
মাত্র ১৭ বছর বয়স। যে বয়সে দুরন্তপনায় মেতে ওঠার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলমাঠে সময় কাটানোর কথা— সেই বয়সে হাসপাতালের শয্যায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে বরিশালের জোবায়ের। শরীরে মরণব্যাধি ক্যানসার বাসা বাঁধায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এই তরুণের পুরো ভবিষ্যৎ। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা তো দূরের কথা, নিয়মিত ওষুধ ও কেমোথেরাপিটুকুও জোগাড় করতে পারছেন না তার অসহায় মা।
বরিশাল সদরের সারগাদী, টিয়াখলী রোড (২৩ নম্বর ওয়ার্ড) নিবাসী জোবায়েরের জীবনে নেমে আসা অন্ধকার শুরু হয়েছিল দুই বছর আগে। সে সময় এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাম পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। প্রাথমিক চিকিৎসা ও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে একপর্যায়ে তার পায়ে ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের পরামর্শে জীবন বাঁচাতে কেটে ফেলতে হয় পা। এরপর থেকে শুরু হয় একের পর এক শারীরিক জটিলতা ও নিদারুণ কষ্ট।
গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জোবায়েরের প্রথম অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এর প্রায় দুই মাস পর করাতে হয় দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার। কিন্তু তাতেও মুক্তি মিলল না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগ মুক্ত রাখতে এখন প্রতি ২৮ দিন পর নিয়মিত কেমোথেরাপি দেওয়া জরুরি। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এখন সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
জোবায়েরের মা জরিনা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, দুটি অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘদিন ধরে চলা চিকিৎসায় সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে পরিবারটি। এখন দৈনিক বা মাসিক খরচের পাশাপাশি নিয়মিত কেমোথেরাপির খরচ জোগাড় করার সামর্থ্য তাদের নেই। টাকার অভাবে সন্তানের চোখের সামনে তিলে তিলে নিভে যাওয়ার উপক্রম হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছেন না তিনি।
ছেলের চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন মা জরিনা আক্তার। একটুখানি মানবিক সহায়তা হয়ত ফিরিয়ে দিতে পারে ১৭ বছরের জোবায়েরের বেঁচে থাকার স্বপ্ন।
সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা:
বিকাশ ও নগদ নম্বর: 01923823549, 01302275598
আরটিভি/এমএইচজে


