
রংপুরের বদরগঞ্জ রেলস্টেশনের কাছে ‘দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস’ নামক আন্তঃনগর ট্রেনের একটি বগির চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়েছে। এই দুর্ঘটনার ফলে পার্বতীপুর-রংপুর রুটে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা ট্রেনের চালক রফিকুল ইসলাম ও গার্ড বজলুল হককে মারধর করেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বদরগঞ্জ রেলস্টেশনের কাছে ১ নম্বর লাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী দোলনচাঁপা আন্তঃনগর ট্রেনটি সন্ধ্যার দিকে বদরগঞ্জ স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ চার নম্বর বগির মাঝামাঝি অংশের চারটি চাকা বিকট শব্দে লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এতে চলন্ত ট্রেনটি থেমে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় যাত্রীরা বাস, অটোসহ বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে রওনা হলেও দূরপাল্লার যাত্রীরা মালামাল নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
ট্রেনের পার্বতীপুরগামী যাত্রী ওবায়দুল হক ও মাজেদ আলী জানান, আউলিয়াগঞ্জ স্টেশন পার হওয়ার পর থেকেই ট্রেনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছিল। বদরগঞ্জ স্টেশনে ঢোকার মুখেই চার নম্বর বগিটি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরই ক্ষুব্ধ যাত্রীদের একটি অংশ ট্রেনের চালককে দায়ী করে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা চালক রফিকুল ইসলাম ও গার্ড বজলুল হককে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরিস্থিতি বেসামাল দেখে চালক রফিকুল ইসলাম জীবন বাঁচাতে ট্রেন থেকে নেমে স্থান ত্যাগ করেন।
এদিকে স্টেশনের আশপাশের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা দাবি করেছেন, রেললাইনের উপর কে বা কারা বাঁশ ও খড়ি রেখেছিল। সেই বাঁশ ও খড়ির স্তূপের ওপর দিয়েই ট্রেন চলে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
দুর্ঘটনার কারণ নিশ্চিত করে বদরগঞ্জ স্টেশন মাস্টার ইমরুল কায়েস বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রেললাইনের ওপর বাঁশ ও খড়ি রাখার কারণে ট্রেনটির বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পার্বতীপুর থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছালে এবং লাইন মেরামত সম্পন্ন হলে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হবে।
সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত বগি উদ্ধার ও লাইন সচল করতে প্রয়োজনীয় উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে


