
‘সকাল ১০টার মধ্যে টাকা না পাঠালে তোর ছেলেকে মেরে ফেলব। আর নির্ধারিত সময়ে টাকা না দেওয়ায় ফোনে বলা হয়েছে, তোর ছেলেকে বিক্রি করে দিয়েছি।’ এমন ফোনকল ও হুমকিতে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চারদিন ধরে নিখোঁজ অষ্টম শ্রেণির দুই স্কুলছাত্রের পরিবারের। পরিবারের দাবি, তাদের অপহরণ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে একটি চক্র। তবে পুলিশের ভাষ্য, তারা নিখোঁজ হয়েছে, উদ্ধারে কাজ চলছে।
নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী হলো- মোহাম্মদ আবু রায়হান ও মো. আনিসুর রহমান। দুজনেরই বয়স ১৩ বছর। তারা পুঁইছড়ি ইজ্জতিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাদের বাড়ি উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তোতকখালী এলাকায়। আবু রায়হান ওই এলাকার আবদুর রশিদের এবং আনিসুর রহমান আবদুর রহিমের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে একই এলাকার মোস্তাক আহমদের ছেলে মোহাম্মদ রিয়াদের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয় তারা। চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে রিয়াদ তাদের নিয়ে যায় বলে অভিযোগ স্বজনদের। পরে পুকুরিয়ার চন্দ্রপুর গ্রামে অবস্থিত ঝিনুক পোল্ট্রি ফার্মে কর্মচারী হিসেবে কাজ করার কথা জানা যায়। সেখান থেকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কোনো একটি চক্র তাদের অন্যত্র নিয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবারের সদস্যরা।
স্বজনদের দাবি, শুক্রবার ও শনিবার দুই শিক্ষার্থীকে পুকুরিয়া এলাকার চাঁদপুর বাজারে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন স্থানীয় কয়েকজন। পরে রোববার থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হওয়া রিয়াদের কাছে জানতে চাইলে সে দুই বন্ধুর অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানে না বলে জানায়।
নিখোঁজ আবু রায়হানের বাবা আবদুর রশিদ বলেন, ‘আমার ছেলেকে ফেরত দেওয়ার কথা বলে দুটি নম্বর থেকে ফোন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে টাকা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা। আমি তাদের বলেছি, আমরা গরিব মানুষ। এত টাকা জোগাড় করতে একটু সময় লাগবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পর ফোন করলে তারা বলে, সঠিক সময়ে টাকা দিস নাই, তোর ছেলেকে বিক্রি করে দিয়েছি। তারা নিজেদের কক্সবাজার থেকে ফোন করছে বলেও জানিয়েছে।’
এ বিষয়ে ঝিনুক পোল্ট্রি ফার্মের স্বত্বাধিকারী ও পুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমার ফার্মে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, পুলিশ তা পরিদর্শন করেছে। তারা আমার ফার্মে এসেছিল, কিন্তু চাকরিতে যোগ দেয়নি। তারা সেখান থেকে চলে গিয়েছিল।’
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। ছনুয়া থেকে তাদের অপহরণ করা হয়নি। তারা পুকুরিয়ার চেয়ারম্যানের ফার্মে কাজ করতে গিয়েছিল এবং সেখানে দুই দিন কাজও করেছে। পরে বাড়ি চলে যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে চলে যায়। এরপর আর ফিরে আসেনি। তাদের উদ্ধারে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ দাবির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ফেসবুকে নিখোঁজের সংবাদ দেখে একটি প্রতারকচক্র ফোন করে টাকা দাবি করছে। নম্বরগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, সেগুলো রংপুর ও ময়মনসিংহের ব্যক্তিদের। তারা মূলত প্রতারকচক্রের সদস্য।’
এদিকে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে বাঁশখালী থানায় গেলে পুলিশ তাকে দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান ও উদ্ধারে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেয়। সোমবার পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে তাদের খোঁজাখুঁজি করছিলেন।
একদিকে সন্তানদের অপহরণের আশঙ্কা, অন্যদিকে ফোনে মুক্তিপণ ও হত্যার হুমকি— সব মিলিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন দুই শিক্ষার্থীর স্বজনরা। নিখোঁজ দুই স্কুলছাত্রকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরটিভি/এমএইচজে


