে চিকিৎসার টাকা জোগাড়ের দুশ্চিন্তা দুইয়ের চাপে দিশেহারা নজরুল।

অসুস্থ নজরুলের স্ত্রী হেলেনা বেগমের সংসারে তিনটি ছোট সন্তান। স্বামী অসুস্থ হওয়ার পর সংসারের একমাত্র আয়ের পথটিও বন্ধ হয়ে গেছে। তিনবেলা খাবার জোগাড় করতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে স্বামীর ক্যানসারের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা যেন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনমজুর শ্বশুর জামাল হাওলাদারের সামান্য সহযোগিতায় কোনোরকমে চলছে সংসার। বসতভিটা ছাড়া তাদের সম্বল মাত্র ছয় শতাংশ জমি।

স্বামীর চিকিৎসার কথা বলতে গিয়ে অসহায় হেলেনা বেগমের কণ্ঠে ফুটে ওঠে অনিশ্চয়তা আর আকুতি। মানুষের সহযোগিতায় এতদিন চিকিৎসা চললেও এখন সেই সহযোগিতাও কমে গেছে। তাই স্বামীকে বাঁচানোর আশায় সমাজের বিত্তবান মানুষ, দেশ-বিদেশে থাকা হৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেশী এম কে এইচ কিবরিয়া বলেন, এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে এতদিন নজরুলের চিকিৎসা চালানো হয়েছে কিন্তু তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তিনটি সন্তান নিয়ে পরিবারটি এখন চরম সংকটে রয়েছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ অবস্থায় নজরুলের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

একসময় নিজের পরিশ্রমে সংসার চালাতেন নজরুল। আজ সেই মানুষটিই চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে অন্যের সহযোগিতার অপেক্ষায়। তার ছোট ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ, স্ত্রীর চোখের জল আর বেঁচে থাকার আকুতি যেন একটাই প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে অর্থের অভাবে কি থেমে যাবে নজরুলের চিকিৎসা?

নজরুলের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে এখন প্রয়োজন সবার মানবিক সহযোগিতা। সামর্থ্য অনুযায়ী একটু সহায়তাও তার পরিবারের কাছে হতে পারে অনেক বড় ভরসা।

সাহায্য পাঠানোর বিকাশ নম্বর: ০১৯২২৭৪৯৮২৬ (নজরুল)

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এক হাতে মাটি অন্য হাতে রং-তুলি, দম ফেলার ফুরসত নেই কনিকার
এক হাতে কাদামাটি, অন্য হাতে রংতুলি। সকাল থেকে রাত— দম ফেলার ফুরসত নেই কনিকা রানী পালের। দুর্গাপূজার মেলা সামনে রেখে মাটির খেলনা ও তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত তিনি। মেলার দোকানিরা আগেই দিয়েছেন পাইকারি অর্ডার। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে দিন-রাত কাজ করছেন কনিকা। কারণ, মাটির তৈরি এসব পণ্য বিক্রির আয়ই তার ছয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র ভরসা।
এক হাতে মাটি অন্য হাতে রং-তুলি, দম ফেলার ফুরসত নেই কনিকার
প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজার বরাদ্দ এবং ছুটি বাড়িয়েছেন: মীর হেলাল
প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজার বরাদ্দ এবং ছুটি বাড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল।
প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজার বরাদ্দ এবং ছুটি বাড়িয়েছেন: মীর হেলাল
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন / জীবন বাঁচাতে টয়লেটে আশ্রয়, সেখানেই ৪ জনের মৃত্যু
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় বাঁচতে টয়লেটে আশ্রয় ‍নিয়ে সেখানেই ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন।  তিনি জানান, রিসোর্টের টয়লেটের ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগুন থেকে বাঁচতে তারা টয়লেটে ঢুকে পানি ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি দেওয়ান ফয়সালের স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯)। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর সকাল ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয় বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে মোট নয়টি কক্ষ ছিল। শুক্রবার রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকেরা চেকআউট করে চলে যান। বাকি ছয়টি কক্ষে অবস্থান করছিলেন ১৬ জন পর্যটক। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন শনিবার সকালে বিভিন্ন কাজে রিসোর্টের বাইরে ছিলেন। আগুন লাগার পরপরই ভেতরে থাকা পর্যটকদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়। তবে রিসোর্টে অবস্থানরত সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রথম দিকে অনিশ্চয়তা ছিল। পরে একে একে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। আরটিভি/এসআর  
জীবন বাঁচাতে টয়লেটে আশ্রয়, সেখানেই ৪ জনের মৃত্যু
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ম্যানেজার
শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরিনড্রাইভ লাগোয়া রিসোর্টটিতে ভয়াবহ এই আগুনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন রিসোর্টটির ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমন।
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ম্যানেজার
জন্মের পর থেকে পূজা দেখেনি রামু সদ্দার পাড়ার শিশুরা!
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা সারা বাংলাদেশ। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের আওয়াজ আর আলোকসজ্জায় উৎসবের আমেজ ঘরে ঘরে। কিন্তু এই মহা-আনন্দের দিনেও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের রামু সদ্দার পাড়ায় চলছে নীরব হাহাকার। স্বাধীনতার এত বছর পরও এই পাড়ার বাসিন্দারা নিজেদের এলাকায় একটি স্থায়ী মন্দির পাননি। ফলে এখানকার শিশুদের জন্মের পর থেকে কখনোই নিজ গ্রামে পূজার আনন্দ উপভোগ করার সৌভাগ্য হয়নি। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব থেকে যুগের পর যুগ বঞ্চিত হয়ে আসছে পুরো এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলো।
জন্মের পর থেকে পূজা দেখেনি রামু সদ্দার পাড়ার শিশুরা!
আরও পড়ুন
পুরুষদেরও হতে পারে স্তন ক্যানসার, যেসব লক্ষণে হবেন সতর্ক
শরীরে যেসব লক্ষণ হতে পারে ক্যানসারের সতর্কসংকেত
অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, জানাল গবেষণা
ক্যানসারসহ ৭ রোগে আর্থিক সহায়তায় নতুন করে আবেদনের নির্দেশ